চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে বিএম কনটেইনার ডিপোতে গত ৪ জুন ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে অনিয়ম, গাফিলতি এবং দায়িত্বহীনতার চরম বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে বলে মানবাধিকার সংস্কৃতি ফাউন্ডেশনের (এমএসএফ) প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। জুন মাসের এই মনিটরিং প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সীতাকুণ্ডের ঘটনা ও কর্তৃপক্ষের আচরণ চরম মানবাধিকার লঙ্ঘন। এটি পুরো দেশের মানুষকে হতবাক করার পাশাপাশি জনমনে দুঃখ, কষ্ট ও চরম ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে।

বৃহস্পতিবার ফাউন্ডেশনের প্রেসিডেন্ট আইনজীবী সুলতানা কামাল স্বাক্ষরিত প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, সরকারদলীয় ও বিরোধী দলের কর্মসূচি বাস্তবায়নে সহিংসতা, হানাহানি ও হতাহতের ঘটনায় নাগরিক জীবনে উৎকণ্ঠা বেড়েছে। জুন মাসে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা পর্যালোচনায় দেখা যায়, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের অপব্যবহার, সাংবাদিকতা এবং মতামত প্রকাশের সংবিধান প্রদত্ত অধিকার প্রয়োগের পথ রুদ্ধ করার বেশ কিছু ঘটনা ঘটেছে। গণপিটুনির মতো আইন হাতে তুলে নেওয়ার ঘটনাও বেড়েছে। নারী ও শিশুদের প্রতি সহিংসতা, ধর্ষণ, দলবদ্ধ ধর্ষণ, যৌন হয়রানি, নির্যাতন এবং হত্যার মতো ঘটনা বেড়ে চলেছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নির্যাতন ও হয়রানি, কারা হেফাজতে মৃত্যু বেড়েছে ও সীমান্তে হতাহতের মতো ঘটনাও বন্ধ হয়নি। সংখ্যালঘু নির্যাতনের ঘটনা ঘটেই চলেছে। রাজনৈতিক ও নির্বাচনী সহিংসতায় হতাহতের ঘটনা অব্যাহত রয়েছে। মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা ক্রমাগত বৃদ্ধি পাওয়ায় এমএসএফ গভীর ক্ষোভ ও উদ্বেগ প্রকাশ করছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত এক মাসে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে ১১টি মামলা হয়েছে। মামলায় দু'জন সাংবাদিকসহ ২৩ জনকে আসামি করা হয়েছে। তাজরীন ফ্যাশনস, রানা প্লাজা, নিমতলী, চুড়িহাট্টা, নারায়ণগঞ্জের সেজান জুস ফ্যাক্টরি এবং সবশেষে সীতাকুণ্ড ট্র্যাজেডি নিয়ে কিছুদিন হৈচৈ হলেও শেষ পর্যন্ত সমস্যার প্রকৃত সমাধান হয়নি। সীতাকুণ্ডের ঘটনায় মামলায় মালিক পক্ষকে আসামি করা হয়নি। কারণ, তারা সরকারি দলের রাজনীতিতে জড়িত। এমএসএফ সংগৃহীত তথ্য অনুযায়ী জুন মাসে ৩৩৭টি নারী ও শিশু নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে ধর্ষণের ঘটনা ৭৬টি, দলবদ্ধ ধর্ষণ ১৬টি, ধর্ষণ ও হত্যা ৪টি।