মন্তব্য

আমাদের ঐতিহ্যের গাছগুলো রক্ষা করতেই হবে

 প্রকাশ : ১৪ জানুয়ারি ২০১৮ | আপডেট : ১৪ জানুয়ারি ২০১৮      

 অনলাইন ডেস্ক

বিপ্রদাশ বড়ুয়া- ফাইল ছবি

আমাদের মুক্তিযুদ্ধের সময় ভারতে শরণার্থী হয়েছিলেন বহু মানুষ। নিরাপদে ভারত যেতে তারা বেছে নেন যশোর রোড। এই রোড বাংলাদেশের সঙ্গে পশ্চিমবঙ্গের সংযোগ সড়ক হিসেবে এখনও গুরুত্বপূর্ণ। মহান মুক্তিযুদ্ধের অকৃত্তিম বন্ধু মার্কিন কবি ও গীতিকার অ্যালেন গিন্সবার্গ এই রোড নিয়েই লিখেছেন ‘সেপ্টেম্বর অন যশোর রোড’ কবিতা। সম্প্রতি যশোর-বেনাপোল মহাসড়ক চার লেনে উন্নীত করতে এই মহাসড়কের দুই ধারে নতুন-পুরনো মিলিয়ে আড়াই থেকে তিন হাজার গাছ কেটে ফেলার সিদ্ধান্ত হয়েছে। কর্তৃপক্ষ বলছে-গাছগুলো রেখে মহাসড়ক চারলেন করা সম্ভব নয়। তবে গাছ কাটার সিদ্ধান্তের বিরাধিতা এসেছে বিভিন্ন মহল থেকে। বিষয়টি নিয়ে সমকাল অনলাইনের সঙ্গে কথা বলেছেন খ্যাতিমান লেখক বিপ্রদাশ বড়ুয়া

যশোর রোডের এসব গাছ রেখেই রাস্তা করার পথ খুঁজতে হবে। গাছ কাটার সিদ্ধান্ত মোটেও ঠিক হয়নি। এটা কোনো কাজ হতে পারে না। ঐতিহ্যবাহী এসব গাছ রেখে কিভাবে রাস্তা বা অন্যান্য উন্নয়ন করা যায়; তার ব্যাপারে চিন্তা করতে হবে। যারা গাছগুলো কাটার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তাদের প্রতি হতাশ হওয়া ছাড়া আসলে বলার কিছু নেই।

গাছ রক্ষা করে যদি রাস্তা নাই করতে পারে তবে সে প্রকৌশলীর দরকার কী? যেকানও মূল্যেই গাছগুলো রাখতে হবে; এগুলো কাটা যাবে না। কারণ প্রাচীন এই গাছগুলো কোন মূল্য দিয়ে পাওয়া যাবে না। তাই যে পরিকল্পনাই করা হোক; তা করতে হবে গাছ রেখেই। 

তাছাড়া গাছগুলো আমাদের দেশের ঐতিহ্যের সঙ্গে জড়িত। এগুলো রক্ষা করার জন্য কি করা যায়, তা খুঁজে বের করতে হবে। গাছ কাটা কোনো সিদ্ধান্ত হতে পারে না; হওয়া উচিতও না। দেশের আর কোথাও এমন গাছ বা গাছের দীর্ঘ সারি নেই। এগুলো আমাদের জন্যই টিকিয়ে রাখতে হবে। আর রাস্তা যদি করতেই হয়, তবে গাছগুলো মাঝে রেখে পাশ্ববর্তী জায়গায় বা অন্য কোনো উপায়ে করতে হবে। 

গাছ রেখে রাস্তা সম্ভব নয়- এমন কথা বলা যাবে না। এগুলো নিয়ে পরিকল্পনা করতে হবে; কিভাবে গাছ বাঁচিয়ে রাস্তা করা যায় তা প্রকৌশলীদের চিন্তা করতে হবে। গাছের বয়স হয়েছে বা দুর্ঘটনা ঘটতে পারে- এসব কোনো ইস্যু নয়। বয়স্ক হলে কি আমরা মানুষকে বোঝা মনে করি? মোটেও না। তাহলে গাছের ক্ষেত্রে কেন সেরকম ভাবা হবে? গাছ রক্ষা করতে হবে; এর বিকল্প নেই।

যারা বলেন গাছ না কাটলে রাস্তা হবে না, তারা আসলে অযোগ্য। দেশের সর্বশেষ বয়ষ্ক গাছ এগুলো; যা আমাদের ঐতিহ্য। আমাদের একমাত্র প্রাচীন গাছ। এগুলো যারা রক্ষা করতে পারবে না, তাদের মতো পরিকল্পনাবিদ কি দরকার! গাছগুলো আমাদের স্বপ্ন দেখায়, আমাদের ঐতিহ্যের কাছে ফিরিয়ে নিয়ে যায়।

গাছ রেখে নিশ্চয়ই রাস্তা বানানোর উপায় আছে। কোনও বিজ্ঞানী বলতে পারেন না যে- এর কোনো সমাধান নেই। নিশ্চয় এরও সমাধান আছে। যশোর রোডের পশ্চিমবঙ্গ অংশে অনেক গাছ রয়েছে, সেগুলা তারা রেখে দিয়েছে। রক্ষা করেছে। আর আমরা গাছ কাটার সিদ্ধান্ত নিচ্ছি! গাছ রেখেই উন্নয়নের পথ খুঁজতে না পারলে ওইসব প্রকৌশলী ও নীতি নির্ধারণকারীদের যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।



'ইশতেহারে নারীর নিরাপত্তায় জিরো টলারেন্স নীতি থাকা উচিৎ'

 অনলাইন ডেস্ক

দেশে বিভিন্ন ক্ষেত্রে নারীর অবদান বাড়লেও ক্ষমতায়নের দিক দিয়ে এখনও ...

১৭ ডিসেম্বর ২০১৮

'অরিত্রির সঙ্গে শিক্ষকদের আচরণ অনাকাঙ্ক্ষিত, দুর্ভাগ্যজনক'

 অনলাইন ডেস্ক

শিক্ষকের কাছে বাবা-মায়ের অপমান সহ্য করতে না পেরে সোমবার রাজধানীর ...

০৪ ডিসেম্বর ২০১৮

'ইভিএম নিয়ে ইসি আস্থা তৈরি করতে পারেনি'

 অনলাইন ডেস্ক

আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৬টি আসনে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনে ...

২৭ নভেম্বর ২০১৮

'আদর্শিকভাবে আমি প্রাথমিক সমাপনী পরীক্ষার ঘোর বিরোধী'

 সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম

গত বোরবার থেকে সারাদেশে শুরু হয়েছে প্রাথমিক ও ইবতেদায়ি সমাপনী ...

২০ নভেম্বর ২০১৮