জনগণের মানবাধিকার রক্ষায় পাকিস্তান সরকার আবারও ব্যর্থ হয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির মানবাধিকার কমিশন। পাকিস্তানের মানবাধিকার কমিশনের ‌স্টেট অফ হিউম্যান রাইটস ইন ২০২০’ প্রতিবেদনে এমনটাই বলা হয়েছে। 

প্রতিবেদনে সরকার ও রাষ্ট্রের কাছ থেকে জনগণ কী প্রত্যাশা করে তার চেয়ে সরকারের আত্মতুষ্টির কথা তুলে ধরা হয়েছে। সাংবিধানিকভাবে পাকিস্তানের জনগণের যে অধিকার ও স্বাধীনতা রয়েছে দেশটির সরকার তার কতটুকু নিশ্চিত করতে পেরেছে সে বিষয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।  

এই প্রতিবেদন প্রকাশের পর পাকিস্তানভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ইন্টারন্যাশনাল দ্য নিউজ তার সম্পাদকীয়তে বলেছে, ২০২০ সালের প্রধান ইস্যুগুলোর একটি হলো কভিড-১৯। মহামারিটির কারণে পাকিস্তানের নাগরিকরা অর্থনৈতিক মন্দার মুখোমুখি হয়েছে। তবে মহামারিটি আসার আগেই দেশটির দরিদ্র জনগোষ্ঠীর ওপর মন্দার প্রভাব পড়েছিল।

মতবিরোধকে কেন্দ্র করে দেশটিতে ক্রমবর্ধমান অসন্তোষের বিষয়টিও প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। 

সম্পাদকীয়তে বলা হয়েছে, এই প্রতিবেদন দেশটির কর্তৃপক্ষের জন্য একটি সতর্কবার্তা, যারা করোনা মহামারিকে তেমন গুরুত্ব দেয়নি। মহামারিটির কারণে বিদ্যমান বৈষম্যকে আরও বৃদ্ধির পাশাপাশি লাখ লাখ শ্রমিকের ঝুঁকির মুখে পড়ার আশঙ্কাকে তারা পাত্তা দেননি। করোনা মহামারি পাকিস্তানকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে এবং দেশটির লাখ লাখ নাগরিক তাদের জীবিকা হারিয়েছে।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, সরকার স্বাস্থ্যের অধিকারকে মৌলিক অধিকার হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে ব্যর্থ হয়েছে এবং দেশটিতে স্বাস্থ্য সুবিধাগুলো পাওয়া অনেক কঠিন। করোনা মোকাবিলায় দেশটিতে প্রস্তুতির অভাব ছিল। এর ফলে দেশটিতে করোনা পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। 

কমিশনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রাদেশিক সরকার স্থানীয় সরকার গঠনে নির্বাচন দিতে দেরি করেছে এবং আদালত কর্তৃক বারবার তিরস্কার করা সত্ত্বেও আবারও বিভিন্ন অজুহাত ব্যবহার করেছে। 

ইন্টারন্যাশনাল দ্য নিউজের সম্পাদকীয়তে বলা হয়েছে, এটি নির্বাচন আইন-২০১৭ এর চূড়ান্ত লঙ্ঘন। স্থানীয় সরকারের কার্যকর ব্যবস্থা না নিতে পারার কারণে দেশটিতে করোনা মহামারি ভয়াবহ রূপ নিয়েছে।

২০২০ সালে পাকিস্তানে উদ্বেগজনক হারে ডিজিটাল বিভাজন স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। মানবাধিকার কমিশনের প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, বেলুচিস্তানের অঞ্চল এবং খাইবার পাখতুনখার উপজাতি জেলাগুলো, পাশাপাশি গিলগিত-বালতিস্তানের বেশিরভাগ অঞ্চলে অনলাইনে ক্লাস নেওয়ার কথা বলা হয়। তারা এর জন্য ভালো ইন্টারনেট সংযোগের কথা বলেছিল। কিন্তু এই অঞ্চলগুলোতে ইন্টারনেট সংযোগ ছিল খুবই দুর্বল। এর কারণে এই এলাকার অনেকে অনলাইন ক্লাসে অংশ নিতে পারেনি। এর ফলে বিভাজন বেড়েছে। সেইসঙ্গে পাকিস্তানে বিভিন্ন বিষয়ে বিক্ষোভ বেড়েছে। তা নিয়ে সংবাদ প্রকাশ করা হয়েছে। দেশটিতে মত প্রকাশের স্বাধীনতা বৃদ্ধির উপর নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।

সম্পাদকীয়তে বলা হয়েছে, আন্তর্জাতিকভাবে এবং জাতীয়ভাবে প্রতিবেদনগুলোর গুরুত্ব রয়েছে এবং তাদের সুপারিশগুলো একবারের জন্য হলেও বাস্তবায়ন করতে হবে।

মানবাধিকারের নিয়মিত যে লঙ্ঘন হচ্ছে সে দিকে কর্তৃপক্ষের মনোযোগ দেওয়ার কথা বলা হয়েছে সম্পদকীয়তে। সেখানে বলা হয়েছে, দেশটির সরকারকে সংবিধান অনুযায়ী চলার জন্য চাপ দেওয়া উচিত।

মন্তব্য করুন