কার্টুনিস্ট আহমেদ কবির কিশোর ও লেখক মুশতাক আহমেদকে নির্যাতনে অভিযুক্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের বিচারের মুখোমুখি করার দাবি জানিয়েছেন ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে ‘নিপীড়নমূলক মামলার শিকার’ কয়েকজন আলোচিত ব্যক্তিত্ব।

শুক্রবার এক বিবৃতিতে তারা অবিলম্বে মানবাধিকার কেন্দ্রিক নীতিনৈতিকতা সমুন্নত রেখে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইন-২০০৬-এর সংস্কার এবং ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন বাতিল করার দাবি জানিয়েছেন। তারা এও বলেছেন, সারাদেশে এই আইনে গ্রেপ্তার সবাইকে অবিলম্বে নিঃশর্ত মুক্তি দিতে হবে।

বিবৃতিতে স্বাক্ষর করেছেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজতত্ত্ব বিভাগের শিক্ষক মাইদুল ইসলাম, বিশিষ্ট আলোকচিত্রী শহিদুল আলম, রাষ্ট্রচিন্তার সদস্য দিদারুল ভূঁইয়া, আর্কিটেক্ট গোলাম মাহফুজ জোয়ারদার, সাংবাদিক শফিকুল ইসলাম কাজল, নিরাপদ সড়ক আন্দোলনের সংগঠক ও ছাত্র ফেডারেশনের চট্টগ্রাম মহানগর শাখার যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মারুফ হোসেন এবং একই সংগঠনের নেতা আজিউর রহমান আশাফ।

বিবৃতিতে বলা হয়, ‘বিগত কয়েক বছরে নিবর্তনমূলক তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইন-২০০৬ এবং ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন-২০১৮-এর নিপীড়নমূলক মামলার শিকার হয়ে আমরাও কারাবন্দি ছিলাম। সম্প্রতি কারাগারে লেখক মুশতাক আহমেদের মৃত্যুতে আমরা গভীরভাবে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছি। আমরা এই আইনে কারাবন্দি সবার জন্য শঙ্কিত বোধ করছি।’

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ‘পুরস্কারপ্রাপ্ত কার্টুনিস্ট কিশোর অভিযোগ করেছেন, তাকে আটকের পর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হেফাজতে নির্যাতন করা হয়েছে। এমনকি লেখক মুশতাক আহমেদকেও বৈদ্যুতিক শক দেওয়া হয়েছে। নির্যাতন ও হেফাজতে মৃত্যু (নিবারণ) আইন ২০১৩ অনুযায়ী এটি অবশ্যই গুরুতর অপরাধ ও উচ্চ আদালতের নির্দেশনার বরখেলাপ। প্রত্যেক বন্দির মানবাধিকার সুরক্ষার দায়িত্ব রাষ্ট্রের। কিন্তু রাষ্ট্রীয় বাহিনীর হেফাজতে নাগরিকরা মারা যাচ্ছেন এবং নির্মম শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন-নিপীড়নের শিকার হচ্ছেন।