বিএনপির নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবি নাকচ করে আওয়ামী লীগের নেতারা বলেছেন, বিএনপি আসুক বা না আসুক আগামী জাতীয় নির্বাচন নির্দিষ্ট সময়েই হবে। দলটির নেতারা উস্কানিমূলক কথা বলে নেতাকর্মীকে উত্তেজিত করার চেষ্টা করছেন। তবে আওয়ামী লীগের ধৈর্যের বাঁধ ভেঙে গেলে বিএনপিকে এ দেশে খুঁজেও পাওয়া যাবে না।

গতকাল শনিবার রাজধানীতে আওয়ামী লীগ আয়োজিত পৃথক শান্তি সমাবেশে এসব কথা বলেন তাঁরা। এ দিন সারাদেশের মহানগর ও জেলায় একই কর্মসূচি পালন করেন ক্ষমতাসীনরা।

ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগ সকালে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে এবং মহানগর উত্তর বিকেলে বনানী পোস্ট অফিসের পাশের মাঠে শান্তি সমাবেশ করে। দুই মহানগরীতেই বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মীর উপস্থিতিতে শান্তি সমাবেশ কার্যত বিশাল গণসমাবেশে পরিণত হয়।

বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ের কর্মসূচিতে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য কামরুল ইসলাম বলেন, ‘বিএনপি খালেদা জিয়াকে অপসারণ করে, সেখানে তারেক রহমানকে বসানোর চেষ্টা করছে। খালেদা জিয়ার জন্য আদালতে না গিয়ে দলটির নেতারাই অমানবিক আচরণ করছেন। এসবের দায় এক সময় তাদের নিতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘বিভিন্ন দাবি আদায়ে ৫৩ দল নিয়ে বিএনপি সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন করছে। আগের মতো তত্ত্বাবধায়ক সরকার এসে তিন মাসের জায়গায় তিন-চার বছর ক্ষমতা দখল করে থাকলে দায় কে নেবে?’ আগামী নির্বাচনে অংশগ্রহণের প্রস্তুতি নিতে বিএনপির প্রতি আহ্বান জানিয়ে আওয়ামী লীগের এ নেতা বলেন, ‘জনগণ আপনাদের আন্দোলনের ডাকে সাড়া দিচ্ছে না। ভালো হয়, নির্বাচনের জন্য প্রস্তুতি নিন।’ তিনি আরও বলেন, ‘বিএনপি অহেতুক সরকারের বিরুদ্ধে বাকসন্ত্রাস করে জনগণকে হয়রানি করছে। দ্রব্যমূল্যসহ বিভিন্ন ইস্যুতে জনগণকে বিভ্রান্ত করছে। রাজনীতি থেকে বিএনপি নামের অপশক্তিকে বিতাড়িত না করলে শান্তি ফিরবে না।’

ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সভাপতি আবু আহমেদ মন্নাফীর সভাপতিত্বে এবং দপ্তর সম্পাদক রিয়াজ উদ্দিন রিয়াজের পরিচালনায় সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন আওয়ামী লীগের ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ সম্পাদক আমিনুল ইসলাম আমিন, কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সদস্য সানজিদা খানম, ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সাধারণ সম্পাদক হুমায়ুন কবির প্রমুখ।
নেতাকর্মীর ওপর চটলেন কামরুল : শান্তি সমাবেশে নেতাকর্মী শৃঙ্খলা না মানায় চটেছেন কামরুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘আপনারা সবাই মন্নাফী ও হুমায়ুন কবিরের কর্মী। মন্নাফী যখন বক্তব্য দেবেন, দাঁড়িয়ে স্লোগান দিতে হবে পাগলের মতো। হুমায়ুনের নাম শোনামাত্র স্লোগান দিতে থাকেন। আজ বিএনপি যে কর্মসূচি করছে, সেটি কিন্তু বড়। একে খাটো করে দেখার সুযোগ নেই। কিন্তু আপনারা সবাই ব্যানারটা উঁচিয়ে রেখেছেন! আপনারা কি চান না– আমাদের সমাবেশ বিএনপির চেয়ে বড় হোক? এটা চাইলে ব্যানার নামিয়ে ফেলেন। আর যদি মনে করেন বিএনপির কর্মসূচি থেকে আমাদের কর্মসূচি মিডিয়ায় ছোট দেখা যাক, তাহলে যেসব ব্যানার এনেছেন সব উঁচু করে ধরে রাখেন।’

এ সময় মঞ্চের নেতারা হাত দিয়ে ব্যানার নামাতে বললেও কেউই কানে তোলেনি। এ পর্যায়ে কামরুল বলেন, ‘মহানগরে দীর্ঘ ৪০ বছর রাজনীতি করছি। কিন্তু এটি কী?’ নেতাকর্মী আবারও স্লোগান দিলে ক্ষুব্ধ আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর এ সদস্য বলেন, ‘স্লোগান দিবা না, নো স্লোগান। ব্যানার ছেঁড়ো, ছবি নামাও। আমার ছবি নামাও, এটাও ছেঁড়ো। তোমরা মন্নাফী ও হুমায়ুনের নামে স্লোগান দিচ্ছো। কিন্তু তাঁদের কথা শোনো না। কেমন নেতা মানো তোমরা?’

এদিকে বনানীর শান্তি সমাবেশে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র আতিকুল ইসলাম বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ উন্নয়নের মহাসড়কে প্রবেশ করেছে। তাঁর নেতৃত্বে আগামী দিনে দেশ আরও এগিয়ে যাবে। ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ বজলুর রহমানের সভাপতিত্বে এবং প্রচার সম্পাদক আমিনুল ইসলাম ও সহপ্রচার সম্পাদক অধ্যাপক এমএ হামিদের সঞ্চালনায় সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন আওয়ামী লীগের ত্রাণ ও সমাজকল্যাণবিষয়ক সম্পাদক আমিনুল ইসলাম আমিন, ঢাকা মহানগর উত্তরের সাধারণ সম্পাদক এস এম মান্নান কচি, মহানগর নেতা কাদের খান, উইলিয়াম প্রলয় সমাদ্দার বাপ্পী, মিজানুল ইসলাম মিজু, মেহেরুন্নেছা মেরী, আদম তমিজী হক, একেএম জসিমউদ্দিন, মোশাররফ হোসেন, মফিজুর রহমান, হাসিনা বারী, শেখ ফেরদৌসী কাজল প্রমুখ।

যুবলীগের শান্তি সমাবেশ: একই দিন যুবলীগ রাজধানীতে পৃথক শান্তি সমাবেশ করেছে। মিরপুর-১০ নম্বর গোল চত্বরে ঢাকা মহানগর উত্তর যুবলীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি জাকির হোসেন বাবুলের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক ইসমাইল হোসেনের সঞ্চালনায় শান্তি সমাবেশ হয়। অন্যদিকে, যাত্রাবাড়ী চৌরাস্তা শেখ রাসেল পার্কের সামনে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মাইন উদ্দিন রানার সভাপতিত্বে ও ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক এইচ এম রেজাউল করিম রেজার সঞ্চালনায় আরেকটি সমাবেশ হয়।

এ ছাড়া ঢাকার নবাবগঞ্জ ও দোহারে, সিলেট কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে, রাজশাহী মহানগরীর কাশিয়াডাঙ্গা মোড়ে, সুনামগঞ্জ, ঠাকুরগাঁও, পটুয়াখালী, মাগুরা, কক্সবাজারসহ বিভিন্ন জেলায় শান্তি সমাবেশ করেছে আওয়ামী লীগ, এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠন।

[প্রতিবেদনে তথ্য দিয়ে সহায়তা করেছেন ব্যুরো, অফিস ও জেলা প্রতিনিধিরা]