আগামী ৩০ জানুয়ারি সরস্বতী পূজার দিনে ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন আয়োজনের বিরোধিতা করেছে বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টা্ন ঐক্য পরিষদ। সংগঠনটি বলেছে, সরস্বতী পূজার দিনে ঢাকা সিটি করপোরেশনের নির্বাচন আপামর সংখ্যালঘু সম্প্রদায় মেনে নেয়নি এবং মানবে না। 

শুক্রবার রাজধানীর পুরানা পল্টন লাইনের পল্টন টাওয়ারে হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটি ও উপদেষ্টামণ্ডলীর যৌথ বর্ধিত সভায় এ কথা বলা হয়।

দু’পর্বে অনুষ্ঠিত বর্ধিত সভায় সভাপতিত্ব করেন সাবেক সংসদ সদস্য ঊষাতন তালুকদার ও সাবেক রাষ্ট্রদূত ড. নিম চন্দ্র ভৌমিক। সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট রানা দাশগুপ্ত সাংগঠনিক প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন। অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন অ্যাডভোকেট গ্লোরিয়া ঝর্ণা সরকার এমপি, সাংবাদিক স্বপন কুমার সাহা, অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী, কাজল দেবনাথ, নির্মল রোজারিও, মনীন্দ্র কুমার নাথ, নির্মল চ্যাটার্জী, অ্যাডভোকেট তাপস পাল, অ্যাডভোকেট শ্যামল রায়, অ্যাডভোকেট কিশোর মন্ডল প্রমুখ।

সভায় নির্বাচন কমিশন সচিবের দেওয়া ৩০ জানুয়ারি একই ভোটকেন্দ্রের এক কক্ষে নির্বাচন ও আরেক কক্ষে পূজানুষ্ঠান এবং পূজার জন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বিভক্তকরণের প্রস্তাবকে পূজার্থী জনগণের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত আখ্যা দিয়ে তা প্রত্যাখ্যান করা হয়। বলা হয়, নির্বাচন কমিশন সচিবের এই প্রস্তাব বাস্তবতাবিবর্জিত ও অবান্তর। এহেন ধর্মীয় অনুভূতি ক্ষুণ্নকারী বক্তব্য প্রদানের জন্যে অনতিবিলম্বে নির্বাচন কমিশন সচিবকে তার পদ থেকে অপসারণ করতে হবে।

সভায় সরস্বতী পূজার দিনে নির্বাচনের বিরোধিতায় দেশব্যাপী আন্দোলন গড়ে তোলার সিদ্ধান্ত হয়। আন্দোলনের সূচনায় সংখ্যালঘু ঐক্য মোর্চাভুক্ত সব সংগঠনকে নিয়ে ঢাকাসহ সারাদেশে আগামী ২০ জানুয়ারি বিকেল ৪টা থেকে ৫টা পর্যন্ত মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিলের কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়। একই দাবিতে ঢাকাসহ সারাদেশে ৩০ জানুয়ারির আগ পর্যন্ত মানববন্ধন, বিক্ষোভ মিছিল, অবস্থান ধর্মঘট, প্রতীকী অনশন ও অবরোধ কর্মসূচিসহ নানা কর্মসূচির মাধ্যমে নিয়মতান্ত্রিক গণতান্ত্রিক পন্থায় সংবিধান সমুন্নত রাখার আন্দোলন এগিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়।

সভায় পূজা উপলক্ষে ঢাকা সিটি নির্বাচনের তারিখ পুনর্নির্ধারনের দাবিতে ডাকসু, জগন্নাথ হল ছাত্র সংসদ ও সাধারণ ছাত্রসমাজের ন্যায়সংগত আন্দোলনের সঙ্গে সংহতি জানিয়ে বলা হয়, বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় এ আন্দোলন একটি মাইলফলক হিসেবে কাজ করবে।

সভার আরেক প্রস্তাবে নির্বাচনের তারিখ পুনর্নির্ধারণের জন্যে ঢাকা দক্ষিণ ও উত্তরের মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী দল আওয়ামী লীগ ও বিএনপির চার মেয়র প্রার্থী এবং ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণের রিটার্নিং কর্মকর্তারা নির্বাচন কমিশনের কাছে দাবি উত্থাপন করায় তাদের প্রতি ধন্যবাদ জ্ঞাপন করা হয়।