চসিক নির্বাচন

রেজাউলের চেয়ে আয় বেশি শাহাদাতের

হলফনামা বিশ্নেষণ

প্রকাশ: ২৯ ফেব্রুয়ারি ২০২০       প্রিন্ট সংস্করণ

সারোয়ার সুমন, চট্টগ্রাম

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক) নির্বাচনে ৯ মেয়র প্রার্থীর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ধনী জাতীয় পার্টির সোলায়মান শেঠ। তার বার্ষিক আয় ১০ লাখ ৩২ হাজার টাকা। এই মুহূর্তে তার হাতে নগদ আছে এক কোটি ৪১ লাখ ২৮ হাজার ৫০০ টাকা। তবে প্রধান দুই রাজনৈতিক দলের মধ্যে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী রেজাউল করিম চৌধুরীর চেয়ে বেশি আয় করেন বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ডা. শাহাদাত হোসেন। নগদও রেজাউলের তুলনায় বেশি ডা. শাহাদাতের। রেজাউল করিম চৌধুরীর আয় বছরে চার লাখ ১৪ হাজার টাকা। তার হাতে নগদ আছে মাত্র এক লাখ টাকা। অন্যদিকে ডা. শাহাদাত হোসেনের আয় বছরে ১৭ লাখ ২১ হাজার টাকা। তার হাতে এখন নগদ আছে ১৫ লাখ টাকা। রিটার্নিং কর্মকর্তা ও আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা মোহাম্মদ হাসানুজ্জামান বলেন, 'প্রার্থীদের হলফনামায় কোনো মিথ্যা তথ্য আছে কিনা, তা আমরা যাচাই-বাছাই করব। কেউ মিথ্যা তথ্য দিলে তার মনোনয়ন বাতিল করা হবে।'
হলফনামা বিশ্নেষণ করে দেখা যায়, আওয়ামী লীগ প্রার্থী রেজাউল করিম চৌধুরীর কোনো ঋণ নেই। কিন্তু বিএনপি প্রার্থী ডা. শাহাদাত হোসেনের তিন কোটি ৩৪ লাখ ৫২ হাজার ৪৪৫ টাকা ঋণ রয়েছে। জাতীয় পার্টি প্রার্থী সোলায়মান আলম শেঠের কোনো ব্যক্তিগত ঋণ না থাকলেও ৯২ লাখ ৪৯ হাজার ১৬৭ টাকার কার (গাড়ি) লোন রয়েছে। আবার রেজাউলের নামে কোনো মামলা নেই। কিন্তু ডা. শাহাদাতের নামে মামলা আছে ৪৮টি। সোলায়মান শেঠের নামে ২০০৪ সালে একটি মামলা হলেও ২০০৮ সালে তিনি আদালত থেকে বেকসুর খালাস পান।
রেজাউলের যত সম্পদ

আওয়ামী লীগ মনোনীত মেয়র প্রার্থী রেজাউল করিম চৌধুরী নির্বাচনী হলফনামায় বার্ষিক আয় হিসেবে বাড়ি, দোকান ও অ্যাপার্টমেন্ট ভাড়া থেকে চার লাখ ১৪ হাজার টাকা এবং তার ওপর নির্ভরশীলদের ব্যবসা বাবদ আয় তিন লাখ ৫০ হাজার টাকা দেখিয়েছেন। পেশা হিসেবে ব্যবসা উল্লেখ করেছেন তিনি। তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের নাম মেসাস চৌধুরী এন্টারপ্রাইজ। রেজাউল করিম চৌধুরীর কাছে নগদ এক লাখ টাকা থাকলেও তার স্ত্রীর কাছে আছে তিন লাখ ৫১ হাজার ৪০৯ টাকা। ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে তার নামে সাত লাখ ৮ হাজার ৫৩৯ টাকা ও স্ত্রীর নামে ৩২ লাখ ২৭ হাজার ৯০ টাকা জমা রয়েছে। রেজাউলের চার লাখ টাকা মূল্যের একটি গাড়ি রয়েছে। বিবাহ সূত্রে তিনি ৫০ হাজার টাকা মূল্যের ২০ তোলা স্বর্ণ এবং স্ত্রী ৬০ হাজার টাকা মূল্যে ৩০ তোলা স্বর্ণ পেয়েছিলেন। তবে উত্তরাধিকার সূত্রে প্রাপ্ত জমির ওপর এক কোটি ৯ লাখ ১৬ হাজার ৬৬৭ টাকা মূল্যের চারটি অ্যাপার্টমেন্ট রয়েছে বলে হলফনামায় উল্লেখ করেন রেজাউল।
শাহাদাতের যত সম্পদ
বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ডা. শাহাদাত হোসেন নির্বাচনী হলফনামায় বাড়ি, দোকান ও অ্যাপার্টমেন্ট ভাড়া থেকে তিন লাখ ৫৩ হাজার ২৫ টাকা এবং পেশা থেকে ১৭ লাখ ২১ হাজার ৬০০ টাকা বছরে আয় করেন বলে উল্লেখ করেন। তার হাতে নগদ অর্থ রয়েছে ১৫ লাখ। আবার ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে জমা অর্থের পরিমাণ ৩৪ লাখ ৪৭ হাজার ২৭৭ টাকা। বন্ড, ঋণপত্র, স্টক এক্সচেঞ্জে তালিকাভুক্ত এবং তালিকাভুক্ত নয়, এমন কোম্পানির শেয়ার আছে তার কাছে তিন লাখ ৭১ হাজার ৩৫০ টাকার। আবার ১১ লাখ ৮০ হাজার টাকা মূল্যের টয়োটা গাড়ি, ২৭ লাখ ২০ হাজার টাকা মূল্যের ভি-৭৩ মডেলের জিপ ও ৭৫ হাজার টাকার স্বর্ণালংকার রয়েছে বলে হলফনামায় উল্লেখ করেন ডা. শাহাদাত। তার ট্রিটমেন্ট হাসপাতাল ও ট্রিটমেন্ট ডায়াগনস্টিক সেন্টারে ব্যবসায়িক মূলধন আছে তিন কোটি ২৮ লাখ ৯০ হাজার ৬০০ টাকার। এ ছাড়া তার ১৮ শতক অকৃষি জমি রয়েছে ও দেড় কাঠা আবাসিক ও বাণিজ্যিক ভবন রয়েছে; যার মূল্য ৬৭ লাখ ৮৬ হাজার টাকা। এ ছাড়া ৩৫ লাখ টাকা মূল্যের বাড়ি ও অ্যাপার্টমেন্ট রয়েছে তার।
সবচেয়ে বেশি সম্পদ সোলায়মান শেঠের
জাতীয় পার্টি মনোনীত মেয়র প্রার্থী সোলায়মান আলম শেঠের স্থাবর-অস্থাবর মিলিয়ে প্রায় ১৬ কোটি টাকার সম্পদ রয়েছে। ৯ মেয়র প্রার্থীর মধ্যে এটিই সর্বোচ্চ। নগদ এক কোটি ৪১ লাখ ২৮ হাজার ৫০০ টাকা ছাড়াও ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে তার জমা অর্থের পরিমাণ তিন লাখ ৫৪ হাজার ৪২২ টাকা। বন্ড, ঋণপত্র, স্টক এক্সচেঞ্জে তালিকাভুক্ত এবং তালিকাভুক্ত নয়, এমন কোম্পানির শেয়ার আছে ১০ লাখ ২০ হাজার টাকার। নিজ নামে স্বর্ণালংকার রয়েছে মাত্র ১৫ হাজার টাকার। সোলায়মান আলম শেঠ ব্যবসা থেকে বছরে আয় করেন ১৪ লাখ ৮১ হাজার ১৩০ টাকা। এ ছাড়া বাড়ি, অ্যাপার্টমেন্ট, দোকান ও অন্যান্য ভাড়া বাবদ বছরে আয় করেন দুই লাখ ৫৯ হাজার ২০০ টাকা। চাকরি ও সম্মানী ভাতা বাবদ আয় করেন ১৫ লাখ ২০ হাজার টাকা। শেঠের পৈতৃকভাবে প্রাপ্ত জমির মূল্য ১৪ কোটি ৫০ লাখ ১২ হাজার ৭৯৮ টাকা। তার খাগড়াছড়িতে থাকা জমির মূল্য ৫৪ লাখ ৩৪ হাজার টাকা। একটি বাসসহ তার ১৩টি গাড়ি রয়েছে। যার মূল্য তিন কোটি ১৪ লাখ ৭২ হাজার টাকা।