বিশেষ মন্তব্য

বিচার হলে পিছপা হবে অপরাধীরা

 প্রকাশ : ১৮ মে ২০১৯       প্রিন্ট সংস্করণ     

 সালমা আলী

দেশে ধর্ষণ বৃদ্ধির অন্যতম কারণ বিচারহীনতা। বিচার বিভাগ, পুলিশ প্রশাসন এবং ফরেনসিক বিভাগের সমন্বয়ের অভাবে বিচারহীনতা বাড়ছে। আইনের প্রয়োগের ক্ষেত্রে এই তিন বিভাগের সমন্বয় অত্যন্ত জরুরি। ধর্ষণের মামলা নিয়মিত মনিটরিংয়ের জন্য আইন মন্ত্রণালয়, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়কে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে। এসব মামলার রায় যেন নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে হয়, সে ব্যাপারে জোর দিতে হবে। তবেই অপরাধীরা পিছপা হবে।

ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টার থেকে যেসব মামলায় সহযোগিতা করা হয়েছে, সেসব মামলার পরিসংখ্যান বলছে, দেশে ধর্ষণ বাড়ছে। বাড়ছে ধর্ষণের পর হত্যা। বেড়েছে নিষ্ঠুরতার নজিরও। ধর্ষণের সঙ্গে জড়িতরা রাজনৈতিকভাবে কিংবা যে কোনো উপায়ে প্রভাবশালী হলে তাদের আইনের আওতায় আনা যায় না। আপসেই সব মীমাংসা করে নিতে হয়। এমন প্রেক্ষাপটে ধর্ষণ প্রতিরোধে রাজনৈতিক কমিটমেন্টও খুব জরুর।

প্রশ্ন রয়েছে গণমাধ্যমের ভূমিকা নিয়েও। বিশেষ করে মফস্বলে যারা সাংবাদিকতা করেন, তাদেরও দায়বদ্ধতা রয়েছে। এখন যেভাবে ধর্ষণ হচ্ছে, আগেও হয়েছে। কিন্তু সেসব ঘটনা এখনকার মতো প্রচার পেতো না। স্থানীয় গণমাধ্যম বা জাতীয় পত্রিকার আঞ্চলিক প্রতিনিধিরা এসব ঘটনা অনেক ক্ষেত্রেই গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করেননি। এমন কয়েকটি ঘটনার চাক্ষুষ সাক্ষী আমি নিজেই। কয়েক বছর আগে রাজশাহীর পর্যটন হোটেলে একজন এনজিও কর্মী ধর্ষণের শিকার হন। পরে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, সাংবাদিক ও আইনের লোক মিলে জোরপূর্বক আপসের নামে ঘটনাটি ধামাচাপা দিয়েছে। তবে ফেনীর নুসরাত জাহান রাফি হত্যাকাণ্ডের পর এ ব্যাপারে সবাই আগের চেয়ে সতর্ক হয়েছে।

নুসরাতের মতো প্রতিটি ঘরে ঘরে গল্প রয়েছে। ভিকটিমই কিন্তু একটি মামলার সবচেয়ে বড় সাক্ষী। এখন ধর্ষণের পর ভিকটিমকে হত্যা করা হচ্ছে। এর মধ্য দিয়ে অপরাধীরা সাক্ষীও মিটিয়ে ফেলছে। যারা খুন হয়, তাদের গল্প হারিয়ে যায়। আসামিরা পার পেয়ে যায়।

৬ মে কিশোরগঞ্জের বাজিতপুরে স্বর্ণলতা পরিবহনের চলন্ত বাসে নার্স শাহীনুর আক্তার তানিয়াকে গণধর্ষণের পর হত্যা করা হয়। নৃশংস এ ঘটনায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। এজন্য আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে। প্রশাসনের ওপর চাপ প্রয়োগ করতে হবে। এ ক্ষেত্রে গণমাধ্যমকর্মীদের ভূমিকা অন্যতম। প্রতিদিন কোথায় কী ঘটছে, তা পত্রিকায় প্রকাশ করতে হবে।

লেখক :সাবেক নির্বাহী পরিচালক, মহিলা আইনজীবী সমিতি