'সারা বিশ্বে বর্ণবাদ ছিল, এখনও আছে'

 প্রকাশ : ১৭ মার্চ ২০১৯ | আপডেট : ১৭ মার্চ ২০১৯      

 অনলাইন ডেস্ক

'শান্তির দেশ' হিসেবে পরিচিত নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চে দু’টি মসজিদে বন্দুকধারী এক শ্বেতাঙ্গ বন্দুকধারীর হামলায় এ পর্যন্ত নিহতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫০ জন। এরমধ্যে চারজন বাংলাদেশি। হামলার আগে ওই ব্যক্তি ৭৩ পৃষ্ঠার একটি ইশতেহার আপলোড করেন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে; যেখানে তিনি শ্বেতাঙ্গ নয়- এমন অভিবাসীদের প্রতি বিদ্বেষ প্রকাশ করেন। এমনকী আদালতে নেওয়ার পরও হামলাকারী ব্রেনটন হেসে ‘হোয়াইট পাওয়ার’ চিহ্ন দেখান। নিউজিল্যান্ডে মসজিদে হামলার ঘটনা নিয়ে সমকাল অনলাইনের সঙ্গে কথা বলেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক ড. ইমতিয়াজ আহমেদ    

নিউজিল্যান্ডে মসজিদে হামলাকারীর ক্ষেত্রে 'বর্ণবিদ্বেষ' ও 'ধর্মবিরোধী'- বিষয় দুটি আলাদা করা মুশকিল। সন্দেহ নেই, হামলাকারীরার লক্ষ্য ছিল বাইরের লোক, যারা সেখানে অভিবাসী তাদের আক্রমণ করা। তার চিন্তায় ছিল যারা শ্বেতাঙ্গ নয় তাদের ওপর হামলা করা। সেই হিসেবে মুসলিমদের লক্ষ্যবস্তু করা তার জন্য সহজ ছিল। তবে শ্বেতাঙ্গরাও যে মুসলিম হতে পারে; সেটা হয়তো তার চিন্তায় ছিল না। 'খ্রিস্টান সন্ত্রাসবাদ' না বলে বিষয়টাকে ‘শ্বেতাঙ্গ সন্ত্রাসবাদ’ বলা হচ্ছে। এটা অনেকটা শ্বেতাঙ্গদের প্রতিরক্ষা দেওয়ার মতো। 

বোঝাই যাচ্ছে হামলাকারী মুসলিমদের বিরুদ্ধে ছিলেন। তার ধারণায় ছিল মসজিদে শ্বেতাঙ্গ নয়-এমন ব্যক্তিরাই যান। তার মধ্যে একই সঙ্গে 'মুসলিমবিরোধী' ও 'বর্ণবিরোধী' মনোভাব দেখা গেছে।

সারা বিশ্বে বর্ণবাদ ছিল, এখনও আছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ট ট্রাম্পের কথাই যদি বলি, শ্বেতাঙ্গদের দিকে তার নজর বেশি। একই সঙ্গে তার মানসিকতা মুসলিম এবং অভিবাসনের বিরুদ্ধে।

এখানে বৈশ্বিক একটা ব্যাপার আছে। নিউজিল্যান্ডে মসজিদে হামলাকারী যখন ফেসবুকে লাইভ দিয়ে হামলা চালান তখন অনেকেই সেটাতে লাইক দেন। এমনকী নিউজিল্যান্ড থেকেও অনেকে লাইক দেন। এ থেকেই বোঝা যায় সেখানে বর্ণবাদ আছে, তারা অনেকেই অভিবাসনের বিপক্ষে।

অস্ট্রেলিয়ায় কিছু আদিবাসী সম্প্রদায় রয়েছে। বিংশ শতাব্দীতেও এদের মারলে বিচার হতো না। নিজেদের সম্প্রদায় নিয়ে এখনও অস্ট্রেলিয়ানদের মধ্যে ট্রমা আছে। এছাড়া দক্ষিণ আফ্রিকা যখন ভেঙে যায় তখন অনেকেই অষ্ট্রেলিয়ায় চলে যান। সে হিসেবে তাদের মধ্যে স্বাভাবিকভাবে বর্ণবাদ আছে। হামলাকারী একজন অস্ট্রেলিয়ান। বর্ণবাদের বিষয়টা তার মধ্যে হয়তো আগে থেকেই ছিল। এই ঘটনা সেটারই বহিঃপ্রকাশ।

নিউজিল্যান্ডকে এতদিন শান্তিপূর্ণ দেশ ভাবা হতো। এরকম সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড এখানে আগে দেখা যায়নি। এমন একটি ঘটনার পর আশা করছি সেখানকার মানুষ এ ধরনের সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে জেগে উঠবে।