ছাত্রলীগের সামনে কোনো চ্যালেঞ্জ নেই

 প্রকাশ : ১৫ সেপ্টেম্বর ২০১৯ | আপডেট : ১৫ সেপ্টেম্বর ২০১৯      

 অনলাইন ডেস্ক

নানা বিতর্কের পর আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী শনিবার ছাত্রলীগের সভাপতির পদ থেকে রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন ও সাধারণ সম্পাদকের পদ থেকে গোলাম রাব্বানীকে সরিয়ে দেওয়া হয়। তাদের বিরুদ্ধে বিতর্কিত ব্যক্তিদের কেন্দ্রীয় কমিটিতে জায়গা দেওয়া, পদ-বাণিজ্য, অনৈতিক আর্থিক লেনদেনসহ একাধিক অভিযোগ ছিল। দলের শীর্ষ পদ থেকে বিতর্কিত ব্যক্তিদের বাদ দেওয়াতে অনেকেই ধারণা করছেন, এর মধ্য দিয়ে দেশজুড়ে ছাত্রলীগের ভাবমূর্তি পুনরুদ্ধারের চেষ্টা শুরু হয়েছে। বিতর্কিত ছাত্রলীগ নেতাদের বাদ দেওয়া ও দেশের ছাত্র রাজনীতি নিয়ে সমকাল অনলাইনের সঙ্গে কথা বলেছেন বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইমেরিটাস অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী

ছাত্রলীগ সরকার সমর্থিত দল। সুতরাং তারা কী করবে, তা সরকারি দলের ওপর নির্ভর করে। তারা যেটা করে, সরকার তা সমর্থন করে। তবে সংগঠনটির সাবেক সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের অপরাধ এত বড় হয়ে গেছে যে তারা সামলাতে পারেনি।

ছাত্র রাজনীতির সঙ্গে যারা যুক্ত, তারা রাজনৈতিক কাজ করবে; সাংস্কৃতিক, আলোচনা অনুষ্ঠান করবে; জাতীয় কাজে অংশ নেবে, ছাত্রদের এবং সাধারণ মানুষের অধিকার আদায়ের কাজ করবে– এটাই হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু এখন ছাত্রলীগের সামনে কোনো চ্যালেঞ্জ নেই। তারা দেশের কিংবা দলের কাজ করছে না। তারা নিজেদের স্বার্থ আদায়ে কাজ করছে। তাদের সামনে কোনো প্রতিপক্ষ নেই। তর্কে লিপ্ত হওয়ার কোনো স্থান নেই। যারা ছাত্র সংগঠন করে তারা মেধা ও সাংস্কৃতিকভাবে নিজেদের বিকশিত করে। এদের সামনে সেরকম কোনো লক্ষ্য নেই। বদ্ধ জলাশয় থাকলে যেমন পোকামাকড় সৃষ্টি হয়, এদের অবস্থাও অনেকটা সেরকম হয়েছে। এর বাইরে ছাত্র সংগঠনগুলোও নিষ্ক্রিয় অবস্থায় আছে। 

আমরা ভেবেছিলাম, বিশ্ববিদ্যালয়ে ডাকসু নির্বাচন হলে অবস্থার পরিবর্তন হবে। কিন্তু সেটাও হয়নি। এ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে পরীক্ষা ছাড়াই ছাত্রলীগের ৩৪ জন সাবেক ও বর্তমান নেতা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়। এর মধ্যে আবার নির্বাচনে অংশ নিয়ে কয়েকজন ডাকসু নেতাও নির্বাচিত হয়। 

ডাকসুর সাধারণ সম্পাদক পদে এখনও বহিষ্কার হওয়া এক ছাত্রলীগ নেতা বহাল আছে। তার এ পদে থাকার কোনো নৈতিক অধিকার নেই।

ছাত্রলীগের অপরাধের খুবই আংশিক অংশ উন্মোচিত হয়েছে। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন প্রকল্পের টাকা ভাগাভাগি নিয়ে তারা যা করেছে, তা অকল্পনীয় ব্যাপার। মোটকথা, তরুণ সমাজের সামনে কোনো মতাদর্শ নেই। এ কারণে তারা অপরাধ করছে, মাদক ব্যবসায় লিপ্ত হচ্ছে। তাদের কোনো সামাজিক জীবন নেই। একটা ভয়ঙ্কর অবস্থার মধ্য দিয়ে আমরা যাচ্ছি।

দল থেকে বিতর্কিত ছাত্রলীগ নেতাদের বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত ভালো হয়েছে, কাজের মতো কাজ হয়েছে। আসলে জবাবদিহি না থাকার কারণে এখানে সবাই পার পেয়ে যায়। তবে এ ঘটনা থেকে এটা অন্তত বোঝা গেল, অপরাধ করে সবসময় পার পাওয়া যায় না।