বিশেষ মন্তব্য

শপথ নিয়ে সরকারের উপকার করেছে বিএনপি

 প্রকাশ : ০৬ মে ২০১৯       প্রিন্ট সংস্করণ     

 সৈয়দ আবুল মকসুদ

সংসদে যাওয়া না-যাওয়া সবকিছুর মূলেই এবারের নির্বাচনের ফলাফল। অকল্পনীয় বিজয় অর্জনের পর এই ফলাফল আওয়ামী লীগকে বিব্রত করেছে। বিএনপিকে করেছে হতভম্ব। ভোটারদের করেছে তাজ্জব। রাজনৈতিক বিশ্নেষকদের করেছে বিভ্রান্ত। কোনো দলের হিসাবের যোগ-বিয়োগের সঙ্গেই ফলাফলের মিল নেই। শুধু নির্বাচন কমিশনকে এই ফলাফল করেছে পরিতৃপ্ত।

এবারের নির্বাচনে সবচেয়ে লাভবান যদি কেউ হয়ে থাকে তা হয়েছে ড. কামাল হোসেনের গণফোরাম। ফাঁকতালে তারা সংসদে দুটি আসন পেয়ে গেছে। আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টি এত আসন পাবে তা তাদের ধারণাতেও ছিল না। বিএনপির ঘোরবিরোধীরাও বলবে না যে, তারা মাত্র ছয়-সাতটি আসন পাওয়ার দল। আমাদের দেশে চিরকাল পরাজিত দল কারচুপির অভিযোগ তুলে নির্বাচনের ফলাফল  প্রত্যাখ্যান করেছে। কিন্তু এবারে বিএনপি নির্বাচনের ফলাফল প্রত্যাখ্যানের পেছনে সঙ্গত কারণ ছিল। কিন্তু সেই কারণগুলো তথ্য-প্রমাণ দিয়ে সুপ্রতিষ্ঠিত করতে পারেনি দলটি। নেতৃত্বহীন হলেও বিএনপি একটি বড় দল। কিন্তু অতি অসংগঠিত। তাদের যে ঐক্যফ্রন্ট তাতে ঐক্যের লেশমাত্র নেই। নির্বাচন কমিশন যে গুটিকয়েক আসন তাদের দিয়েছে, তাতে শপথ না নিয়ে তাদের উপায় ছিল না। শপথ নেবে না বলে যে ঘোষণা তারা দিয়েছিলেন, তা ছিল আসলে ফাঁকা বুলি। সরকার চাইছিল তারা সংসদে আসুক। যদিও তারা সংসদে না গেলে সরকারের কোনো ক্ষতি হতো না। কিন্তু রাজনৈতিক ও নৈতিক পরাজয় ঘটত। শপথ নিয়ে তারা সরকারের উপকার করেছেন, নিজেরাও উপকৃত হয়েছেন।

সরকারের চাপে বিএনপির নির্বাচিতরা শপথ নিয়েছেন, আমার তা মনে হয় না। তারা জনগণের কথা চিন্তা করে শপথ নিয়েছেন, এমনটাও ভাবার যুক্তিসঙ্গত কারণ নেই। বরং প্রলোভন থেকে শপথ নিতে পারেন। শুল্ক্কমুক্ত গাড়ি, রাজউকের প্লট প্রভৃতি সুবিধা তাদের শপথ নিতে উদ্বুদ্ধ করে থাকতে পারে। এই ছয় এমপির দ্বারা খালেদা জিয়াও যে উপকৃত হবেন, সেটাও দুরাশা। শপথ না নেওয়ার কারণে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ব্যক্তিগতভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হলেও তার নৈতিক পরাজয় ঘটেনি।

আগেই বলেছি বিএনপির কেউ যদি শপথ না নিত তাহলে সরকারের নৈতিক পরাজয় ঘটত। অন্যদিকে তারা শপথ নেওয়ার কারণে বিএনপি এবং ঐক্যফ্রন্টের রাজনৈতিক পরাজয় ঘটেছে। এতদিন যারা তাকে অবৈধ বলেছেন, শপথ নেওয়ার মাধ্যমে সেটাকেই বৈধতা দিলেন। এটা বিএনপির রাজনৈতিক দেউলিয়াপনা ছাড়া আর কিছুই নয়।

লেখক : সাংবাদিক ও রাজনৈতিক বিশ্নেষক