বশ মানেননি আ'লীগ-বিএনপির বিদ্রোহীরা

প্রকাশ: ১০ মার্চ ২০২০     আপডেট: ১০ মার্চ ২০২০       প্রিন্ট সংস্করণ

সারোয়ার সুমন ও শৈবাল আচার্য্য, চট্টগ্রাম

দফায় দফায় বৈঠক করেও বিদ্রোহীদের বশে আনতে পারেনি আওয়ামী লীগ। মনোনয়নবঞ্চিত হয়ে বিদ্রোহী প্রার্থী হওয়া বর্তমান কাউন্সিলরদের কেউ প্রত্যাহার করেননি মনোনয়ন। ১৮ জন কাউন্সিলরের সবাই বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে আছেন ভোটের মাঠে। অথচ বিদ্রোহীদের বশে আনতে রোববার দিনভর চট্টগ্রামে একাধিক বৈঠক করেছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ সিনিয়র নেতারা। বিদ্রোহীদের মনোনয়ন প্রত্যাহার করাতে আওয়ামী লীগ নেতারা পুরোপুরি ব্যর্থ হলেও কিছুটা স্বস্তিতে আছে বিএনপি। ১৫টি ওয়ার্ডে তাদের ১৭ জন বিদ্রোহী প্রার্থী থাকলেও দলের নির্দেশনা মেনে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করে নিয়েছেন ১০ জন। তবে বাকি সাতজন নিয়ে টেনশনে আছে বিএনপিও। ভোটের মাঠ থেকে তাদের সরিয়ে দিতে সোমবার রাতে বৈঠকে বসেছিলেন বিএনপির শীর্ষ নেতারা। মনোনয়ন প্রত্যাহারের আর সুযোগ না থাকায় এ সাতজনকে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি দিয়ে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর আহ্বান জানাবেন বিএনপি নেতারা। এদিকে একটি সাধারণ ওয়ার্ডে বিএনপির কোনো প্রার্থী না থাকায় বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হতে যাচ্ছে পূর্ব বাকলিয়া ওয়ার্ডের আওয়ামী লীগ সমর্থিত কাউন্সিলর প্রার্থী মো. হারুনুর রশিদ।

কাউন্সিলর পদে বিদ্রোহীদের থেকে যাওয়া প্রসঙ্গে নগর আওয়ামী লীগের সহসভাপতি খোরশেদ আলম সুজন বলেন, 'দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ সিনিয়র নেতাদের নিয়ে একাধিক বৈঠক হয়েছে। শনিবার রাতে দলের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন ও নগরের সাধারণ সম্পাদক বর্তমান মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীনও বিদ্রোহীদের নিয়ে আলাদাভাবে বৈঠক করেছেন। দলীয় মনোনয়ন মেনে নেওয়ার ব্যাপারে বারবার তাদের অনুরোধ করা হচ্ছে। এর পরও যারা এ সিদ্ধান্ত মানেননি, তাদের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেবে দল।' নগর আওয়ামী লীগের বর্ধিত সভায় বিদ্রোহীদের প্রসঙ্গে রোববার কঠিন ভাষায় বক্তব্য দেন দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল-আলম হানিফও। তিনি বলেন, 'দলীয় সিদ্ধান্ত মেনে মনোনয়ন প্রত্যাহার না করলে বিদ্রোহীদের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক জীবন কঠিন হয়ে যাবে।' এমন হুঁশিয়ারির পরও অবস্থান থেকে নড়েননি বিদ্রোহী প্রার্থীরা। সংরক্ষিতসহ ৫৫ ওয়ার্ডের মধ্যে ৫০টিতে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী ছিলেন ১২৫ জন।

তাদের মধ্যে বর্তমান কাউন্সিলররাসহ ভোটের মাঠে আছেন এখনও ১০৮ বিদ্রোহী। আর ১৩ ওয়ার্ডে দলীয় মনোনয়ন না পেয়ে বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী ছিলেন ১৭ জন। তাদের মধ্যে বিএনপির ১১ জন দলীয় সিদ্ধান্ত মেনে নিয়েছেন বলে জানিয়েছেন বিএনপির মেয়র প্রার্থী ডা. শাহাদাত হোসেন। মনোনয়ন প্রত্যাহার করে নিতে বিএনপি তাদের ১৭ প্রার্থীকে এর আগে চিঠিও ইস্যু করেছে। চিঠি পাওয়া প্রার্থীদের মধ্যে ছিলেন ৫ নম্বর মোহরা ওয়ার্ডের জানে আলম জিকু, ৭ নম্বর পশ্চিম ষোলশহরের আর ইউ চৌধুরী শাহীন, ৮ নম্বর শুলকবহরের জমির উদ্দিন নাহিদ, ১৩ নম্বর পাহাড়তলীর বাদশাহ আলমগীর, ১৪ নম্বর লালখান বাজারের আব্দুল হালিম স্বপন, ১৮ নম্বর পূর্ব বাকলিয়ার মোহাম্মদ তৈয়ব, ২০ নম্বর দেওয়ান বাজারের লিয়াকত আলী, ২৩ নম্বর উত্তর পাঠানটুলীর রিয়াদ খান, ২৬ নম্বর উত্তর হালিশহর ওয়ার্ডের আজিজুর রহমান বাবুল ও মহসীন আলী চৌধুরী, ১৪ নম্বর লালখান বাজারের আব্দুল হালিম স্বপন, ৩৩ নম্বর ফিরিঙ্গিবাজারের মেজবাহ উদ্দিন মিন্টু, ৩৮ নম্বর দক্ষিণ মধ্যম হালিশহরের আজম উদ্দিন ও ৩৯ নম্বর দক্ষিণ হালিশহরের হাসান মাহমুদ। তাদের মধ্যে শেষ পাঁচজন মনোনয়ন প্রত্যাহার করেননি। সংরক্ষিত ওয়ার্ডে ইসমত আরা জেরিন, শামীমা নাসরিন ও রাজিয়া বেগম রেনুকে প্রার্থিতা প্রত্যাহারে চিঠি দিয়েছিল বিএনপি। তাদের মধ্যে প্রথম দু'জন মনোনয়ন প্রত্যাহার করেননি। সাধারণ ও সংরক্ষিত ওয়ার্ডে মনোনয়ন প্রত্যাহার না করা সাতজনকে আজ বৈঠকে ডেকেছে বিএনপি। তাদের পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি দিয়ে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর নির্দেশ দেবেন শীর্ষ নেতারা।

জানতে চাইলে বিএনপিদলীয় মেয়র প্রার্থী ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, 'আমার জানামতে বিএনপির দলীয় মনোনয়ন পাওয়া প্রার্থীরাই কাউন্সিলর পদে নির্বাচন করবেন। যাদের দল থেকে চিঠি দেওয়া হয়েছে, সাতজন ছাড়া বাকি সবাই প্রার্থিতা প্রত্যাহার করে নিয়েছেন।' নগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবুল হাশেম বক্কর বলেন, 'মনোনয়ন প্রত্যাহার না করা সাতজনকে সোমবার রাতে বৈঠকে ডাকা হয়েছে। আশা করছি, পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি দিয়ে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়াবেন তারা।'

বিএনপির প্রায় অর্ধেক বিদ্রোহী প্রার্থী প্রার্থিতা প্রত্যাহার করে নিলেও আওয়ামী লীগের চিত্র একেবারে বিপরীত। দলীয় মনোনয়ন না পেলেও আওয়ামী লীগে বর্তমান কাউন্সিলরদের মধ্যে ১ নম্বর পাহাড়তলীতে তৌফিক আহমদ চৌধুরী, ২ নম্বর জালালাবাদে মো. সাহেদ ইকবাল বাবু, ১২ নম্বর সরাইপাড়ায় মো. সাবের আহমদ, ২৭ নম্বর দক্ষিণ আগ্রাবাদে এইচ এম সোহেল, ২৮ নম্বর পাঠানটুলীতে মো. আবদুল কাদের, ৩০ নম্বর পূর্ব মাদারবাড়ীতে মাজহারুল ইসলাম চৌধুরী, ১১ নম্বর দক্ষিণ কাট্টলীতে মোরশেদ আকতার চৌধুরী, ৩৩ নম্বর ফিরিঙ্গিবাজারে হাসান মুরাদ বিপ্লব, ৩১ নম্বর আলকরণে তারেক সোলেমান সেলিম, ২৫ নম্বর রামপুরায় এরশাদ উল্লাহ, ৯ নম্বর উত্তর পাহাড়তলীতে মো. জহুরুল আলম জসিম ও ১৪ নম্বর লালখান বাজারে এফ আই কবির মানিক বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন ফরম জমা দিয়েছেন। সব মিলিয়ে ৫৫ ওয়ার্ডে আওয়ামী লীগের ১২৫ জন বিদ্রোহী প্রার্থী ছিলেন। তবে প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিনে তাদের মধ্যে ১৮ জন মনোনয়ন প্রত্যাহার করে নিয়েছেন; কিন্তু ১৮ কাউন্সিলরের কেউ প্রার্থিতা প্রত্যাহার করেননি।