ঢাকায় নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত লি ঝিমিং সোমবার কূটনৈতিক প্রতিবেদকদের সংগঠন ডিক্যাব আয়োজিত 'ডিক্যাব টকে' বলেছেন, বাংলাদেশ কোয়াডে যোগ দিলে চীনের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক 'যথেষ্ট খারাপ' হবে। চীনা রাষ্ট্রদূতের এই মন্তব্য নিয়ে মঙ্গলবার প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন। তিনি বলেছেন,কোয়াড নিয়ে চীন আগ বাড়িয়ে কথা বলছে। কারণ কোয়াড নিয়ে এখনও কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। এছাড়া বাংলাদেশ স্বাধীন, সার্বভৌম দেশ হিসেবে সিদ্ধান্ত নেবে।

এমন পরিস্থিতিতে বিষয়টি নিয়ে সমকালের সঙ্গে কথা বলেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক ড. ইমতিয়াজ আহমেদ

কোয়াড নিয়ে বলতে গেলে কয়েকটি বিষয় বলতে হয়। প্রথমত, চীনা রাষ্ট্রদূত কিন্তু আগ বাড়িয়ে কোয়াডে বাংলাদেশের যোগ দেওয়া বা না দেওয়া নিয়ে মন্তব্য করেননি। সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি তার দেশের অবস্থান ব্যক্ত করেছেন। দ্বিতীয়ত, ঐতিহাসিকভাবে বাংলাদেশ কখনোই কোনো ধরনের নিরাপত্তা জোটে যায়নি। ইরাক -কুয়েত যুদ্ধের সময় যত ধরনের জোট হয়েছে, কোনটাতেই বাংলাদেশ যোগ দেয়নি। সুতরাং কোয়াডে বাংলাদেশের যোগ দেওয়া নিয়ে চীনের উদ্বেগের কারণ আছে বলে মনে করি না।

তাছাড়া বাংলাদেশ কোয়াডে যোগ দিচ্ছে- এমন আগ্রহ বা সম্ভাবনাও বাংলাদেশ সৃষ্টি করেনি। ফলে এ ইস্যুটিকে এ মুহূর্তে কূটনৈতিক চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা কিংবা আলোচনায় নিয়ে আসার যুক্তিসঙ্গত কারণ নেই।

মহামারির আগের কোয়াড আর মহমারিপরবর্তী কোয়াডের ভবিষ্যৎ এক হবে কীনা- তা নিয়েও প্রশ্ন আছে। করোনায় বিপর্যস্ত ভারতের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক এখন আর আগের মতো নেই। যুক্তরাষ্ট্রের কাছে টিকা তৈরির কাঁচামাল চেয়ে ভারত তা সময়মতো পায়নি। তাই সম্পর্কটা যে আগের অবস্থায় থাকছে না, সেটা সহজেই অনুমান করা যায়।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের তো বটেই, কোয়াড জোটের সদস্য দেশ ভারত ও জাপানের অর্থনীতি করোনায় মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আরেক সদস্য দেশ অস্ট্রেলিয়ার অর্থনীতিও নড়েছে।  চীন আবার অনেক ব্যাপারে অস্ট্রেলিয়ার ওপর বিধিনিষেধ চাপিয়েছে। সুতরাং কোয়াড জোটের ভবিষ্যৎ কি-  তা নিয়ে প্রশ্ন থাকছেই।

অন্যদিকে ভারতের মোদি সরকার চীন থেকে অক্সিজেন নেওয়ার ব্যাপারে ইতিবাচক মনোভাব দেখিয়েছে। সুতরাং এটা বুঝতে হবে, মহামারি পূর্ববর্তী ও মহামারি পরবর্তী অবস্থা এক নয়। বরং মহামারি পরবর্তী বিভিন্ন ধরনের গঠনমূলক প্ল্যাটফর্ম গড়ে ওঠার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে, যা নিয়ে চীন, আফগানিস্তানসহ অনেক দেশ এরইমধ্যে আগ্রহ দেখিয়েছে। বাংলাদেশ বরং এরকম জোটে যোগ দেওয়ার ব্যাপারে আগ্রহী হতে পারে।

বিষয় : মন্তব্য অধ্যাপক ইমতিয়াজ আহমেদ

মন্তব্য করুন