পরিচ্ছন্ন চট্টগ্রাম গড়তে চান দুই মেয়র প্রার্থীই

চসিক নির্বাচন

প্রকাশ: ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২০       প্রিন্ট সংস্করণ

তৌফিকুল ইসলাম বাবর, চট্টগ্রাম

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক) নির্বাচনে 'ভোটযুদ্ধ' হবে আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী রেজাউল করিম চৌধুরী ও বিএনপির ডা. শাহাদাত হোসেনের মধ্যে। আগেই আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে রেজাউলের নাম ঘোষণা করা হয়েছিল। সোমবার রাতে বিএনপির দলীয় প্রার্থী চূড়ান্ত হন শাহাদাত। ভোটের মূল লড়াই হবে এ দু'জনের মধ্যেই। নৌকা ও ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে ভোটের দ্বৈরথে নামা দু'দলের দুই মেয়র প্রার্থীরই লক্ষ্য হচ্ছে চট্টগ্রামকে পরিচ্ছন্ন নগরী হিসেবে গড়ে তোলা।
দলের প্রতীক নিয়ে প্রথমবারের মতো নির্বাচন করতে যাচ্ছেন প্রবীণ আওয়ামী লীগ নেতা রেজাউল করিম চৌধুরী। আর এক বছর পর দ্বিতীয়বারের মতো ভোটের মাঠে নামছেন বিএনপি নেতা ডা. শাহাদাত হোসেন। এর আগে চট্টগ্রাম-৮ (কোতোয়ালি-বাকলিয়া) আসন থেকে গত সংসদ নির্বাচনে অংশ নিয়েছিলেন তিনি। তবে একটি দিক দিয়ে বেশ মিল রয়েছে দু'জনের মধ্যে। সেটি হলো, চট্টগ্রামের রাজনীতিতে সজ্জন ও পরিচ্ছন্ন ইমেজের হিসেবে পরিচিত তারা। এ কারণে সংশ্নিষ্টরা মনে করছেন, জমজমাট লড়াই হলেও ব্যক্তিগত পর্যায়ে কাদা ছোড়াছুড়ি খুব একটা হবে না এবারের নির্বাচনে।
মেয়র পদে মনোনয়ন পাওয়ার পর দুই প্রার্থীই বন্দরনগরী চট্টগ্রাম নিয়ে নিজেদের পরিকল্পনার কথা জানান সমকালকে। নৌকা প্রতীকের প্রার্থী চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রেজাউল করিম চৌধুরী জানিয়েছেন, নির্বাচিত হলে চট্টগ্রামকে পরিকল্পিত ও গোছানো নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে কাজ করবেন তিনি। আর ধানের শীষ প্রতীকের চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সভাপতি ডা. শাহাদাত হোসেন বলেছেন, নির্বাচিত হলে দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম আধুনিক পর্যটন নগরী হিসেবে চট্টগ্রামকে গড়ে তুলবেন তিনি। দুই প্রার্থী দুই মেরুর হলেও চট্টগ্রাম নিয়ে তাদের চিন্তাভাবনা প্রায় অভিন্ন। চট্টগ্রামকে পরিচ্ছন্ন ও সুন্দর শহর হিসেবে গড়ে তুলতে চান তারা।
গত ১৫ ফেব্রুয়ারি রেজাউল করিমকে প্রার্থী করে বড় ধরনের চমক দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বর্তমান মেয়র ও নগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আ জ ম নাছির উদ্দীন, সাবেক মন্ত্রী ও নগর আওয়ামী লীগের সহসভাপতি নুরুল ইসলাম বিএসসি ও চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের সাবেক চেয়ারম্যান আবদুচ ছালামের মতো হেভিওয়েট প্রার্থী থাকলেও মনোনয়ন পেয়ে যান রেজাউল। দলের মনোনয়নপ্রত্যাশী ২০ নেতার মধ্যে অপেক্ষাকৃত কম আলোচনায় ছিলেন তিনি। অন্যদিকে বিএনপির প্রার্থী তালিকা ছিল ছোট। দলের ছয় নেতা মনোনয়ন চাইলেও বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ নীতিনির্ধারকরা আস্থা রেখেছেন ডা. শাহাদাতের ওপরই। অবশ্য তিনি যে দলের মনোনয়ন পেতে যাচ্ছেন, এটা আগে থেকেই আন্দাজ করতে পেরেছিলেন বিএনপি নেতাকর্মীরা। সোমবার রাতে আনুষ্ঠানিকভাবে তার নাম ঘোষণার পর উচ্ছ্বাসে মেতে ওঠেন তারা। বিএনপি থেকে মনোনয়ন চাওয়া অন্য পাঁচ নেতা ছিলেন নগর বিএনপির সাবেক যুগ্ম সম্পাদক ও গার্মেন্ট ব্যবসায়ী এরশাদউল্লাহ, সহসভাপতি নিয়াজ মোহাম্মদ খান, সৈয়দ আজম উদ্দিন ও নগর বিএনপির মহিলাবিষয়ক সহ-সম্পাদিকা ডা. লুসি খান।
এদিকে আসন্ন চসিক নির্বাচন সামনে রেখে ইতোমধ্যে নানামুখী প্রস্তুতি শুরু করে দিয়েছেন দুই মেয়র প্রার্থী রেজাউল করিম চৌধুরী ও ডা. শাহাদাত হোসেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মনোনীত প্রার্থী রেজাউলকে জয়ী করতে মরিয়া হয়ে মাঠে নেমেছেন চট্টগ্রামের আওয়ামী লীগের সর্বস্তরের নেতাকর্মীরা। নির্বাচন সমন্বয়ের দায়িত্ব পাওয়ার পর দলটির সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেনের নেতৃত্বে চলছে নানামুখী কার্যক্রম। ইতোমধ্যে চট্টগ্রামের শীর্ষস্থানীয় নেতাদের নিয়ে গত রোববার তিনি বৈঠকও করেছেন। এতে রেজাউল করিমকে জিতিয়ে আনতে সব ধরনের কোন্দল ও ভেদাভেদ ভুলে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার বিষয়ে একমত হন তারা। এ ছাড়া আওয়ামী লীগের বিভিন্ন অঙ্গ ও ভ্রাতৃপ্রতিম দলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে আলাদাভাবে মতবিনিময় করছেন রেজাউল করিম। তাকে ঘিরে এক ধরনের চাঙ্গাভাব তৈরি হয়েছে দলটিতে।
৬৭ বছর বয়সী রেজাউল করিম চৌধুরী সমকালকে বলেন, 'আমি নির্বাচনে নতুন হলেও দলে নতুন নই। ছাত্রজীবনেই মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়েছি। দলের জন্য কাজ করেছি। না পাওয়ার বেদনা থেকে কখনও আমি বঙ্গবন্ধুর আদর্শচ্যুত হইনি। এ কারণে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আমাকে দলের মনোনয়ন দিয়েছেন। আমি তার আস্থার প্রতিদান দিতে চাই। ভোটারদের ওপর আমার আস্থা রয়েছে। এ ছাড়া দলের নেতাকর্মীরা নৌকার জয়ে কাজ করতে ঐক্যবদ্ধ হয়েছেন। আশা করি এগুলো বৃথা যাবে না।'
শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল বলেন, রেজাউল করিম চৌধুরী আওয়ামী লীগের একজন পরীক্ষিত নেতা। প্রধানমন্ত্রী তাকে দলের মনোনয়ন দিয়ে নৌকা প্রতীক দিয়েছেন। দলের সব নেতাকর্মী তাকে ভালোভাবে গ্রহণ করেছেন। তাকে জিতিয়ে আনতে আমরা সবাই ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করব।
অন্যদিকে, বসে নেই বিএনপিও। গত সংসদ নির্বাচনে পরাজয়ের পর থেকে সিটি নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রস্তুতি নিতে থাকেন বিএনপি নেতা ডা. শাহাদাত হোসেন। তৃণমূল পর্যায়ে দল গোছানোর পাশাপাশি বিভিন্ন সামাজিক কর্মকাণ্ডে নিজেকে আরও বেশি সম্পৃক্ত করেন তিনি। রাজনীতির বাইরেও সজ্জন হিসেবে বেশ জনপ্রিয়তাও রয়েছে তার। দলের মনোনয়ন পাওয়ার পর এখন এসব অনুষঙ্গ তাকে নির্বাচনী মাঠে এগিয়ে নিতে সহায়ক ভূমিকা রাখছে।
এ ব্যাপারে ৫৫ বছর বয়সী ডা. শাহাদাত সমকালকে বলেন, 'নির্বাচনের ওপর মানুষের আস্থা নেই। সরকার দিনের ভোট রাতে নিয়ে ফেলছে। আবার ইভিএম নিয়েও কারচুপি করছে। তারপরও বিএনপি বিশ্বাস করে, ক্ষমতা পরিবর্তনে একমাত্র মাধ্যম হচ্ছে নির্বাচন। গণতন্ত্রের স্বার্থে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে বিএনপি। চট্টগ্রাম সিটি নির্বাচনকে ঘিরে যেভাবে গণজোয়ার তৈরি হচ্ছে, তাতে এবার কোনো ধরনের কারচুপির চেষ্টা করা হলে জনগণই তার সমুচিত জবাব দেবে।'