চসিকে আচরণবিধি ভেঙে ফরম জমা আ'লীগ-বিএনপির মেয়র প্রার্থীর

প্রকাশ: ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২০   

চট্টগ্রাম ব্যুরো

বৃহস্পতিবার চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে মনোনয়নপত্র জমা দেন আওয়ামী লীগ ও বিএনপির দুই মেয়র প্রার্থী। ছবি: সমকাল

বৃহস্পতিবার চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে মনোনয়নপত্র জমা দেন আওয়ামী লীগ ও বিএনপির দুই মেয়র প্রার্থী। ছবি: সমকাল

আচরণবিধি ভঙ্গ করেই চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে মনোনয়নপত্র জমা দিলেন আওয়ামী লীগ ও বিএনপির দুই মেয়র প্রার্থী। বিশাল নেতাকর্মীর বহর নিয়ে রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে গিয়ে মনোনয়নপত্র জমা দেন উভয়েই। বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মীও আসেন তাদের সঙ্গে। 

তবে নির্বাচন কমিশন কার্যালয়ে ঢোকার পথেই তাদের আটকে দিলেও মহানগর বিএনপি ও আওয়ামী লীগ নেতাদের বাধা দিতে দেখা যায়নি পুলিশকে। মেয়রদের ক্ষেত্রে শিথিলতা দেখালেও কাউন্সিলর ও সংরক্ষিত কাউন্সিলর প্রার্থীদের মনোনয়ন ফরম জমা দেওয়ার ক্ষেত্রে পাঁচজনের বেশি কোনো সমর্থককে কাউন্সিলর প্রার্থীদের সঙ্গে কমিশন অফিসে ঢুকতে দেওয়া হয়নি। সারাদিনই বিপুলসংখ্যক পুলিশ কড়া নিরাপত্তার মধ্যে ঘিরে রেখেছিল নির্বাচন কমিশন কার্যালয়।

দুপুর পৌনে ১২টার দিকে আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী রেজাউল করিম চৌধুরী প্রথমে চট্টগ্রাম সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন, চট্টগ্রাম জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এমএ সালাম, মহানগর আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মাহতাব উদ্দিন চৌধুরী, সহসভাপতি খোরশেদ আলম সুজন ও আলতাফ হোসেন বাচ্চু, দক্ষিণ জেলার সাধারণ সম্পাদক মফিজুর রহমান, মহানগর কমিটির অর্থ সম্পাদক সিডিএর সাবেক চেয়ারম্যান আবদুচ ছালাম, সাংগঠনিক সম্পাদক শফিক আদনান, নোমান আল মাহমুদ, আইনবিষয়ক সম্পাদক ইফতেখার সাইমুল চৌধুরী, মহানগর যুবলীগের আহ্বায়ক মহিউদ্দিন বাচ্চুসহ বিশাল বহর সঙ্গে নিয়ে রিটার্নিং কর্মকর্তা ও আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা মো. হাসানুজ্জামানের কাছে মেয়র পদে মনোনয়ন ফরম জমা দেন। ফরম জমা দিয়ে এসে নির্বাচন কমিশন কার্যালয়ের নিচে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন মেয়র প্রার্থী রেজাউল করিম চৌধুরী।

তিনি বলেন, 'আমি আচরণবিধি ভঙ্গ করিনি। বেশ কয়েকজন নেতাকর্মী নিয়েই ফরম জমা দিয়েছি। অনেক নেতাকর্মী কাউন্সিলর প্রার্থীর সঙ্গে এসেছিলেন। তারা আমাকে দেখে আমার সঙ্গে এসে যোগ দিয়েছেন। তাই মানুষ বেশি হয়ে গেছে।'

বিজয়ী হওয়ার ব্যাপারে আশাবাদী রেজাউল করিম চৌধুরী বলেন, 'আমি দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক ও আঞ্চলিক বিষয় নিয়ে আন্দোলন-সংগ্রাম করেছি। ১৯৮৩ সালে নাগরিক ফোরাম করে চাক্তাই খাল নিয়ে আন্দোলনও করেছি। জনগণের ওপর আমার আস্থা আছে।' চট্টগ্রামকে পরিকল্পিত পর্যটন নগরী গড়ে তুলবেন জানিয়ে তিনি বলেন, '১৭ বছর এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরী চট্টগ্রামের মেয়র ছিলেন। তিনি মানুষের জন্য কাজ করেছেন। মাঝখানে একটু ছন্দপতন হলেও বর্তমান মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন গত পাঁচ বছর যেসব উন্নয়ন প্রকল্প চলমান রেখেছেন। তা বেগবান করব। একই সঙ্গে বিপন্ন কর্ণফুলীকে রক্ষা করব। বিশেষজ্ঞ, পরিকল্পনাবিদ, চিকিৎসক, আইনজীবী, সাংবাদিকদের পরামর্শ নিয়ে চট্টগ্রাম আধুনিক পর্যটন নগরী হিসেবে চট্টগ্রামকে গড়ে তোলাই হবে আমার প্রধান কাজ।' 

জলাবদ্ধতা নিরসন করা নিয়ে তিনি বলেন, 'জলাবদ্ধতা নিরসনে চলমান কাজ সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হলে অনেকাংশেই জলাবদ্ধতার হাত থেকে রক্ষা পাবে জনগণ। জলাবদ্ধতা থেকে মানুষকে পরিত্রাণ দিতে চাই।'

অন্যদিকে দুপুর ২টার দিকে নির্বাচন কমিশনে মনোনয়ন ফরম জমা দিতে যান বিএনপির মনোনীত মেয়র প্রার্থী ডা. শাহাদাত হোসেন। তিনিও তার সঙ্গে বিশাল নেতাকর্মীর বহর নিয়ে কমিশনে যান। ফরম জমা দেওয়ার সময় তার সঙ্গে ছিলেন দক্ষিণ জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি জাফরুল ইসলাম চৌধুরী, কেন্দ্রীয় বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুবুর রহমান শামীম, দক্ষিণ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ও মহানগর বিএনপির সিনিয়র সহসভাপতি আবু সুফিয়ান, মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবুল হাশেম বক্কর, সাংগঠনিক সম্পাদক মঞ্জুরুল আলম মঞ্জু, উত্তর জেলা বিএনপি নেতা ইঞ্জিনিয়ার বেলায়েত হোসেনসহ বিএনপির নেতাকর্মীরা।

ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, 'আমি সামান্য কয়েকজন নেতাকর্মীকে সঙ্গে নিয়ে এসেছিলাম। পরে অনেক শুভাকাঙ্ক্ষী এসে জড়ো হয়ে যান। শুরু থেকেই সরকার বিমাতাসুলভ আচরণ শুরু করেছে। নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মতো সব কার্যক্রম পরিচালনা করতে সুযোগ দিতে হবে।'

ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, বিএনপি থেকে আমি মেয়র নির্বাচিত হলে চট্টগ্রাম হবে একটি সুস্থ ও আধুনিক নগরী। জলাবদ্ধতা নিরসনে মানুষের বাসযোগ্য একটি নগরী গড়ে তুলব আমি। মানুষের মধ্যে গণজোয়ার সৃষ্টি হচ্ছে। মানুষ বিএনপির পক্ষে রয়েছে।'

সকাল থেকেই ৪১টি ওয়ার্ডের কাউন্সিলর ও সংরক্ষিত ওয়ার্ডের মহিলা কাউন্সিলর প্রার্থীরা নিজেদের মতো করে এসে মনোনয়নপত্র জমা দেন। মেয়র পদে ৯ জনসহ এবার মোট প্রার্থী ২৭৪ জন।

প্রসঙ্গত, প্রার্থীদের মনোনয়ন ফরম জমা দেওয়ার সময় প্রার্থীর সঙ্গে ৫ জনের বেশি লোক রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে যাওয়ার কোনো বিধান নেই। এ ছাড়া মিছিল, ব্যান্ডপার্টি কিংবা শোডাউন করলে নির্বাচনবিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার বিধান রয়েছে।

রিটার্নিং ও আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা মো. হাসানুজ্জামান বলেন, কতজন কাউন্সিলর ফরম জমা দিয়েছেন তার চূড়ান্ত হিসাব পেতে কিছুটা সময় লাগবে। আমি অফিসে ছিলাম। কেউ আচরণবিধি ভঙ্গ করলে যাচাই-বাছাই শেষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।