একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের এক বছর পর আগামীকাল শনিবার আবার নৌকা ও ধানের শীষের লড়াই হবে রাজধানীতে। দলীয় প্রতীক নিয়ে ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন নির্বাচনে এই প্রথম মুখোমুখি হচ্ছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ও রাজপথের প্রধান বিরোধী দল বিএনপি। বহুল আলোচিত স্থানীয় সরকারের এই নির্বাচন নিয়ে উদ্বিগ্ন প্রধান দুটি দলই। বিদেশি পর্যবেক্ষকদের ভূমিকা ও বহিরাগতদের উপস্থিতি নিয়ে চিন্তিত আওয়ামী লীগ। বিপরীতে সুষ্ঠু নির্বাচন প্রশ্নে পাঁচ ইস্যুতে ভয় বিএনপির। নির্বাচন সুষ্ঠু করতে ভোটকেন্দ্র পাহারা দিতে নির্দেশ দিয়েছেন আওয়ামী লীগ নেতারা। আবার বিদেশি কূটনীতিকদের তৎপরতা নিয়ে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের ক্ষোভের মধ্যে গত রাতে ভোট নিয়ে যৌথ বিবৃতি দিয়েছেন ঢাকায় কর্মরত পশ্চিমা দেশগুলোর কূটনীতিকরা। তারা বলেছেন, এ শহরের গণতন্ত্রকে কার্যকর হিসেবে দেখার প্রত্যাশা করছেন।

আওয়ামী লীগ সূত্র জানায়, 'প্রশ্নবিদ্ধ' ২৪ জন বিদেশি পর্যবেক্ষক এবং ঢাকায় বহিরাগতদের রহস্যজনক উপস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ আছে দলে। এ অবস্থায় বহিরাগতদের ঠেকানোর জন্য ভোটকেন্দ্রে চেকপোস্ট বসানোর দাবি করেছে ক্ষমতাসীন দলটি। বিএনপি নেতাদের দাবি, আওয়ামী লীগ ত্রুটিপূর্ণ নির্বাচন করতে চায়। এ পরিস্থিতিতে ভোটের দিন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভূমিকা, বহিরাগত 'সশস্ত্র সন্ত্রাসী'র তৎপরতা, দলের নেতাকর্মী-সমর্থক ভোটারদের ভোটকেন্দ্রে আনা, ভোটকেন্দ্রে পোলিং এজেন্টদের শক্ত অবস্থান এবং ইভিএম পদ্ধতিতে ভোট নিয়ে শঙ্কিত বিএনপি। নির্বাচন কমিশন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করলে বিএনপির দুই মেয়র প্রার্থী বিপুল ভোটে বিজয়ী হবেন বলেও আশাবাদী দলের শীর্ষ নেতারা।

এদিকে, নির্বাচনে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সহযোগিতা করার জন্য দলের শীর্ষ নেতাদের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা। যে কোনো মূল্যে নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিত করারও নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।

এ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের দুই মেয়র প্রার্থী উত্তর সিটির আতিকুল ইসলাম ও দক্ষিণ সিটির ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপসও নির্বাচনে সুষ্ঠু পরিবেশ থাকা নিয়ে আশঙ্কা ব্যক্ত করেছেন। সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রাখতে নির্বাচন কমিশন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতি অনুরোধও জানিয়েছেন তারা।

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের ঢাকার নির্বাচন অবাধ ও নিরপেক্ষ হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করে সমকালকে বলেছেন, এ নির্বাচনে ভোটাররা আওয়ামী লীগের প্রতি আস্থা রাখবে। আওয়ামী লীগের দুই মেয়র প্রার্থীই ভোটারদের বিপুল সমর্থন নিয়ে বিজয়ী হবেন। একই রকমের আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন দলের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও কৃষিমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাকও।

নির্বাচন কমিশনের বরাত দিয়ে আওয়ামী লীগের কয়েকজন নীতিনির্ধারক নেতা সমকালকে জানিয়েছেন, নির্বাচন পর্যবেক্ষণের জন্য ৭৬ বিদেশি পর্যবেক্ষক ঢাকায় রয়েছেন। তাদের মধ্যে ৫২ জন বিদেশের নাগরিক। বাকি ২৪ জন বাংলাদেশে অবস্থিত বিভিন্ন দেশের দূতাবাসে কাজ করছেন, যারা বাংলাদেশের নাগরিক। তাদের বিদেশি পর্যবেক্ষক হিসেবে কীভাবে নির্বাচন কমিশন থেকে স্বীকৃতি দেওয়া হলো, সেটা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন আওয়ামী লীগের নেতারা।

আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতারা আরও বলেছেন, ঢাকায় অবস্থিত বিভিন্ন দূতাবাস তাদের কিছু স্থানীয় কর্মকর্তাকে ঢাকা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে বিদেশি পর্যবেক্ষক হিসেবে অন্তর্ভুক্তির জন্য নির্বাচন কমিশনে আবেদন করেছিল। দূতাবাসগুলো থেকে তাদের নামের তালিকা নির্বাচন কমিশনে পাঠানোর পর কমিশন অনুমোদনও দিয়েছে। অথচ শুধু বিদেশি নাগরিকদেরই বিদেশি পর্যবেক্ষক হিসেবে রাখার বিধান রয়েছে। কোনো স্থানীয় প্রতিনিধিকে বিদেশি পর্যবেক্ষক হিসেবে রাখার কোনো সুযোগ নেই। এরপরও নির্বাচন কমিশন বিষয়টির আইনগত দিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা ছাড়াই দূতাবাসগুলোর ওইসব কর্মকর্তাকে (বাংলাদেশি নাগরিক) বিদেশি পর্যবেক্ষক হিসেবে অনুমোদন করেছে। এটা সম্পূর্ণভাবে আইনের লঙ্ঘন। নেতারা আরও বলেছেন, বাংলাদেশে অবস্থিত বিদেশি দূতাবাসগুলো জাতীয় ও আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করে নিজেদের স্থানীয় কর্মকর্তাদের এভাবে আন্তর্জাতিক নির্বাচন পর্যবেক্ষক হিসেবে উপস্থাপন করেছে। এটা কেবল বেআইনিই নয়, অত্যন্ত দুঃখজনকও।

এদিকে ওই ২৪ জন বিদেশি পর্যবেক্ষকের বিষয়ে আপত্তির কথা আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচন কমিশনকে জানিয়েছে আওয়ামী লীগ। প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা এইচ টি ইমামের নেতৃত্বাধীন দলের একটি প্রতিনিধি দল গতকাল নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ে গিয়ে বিষয়টি অবহিত করে। তারা নির্বাচন কমিশনকে আরও জানিয়েছেন, বাংলাদেশে কর্মরত বিদেশি কূটনীতিকদের কেউ কেউ তাদের দায়িত্ব পালনের বেলায় যেখানে যাওয়ার নয়, সেখানেই যাচ্ছেন। নির্বাচন নিয়ে যা বলার নয়, তাই বলছেন।

বাংলাদেশে নিযুক্ত যুক্তরাজ্যের হাইকমিশনার রবার্ট ডিকসন ও যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত রবার্ট মিলারসহ বেশ কয়েকজন বিদেশি কূটনীতিক ঢাকা সিটি করপোরেশন নির্বাচন নিয়ে নানামুখী তৎপরতা চালাচ্ছেন। তাদের কেউ কেউ বিএনপি প্রার্থীদের সঙ্গে নানাভাবে যোগাযোগ রাখছেন বলেও আওয়ামী লীগের অভিযোগ।

গতকাল নির্বাচন কমিশনে যাওয়া আওয়ামী লীগ প্রতিনিধি দলের সদস্য ও দলের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর কবির নানক সমকালকে বলেন, বিদেশি পর্যবেক্ষক নিয়ে আওয়ামী লীগের কোনো আপত্তি নেই। তবে নির্বাচন কমিশনের বিধিবিধানের বাইরে যেন অন্য কেউ বিদেশি পর্যবেক্ষক হিসেবে মনোনীত না হন, সেটাও নির্বাচন কমিশনকে বলে এসেছেন তারা। অর্থাৎ দেশের সংবিধান ও নির্বাচন কমিশনের বিধান মেনেই বিদেশি পর্যবেক্ষকদের দায়িত্ব পালন করা উচিত।

এদিকে সিটি করপোরেশন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে গত কয়েক দিন রাজধানীর বাইরে থেকে বিএনপি ও জামায়াতের নেতাকর্মীদের ঢাকায় এনে জড়ো করা হচ্ছে বলেও আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা দাবি করছেন। এ বিষয়টি তারা নির্বাচন কমিশনকেও অবহিত করেছেন বলে জানান নানক। তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশনকে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সিটি করপোরেশন নির্বাচনে পরাজয় নিশ্চিত জেনে বিএনপি নির্বাচনে গোলযোগ সৃষ্টির পাঁয়তারা করছে, নানা ষড়যন্ত্র করছে। এ ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবেই সারাদেশ থেকে বিএনপি-জামায়াতের কর্মীদের ঢাকায় এনে জড়ো করা হচ্ছে।

জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর আরেক সদস্য আবদুর রহমান বলেছেন, চিহ্নিত সন্ত্রাসী এসব বহিরাগতকে ঠেকাতে ভোটকেন্দ্রে চেকপোস্ট বসানোর জন্যও নির্বাচন কমিশনের প্রতি দাবি জানিয়েছেন তারা। ভোটকেন্দ্রগুলোতে ভোটার উপস্থিতি বাড়ানো এবং ভোট দেওয়ার পরিবেশ বজায় রাখার স্বার্থেই এটা জরুরি। এক্ষেত্রে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা নির্বাচন কমিশনকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করবেন বলেও জানান তিনি।

ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এস এম মান্নান কচি বলেছেন, নির্বাচনে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখার জন্য দলের নেতাকর্মীদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হুমায়ুন কবির বলেছেন, কেন্দ্রে কেন্দ্রে সতর্ক দৃষ্টি রাখার জন্য নেতাকর্মীদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এদিকে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন নির্বাচনের সব প্রস্তুতি শেষ করে এনেছেন। গতকাল নির্বাচনী প্রচারের শেষ দিনে দলীয় দুই মেয়র প্রার্থীর পক্ষে রাজধানীতে গণমিছিল ও শোডাউনও করেছেন। আওয়ামী লীগের নেতাদের দাবি, জনপ্রিয়তা ও যোগ্যতার বিচারে ক্ষমতাসীন দলের দুই মেয়র প্রার্থী বিএনপির মেয়র প্রার্থীদের তুলনায় বেশ এগিয়ে রয়েছেন। তাদের কোনো বদনাম নেই। নির্বাচনী প্রচারের সময় তাদের পক্ষে ব্যাপক গণজোয়ারও দেখা গেছে। এ অবস্থায় ভোটের দিন ভোটকেন্দ্রে ভোটারের উপস্থিতি বাড়ানোর তাগিদ দিয়েছেন তারা। তবে বিদ্রোহী কাউন্সিলর প্রার্থীরা নির্বাচনকে ঘিরে কিছুটা বিব্রতকর পরিস্থিতি তৈরি করতে পারেন বলেও আশঙ্কায় রয়েছেন আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা। মেয়র পদে ভোটে এর কিছুটা প্রভাব পড়তে পারে।

পাঁচ ইস্যুতে ভয় বিএনপির :ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু হওয়া নিয়ে উদ্বিগ্ন বিএনপি। বিচ্ছিন্ন দু-একটি ঘটনা ছাড়া বাধাহীন জমজমাট প্রচার-প্রচারণা চালালেও শেষমুহূর্তে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভূমিকায় শঙ্কিত দলটি। আগামীকালের নির্বাচন নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি ইস্যুতে ভয় রাজনীতির মাঠে কোণঠাসা বিএনপির। গতকাল রাতে দলের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম জাতীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকে বিদেশি পর্যবেক্ষক নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা এইচ টি ইমামের বক্তব্য গ্রহণযোগ্য নয় বলে জানিয়েছে বিএনপি। বৈঠক শেষে জানানো হয়, এ ধরনের বক্তব্য প্রমাণ করে যে, সরকার একটি ত্রুটিপূর্ণ নির্বাচন করার উদ্দেশ্য নিয়ে সব কাজ করছে। এ জন্য তারা কোনো পর্যবেক্ষক রাখতে চাচ্ছে না।

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর গতকাল সমকালকে বলেন, নির্বাচন অবাধ ও নিরপেক্ষ হওয়ার আলামত দেখছেন না তারা। ইতোমধ্যে বিএনপি নেতাকর্মীদের বাড়িতে বাড়িতে অভিযান, গ্রেপ্তার-হামলা-মামলা, হুমকি-ধমকি শুরু হয়েছে। নির্বাচনের দিন কেন্দ্র দখলে রাখতে মন্ত্রী ও নেতারা নির্দেশনা দিচ্ছেন। নির্বাচন কমিশনের আচরণবিধি লঙ্ঘন করে সোহরাওয়ার্দীতে বিশাল সমাবেশ করেছে আওয়ামী লীগ। বিএনপির নেতাকর্মীদের প্রতিরোধের আহ্বান জানাচ্ছেন তারা। তারপরও আমরা ভোটারদের আহ্বান জানাই আসুন, সব বাধাবিপত্তি উপেক্ষা করে ভোটকেন্দ্রে এসে ধানের শীষ প্রতীকে ভোট দিয়ে গণতন্ত্র বিজয়ের সূচনা করুন।

বিএনপি নেতাদের দাবি, নির্বাচনী প্রচারে তাদের দুই মেয়র প্রার্থী উত্তরে তাবিথ আউয়াল ও দক্ষিণে ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেন বেশ জোয়ার তুলতে পেরেছেন। তরুণ ও উচ্চশিক্ষিত দুই প্রার্থীর পক্ষে দল ও ঢাকাবাসীর ব্যাপক সমর্থন লক্ষ্য করা গেছে। বিশেষ করে ২০১৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জনগণ ভোট দিতে না পেরে ক্ষুব্ধ ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের ওপর। গণতন্ত্রহীন অবস্থা দুর্নীতি ও ঢাকাকে মুক্ত করতে ঐক্যবদ্ধ হয়েছেন নগরবাসী। অবশ্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ভূমিকার ওপর নির্ভর করছে বিএনপির মেয়র প্রার্থীদের জয়-পরাজয়। নির্বাচন কমিশন তথা প্রশাসন নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন না করলে এবারের নির্বাচনও একাদশ সংসদের মতো একতরফা হবে।

বিএনপি নেতাদের দাবি, নির্বাচনের একদিন বাকি থাকতেই আইনশৃঙ্খল বাহিনী বিএনপির নেতাকর্মী ও এজেন্টদের বাড়িতে অভিযান শুরু করেছে। এতে বিএনপি নেতাকর্মীরা কিছুটা ভীত হয়ে পড়েছেন। এ পরিস্থিতিতে ভোটকেন্দ্রে এজেন্ট দেওয়া এবং এজেন্টদের কেন্দ্রে উপস্থিত নিশ্চিত করাই বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে দলটির। কেন্দ্রে এজেন্ট সারাদিন শক্ত অবস্থান নিয়ে না থাকলে সুষ্ঠু ভোটের পরিবর্তে একতরফা ভোট হয়ে যেতে পারে। একই সঙ্গে ভোটারদের উপস্থিতিও কমে যেতে পারে। এ বিষয়ে দল সমর্থক ও সাধারণ ভোটারদের কেন্দ্রে নেওয়ার ব্যাপারে ওয়ার্ড ও ইউনিট নেতাদের নির্দেশনা পাঠিয়েছে বিএনপি।

সূত্র আরও জানায়, বহিরাগত সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের ঢাকায় আনার খবরেও বিএনপির নেতাকর্মীরা চিন্তিত। একদিকে প্রশাসন বিএনপি নেতাকর্মীদের বাড়িতে অভিযান চালাচ্ছে, অন্যদিকে ক্ষমতাসীন দলের বহিরাগতরা কেন্দ্রে অবস্থান করলে সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব হবে না।

বিএনপি নেতারা বলছেন, ইভিএমে ভোট গ্রহণই বিএনপির বড় চিন্তার বিষয়। ইভিএমে একই ব্যক্তি ৩-৪ কেন্দ্রে ভোট দিলেও তা ধরার কোনো উপায় নেই। এমনকি গতকাল বৃহস্পতিবার ইভিএম মেশিনে মক ভোট প্রদর্শনকালেও একই ব্যক্তি একাধিক কেন্দ্রে ভোট দিয়েছেন। ভোটের দিনও এই ব্যক্তি একাধিকবার ভোট দেবে বলে তাদের আশঙ্কা। পাশাপাশি সফটওয়্যারে ধানের শীষের ভোট নৌকা প্রতীকে দেখানোও সম্ভব।

ঢাকা দক্ষিণ সিটিতে বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির আহ্বায়ক ও দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন সমকালকে বলেন, নির্বাচনের প্রচারেই বোঝা গেছে কারা বিজয়ী হবেন। বিএনপি নেতাকর্মীদের ভয়ভীতি দেখিয়ে ইভিএমে কারচুপির মাধ্যমে তারা বিজয় ছিনিয়ে নেওয়ার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে। সরকার ও নির্বাচন কমিশনের প্রতি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে তিনি বলেন, একাদশ সংসদ নির্বাচনের মতো জনগণের ভোটাধিকার হরণ করলে এবার চড়া মাসুল দিতে হবে।

ঢাকা উত্তর সিটিতে বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির আহ্বায়ক ও দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ সমকালকে বলেন, বিএনপি প্রার্থীদের পক্ষে যে জোয়ার উঠেছে, তাতে সুষ্ঠু ভোট হলে আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা ধারেকাছেও আসতে পারবে না। প্রশাসন পক্ষপাতমূলক আচরণ ও ষড়যন্ত্র না করলে দুটি সিটিতে বিপুল ভোটে বিএনপির প্রার্থীরা বিজয়ী হবেন। এতদিন বিএনপি নেতাকর্মীরা উৎসাহ-উদ্দীপনা নিয়ে প্রচার চালিয়েছিল। তবে শেষ মুহূর্তে আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতাদের কেন্দ্র নিয়ন্ত্রণ করার বক্তব্যে বিএনপি নেতাকর্মীরা ভীতসন্ত্রস্ত। এ বিষয়ে তিনি নির্বাচন কমিশনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।

বিএনপির নীতিনির্ধারকরা মনে করছেন, 'কারচুপি'র মাধ্যমে জয় ছিনিয়ে নিলে সরকারেরই লোকসান হবে। ইতোমধ্যে বিদেশি কূটনীতিক ও পর্যবেক্ষকরাও অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের তাগিদ দিয়েছেন। কাজেই নির্বাচনে বিজয়ী হলেও বিএনপির লাভ আর হারলেও লাভ। বিএনপি প্রার্থীরা হারলে সরকার কারচুপির মাধ্যমে বিজয় ছিনিয়ে নিয়েছে বলে দেশবাসী মনে করবে। এতে দেশে ও বিদেশে সরকার আবারও সমালোচিত হবে। পাশাপাশি আবারও প্রমাণ হবে, এই সরকার ও নির্বাচন কমিশনের অধীনে দেশে কোনো অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয়। নির্দলীয় সরকারের অধীনে বিএনপির জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দাবির যৌক্তিকতা আবারও প্রমাণিত হবে। এ দাবিতে বিএনপির চলমান আন্দোলন আরও জোরদার হবে বলে মনে করেন তারা।

বিষয় : দুই দলেই উদ্বেগ-দুশ্চিন্তা

মন্তব্য করুন