বিশেষ মন্তব্য

আমি শুধু মর্মাহত নই চরম ক্ষুব্ধ

 প্রকাশ : ০৭ এপ্রিল ২০১৯       প্রিন্ট সংস্করণ     

 অ্যাডভোকেট সালমা আলী

শ্নীলতাহানির মামলা তুলে না নেওয়ায় ফেনীর সোনাগাজীতে মাদ্রাসা শিক্ষার্থী নুসরাত জাহান রাফিকে যেভাবে অগ্নিদগ্ধ করা হয়েছে, এটি চরম নৃশংসতা। হত্যা করার উদ্দেশ্যেই এ ঘটনা ঘটানো হয়েছে। এ ঘটনায় আমি শুধু মর্মাহত নই, চরম ক্ষুব্ধ।

আমাদের যে সমাজ ব্যবস্থা তাতে দেখেছি, মাদ্রাসা শিক্ষার্থীরা এমনিতেই ধর্মভীরু। তারা শ্নীলতাহানিসহ এ ধরনের ঘটনাগুলো অধিকাংশ ক্ষেত্রেই চেপে যায়। তবে এখানে ব্যতিক্রম হিসেবে ভিকটিম রাফি তার বিরুদ্ধে যে অপরাধ হয়েছে, সেটি প্রকাশ্যে এনেছে এবং মামলাও করেছে।

আমি তাকে বলব সাহসী নারী। আমরা সব সময়ই নারীর উদ্দেশ্যে বলে এসেছি, প্রতিবাদ করো। তবে দুঃখজনক হলো, রাফি যখন অন্যায়ের প্রতিবাদ করে মামলা করেছে, তখন পুলিশ-প্রশাসন তাকে নিরাপত্তা দিতে পারেনি। কারণ, বরাবর যা ঘটছে, এখানেও সেটি হয়েছে। পুলিশ শুধু প্রভাবশালীদের পক্ষেই থেকেছে। পুলিশ যদি তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিত, তাহলে আসামিরা নিশ্চয়ই রাফিকে উঠিয়ে নিয়ে অগ্নিদগ্ধ করে হত্যাচেষ্টার এ ঘটনা ঘটানোর সাহস পেত না। রাফি আসামিদের বিরুদ্ধে মামলা করার পর স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশের ভূমিকা কী ছিল, তা এখন খতিয়ে দেখা উচিত। এ জন্য প্রয়োজন আইনের আওতায় ভিকটিম ও সাক্ষী সুরক্ষা নিশ্চিত করা।

সাম্প্রতিক সময়ে নোয়াখালীর সুবর্ণচরে দুটি ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। আর আজ (শনিবার) ফেনীর সোনাগাজীতে ঘটল রাফির ওপর চরম নৃশংসতা। এতে এটাই প্রমাণিত হয়, ফেনী ও নোয়াখালী নারীর জন্য সর্বোচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা। অন্যসব ঘটনার মতো মানবাধিকার সংগঠন ও গণমাধ্যমগুলো এ নিয়ে কিছুদিন আলাপ-আলোচনা করবে, প্রতিবাদ করবে। এরপর আবার আমরা সবাই নতুন কোনো ঘটনা নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়ব। এতে করে সেই ভিকটিম আবারও একা হয়ে পড়বে। এ জন্য সরকারি পৃষ্ঠপোষকতায় তাদের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ও আর্থিক সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হবে। নয়তো নারীর ক্ষমতায়ন শুধু কাগজে-কলমেই রয়ে যাবে।

অ্যাডভোকেট সালমা আলী, মানবাধিকার আইনজীবী