নতুন ভোটারে হিসাব পাল্টে যেতে পারে চট্টগ্রামে

প্রকাশ: ০২ মার্চ ২০২০     আপডেট: ০২ মার্চ ২০২০       প্রিন্ট সংস্করণ

সারোয়ার সুমন, চট্টগ্রাম

জীবনের প্রথম ভোট চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক) নির্বাচনে দেওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন প্রায় ৮৮ হাজার জন। বয়স ১৮ হওয়ায় এবারই প্রথম ভোটার হয়েছেন তারা। ভোটার তালিকা চূড়ান্ত করার আগে চসিক নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা হয়ে যাওয়ায় নতুন এ ভোটারদের ভোট দেওয়া নিয়ে তৈরি হয়েছিল অনিশ্চয়তা। তবে শঙ্কার মেঘ কেটেছে শেষ পর্যন্ত। আজ ২ মার্চ ভোটার দিবসেই নির্বাচন কমিশন প্রকাশ করবে চূড়ান্ত ভোটার তালিকা। এদিকে, নতুন ভোটারদের পেয়ে নতুন পরিকল্পনা সাজাচ্ছেন মেয়র ও কাউন্সিলর প্রার্থীরা। প্রবীণ ভোটাররা কেন্দ্রমুখী না হওয়ায় নতুন ভোটারদেরই কেন্দ্রে আনার ছক তৈরি করছেন তারা। প্রার্থীরা বলছেন, নতুন ভোটাররা ভোট দিলে পাল্টে যাবে ভোটের চিত্রও। জয়-পরাজয় নির্ধারণেও তাদের বড় ফ্যাক্টর মনে করছেন প্রার্থীরা।

রিটার্নিং কর্মকর্তা মোহাম্মদ হাসানুজ্জামান বলেন, খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশের পর যাচাই-বাছাই এবং সংশোধন শেষে চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশের নিয়ম রয়েছে; কিন্তু চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশের আগেই তফসিল ঘোষণা করে ইসি। যে কারণে হালনাগাদ খসড়া তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হওয়া চট্টগ্রামের প্রায় ৮৮ হাজার ভোটারের ভোটাধিকার নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দেয়। কারণ মনোনয়নপত্রের সঙ্গে প্রার্থীদের ভোটার তালিকার যে সিডি দেওয়া হয়েছে, তাতে এসব ভোটারের নাম নেই। তবে ঢাকার সঙ্গে আলোচনা করে এ সমস্যার একটা সমাধান বের করেছি আমরা। প্রতীক বরাদ্দের দিন প্রার্থীদের নতুন ভোটার তালিকাসহ পরিস্কার সিডি সরবরাহ করব। এজন্য ভোট দিতে পারবেন নতুন ভোটাররা।

নির্বাচনে এবার মোট ভোটার ১৯ লাখ দুই হাজার ৮১১ জন। এর মধ্যে পুরুষ নয় লাখ ৭৮ হাজার ৬০ এবং নারী ভোটার নয় লাখ ২৪ হাজার ৭৫১ জন। তবে ২০১৫ সালের নির্বাচনে মোট ভোটার ছিল ১৮ লাখ ১৩ হাজার ৪৪৯ জন। এর মধ্যে পুরুষ ছিলেন নয় লাখ ৩৭ হাজার ৫৩ এবং নারী আট লাখ ৭৬ হাজার ৩৯৬ জন। ৮৮ হাজার নতুন ভোটার যুক্ত হলে পুরুষ ও নারী মিলে পাঁচ বছরে ভোটার বাড়বে প্রায় পৌনে দুই লাখ।

চট্টগ্রাম আঞ্চলিক নির্বাচন অফিস জানায়, ২০২০ সালের ২১ জানুয়ারি প্রকাশিত খসড়া তালিকা অনুসারে নগরীতে নতুন ভোটার হন ৮৫ হাজার ৮৪ জন। যাচাই-বাছাই শেষে এটি হয় প্রায় ৮৮ হাজার। এর মধ্যে পাঁচলাইশ থানায় ১৭ হাজার ৭৫৪, চান্দগাঁও থানায় ১১ হাজার ৪৭৬, কোতোয়ালি থানায় নয় হাজার ৯৬৭, পাহাড়তলী থানায় ১১ হাজার ৯৫৩, ডবলমুরিং থানায় ১৫ হাজার ৮৫৭ এবং বন্দর থানা এলাকায় ১৮ হাজার ৭৭ জন নতুন ভোটার হন। এ খসড়া তালিকা প্রকাশের পর তা জেলা নির্বাচন কর্মকর্তার কার্যালয়, থানা নির্বাচন কর্মকর্তার কার্যালয়সহ সংশ্নিষ্ট সব স্থানে প্রদর্শনের জন্য রাখা হয়। পাশাপাশি ভুল সংশোধনী ও সংযুক্তির জন্য আবেদনের সময় দেওয়া হয় ৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত। এ সংক্রান্ত আবেদন নিষ্পত্তির সময়সীমা ছিল ১২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত। এর পর সব প্রক্রিয়া শেষে আজ চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশের সময় নির্ধারণ করা আছে। নতুনদের নিয়ে আজ ভোটার দাঁড়াবে ১৯ লাখ ৯০ হাজার। এ হিসাবে পাঁচ বছরের ব্যবধানে ভোটার বাড়বে এক লাখ ৮০ হাজার।

প্রার্থীরা বলছেন, নির্বাচনে এবার জয়-পরাজয় নির্ধারণে নতুন ভোটাররা বড় ভূমিকা রাখতে পারেন। ভোটার উপস্থিতি বাড়াতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন তারা। আওয়ামী লীগ দলীয় মেয়র প্রার্থী রেজাউল করিম চৌধুরী বলেন, ইভিএমে ভোট হওয়ায় ভোটার উপস্থিতি বাড়ানোর দিকেও নজর দিতে হবে আমাদের। নতুন ভোটাররা কেন্দ্রে এলে ভোট গ্রহণের হার বাড়বে। আবার কাস্টিং কম হলে নতুন ভোটাররাই হবেন জয়-পরাজয় নির্ধারণে বড় ফ্যাক্টর। বিএনপি দলীয় প্রার্থী ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, যে কোনো নির্বাচনে নতুন ভোটাররা গুরুত্বপূর্ণ। তারা সুচিন্তিত মতামত দেন। অন্য ভোটারদের তুলনায় তারা অনেক বেশি সচেতনও। ভোট সিস্টেমের ওপর পুরো দেশে যে অনাস্থা তৈরি হচ্ছে, সেটি ভাঙতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন নতুন ভোটাররা। তার আগে নিরপেক্ষ আচরণ করে নতুন প্রজন্মের কাছে নির্বাচনটাকে গ্রহণযোগ্য করতে হবে প্রশাসনকে।

নতুন ভোটাররাও মনে করেন, এ নির্বাচনে ফ্যাক্টর হবেন তারা। নতুন ভোটার হওয়া চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুষদের শিক্ষার্থী ফারহানা তাবাসসুম বলেন, এবার জীবনের প্রথম ভোট দেব। দল নয়, প্রার্থীর যোগ্যতা দেখেই দেব প্রথম ভোটটি।