যুক্তরাষ্ট্রের পরবর্তী প্রেসিডেন্ট কে হচ্ছেন তা নিয়ে আলোচনা চলছে গোটা বিশ্বে। সাধারণত ভোটের রাতে জানা যায় নতুন প্রেসিডেন্টের নাম। তবে এবারে করোনা মহামারির কারণে অনেক এলাকায় ইমেইল ও পোস্টাল ভোট হয়েছে। এ কারণে ধারণা করা হচ্ছে, ভোট গণনার কাজ শেষ করতে কয়েকদিন লেগে যেতে পারে। তবে প্রেসিডেন্ট প্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্প ও জো বাইডেন দুজনই জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন নিয়ে সমকাল অনলাইনকে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন নিরাপত্তা বিশ্নেষক, অবসরপ্রাপ্ত এয়ার কমডোর ও ইউনিভার্সিটি অব এশিয়া প্যাসিফিকের ট্রেজারার ইশফাক ইলাহী চৌধুরী 

যুক্তরাষ্ট্রে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে রীতিমতো হাড্ডাহাড্ডি লড়াই চলছে। তবে ভোট গণনা শেষ না হওয়া পর্যন্ত বলা যাচ্ছে না কে জিতবেন। কারণ ২০১৬ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনেও দেখা গিয়েছিল হিলারী ক্লিনটন ২০ লাখ ভোট বেশি পেয়ে এগিয়ে আছেন। তারপরও তিনি জিততে পারেননি। তবে এবারের নির্বাচনে প্রথম থেকে দেখা যাচ্ছে বাইডেন এগিয়ে।

নির্বাচন চলাকালীন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সংবাদ সম্মেলন করে ডেমোক্রেট প্রার্থী জো বাইডেনের দলকে যেভাবে ঠগ বললেন, তাদের বিরুদ্ধে জালিয়াতের অভিযোগ তুললেন-  তা খুবই দুঃখজনক! রিপাবলিকান প্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্প এরইমধ্যে ভোট গণনায় অনিয়মের অভিযোগ তুলে সুপ্রীম কোর্টে যাওয়ার কথা বলেছেন, যা মোটেও প্রত্যাশিত নয়। আমেরিকার ইতিহাসে এ ধরনের ঘটনা এটাই প্রথম। এই বক্তব্যের মাধ্যমে ওই দেশের গণতন্ত্র এবং জনগণের প্রতি ট্রাম্পের অনাস্থা প্রকাশ পেয়েছে।

যেকোন রাষ্ট্রের মূলশক্তি হচ্ছে নিজ দেশের নির্বাচনী পদ্ধতি নিয়ে বিশ্বাস। সেদিক দিয়ে যুক্তরাষ্ট্র গোটা বিশ্বের কাছে উদাহরণের মতো। কিন্তু সেখানে ওই দেশের বর্তমান প্রেসিডেন্টে ওই মন্তব্য করে নিজের ইনস্টিটিউটকে অবিশ্বাস করেছেন। এজন্য নিজে দলের লোকরাও তার সমালোচনা করেছেন।

নির্বাচনের ফল যাই হোক না কেন, যেখানে ক্ষমতা হস্তাস্তরের বিষয়টি স্বাভাবিকভাবে হতো পারতো ট্রাম্প হেরে গেলে সেটা নাও হতে পারে। কারণ ডোনাল্ড ট্রাম্পের যে স্বভাব তাতে তিনি হেরে গেলে এ ধরনের কাণ্ড করতেই পারেন!

অন্যদিকে ট্রাম্পের দল রিপাবলিক পার্টিতে কিছু উগ্র ডানপন্থী রয়েছেন। তারা ট্রাম্পের ছত্রছায়াতেই উগ্র হয়ে উঠেছেন। ট্রাম্প হেরে গেলে তারা সংখ্যালঘুদের ওপর যে হামলা করবে না, সেই আশঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া যায় না।

তবে, যিনিই পরাজিত হোন না কেন, জয়ী প্রার্থীকে স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় ক্ষমতা হস্তান্তর করবেন- এটাই আশা করি। 


মন্তব্য করুন