ঈদুল আজহাকে ঘিরে আগে থেকেই বেশ কিছু মসলা পণ্যের দাম বাড়িয়ে দিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। সপ্তাহের ব্যবধানে হলুদ, শুকনা মরিচ, আদা, ছোট এলাচ ও ধনিয়ার দাম বেড়েছে। আর আগের সপ্তাহে পেঁয়াজ ও রসুনের দাম বাড়িয়ে দিয়েছেন তারা।

ঈদে মসলার দাম স্থিতিশীল রাখতে গত সপ্তাহেই বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন দ্রব্যমূল্য মনিটরিং সেলের কর্মকতারা। ওই বৈঠকে ব্যবসায়ীরা করোনা মহামারির এই সময়ে মসলা পণ্যের দাম স্বাভাবিক রাখার আশ্বাস দেন; কিন্তু সেটা কাজে আসেনি।

সপ্তাহের ব্যবধানে রাজধানীর বাজারগুলোতে আদার দাম কেজিতে ৬০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। গতকাল শুক্রবার রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, আমদানি করা আদার কেজি বিক্রি হচ্ছে ১৬০ থেকে ১৮০ টাকা, যা এক সপ্তাহ আগে ছিল ১০০ থেকে ১২০ টাকার মধ্যে। আর দেশি আদা ছিল ৮০ থেকে ১০০ টাকা। তা এখন বিক্রি হচ্ছে ১২০ থেকে ১৩০ টাকায়।

মিরপুর-১ নং বাজারের ব্যবসায়ী নাসির উদ্দিন বলেন, পাইকারিতে হঠাৎ করে আমদানি করা আদার দাম বেড়েছে। এর ফলে সব ধরনের আদার দাম বেড়ে গেছে। আড়তদাররা তাদের জানিয়েছেন, এবার ঈদের আগে আমদানি করা আদা এখনও পর্যাপ্ত আসেনি; কিন্তু এর আগেই চাহিদা বেড়ে গেছে। এ কারণে দাম বাড়ছে। তবে আমদানি আদার সরবরাহ বাড়লে দাম আবার কমতে পারে।

হলুদ ও শুকনা মরিচের দামও বেড়েছে। মরিচের চাহিদার একটা বড় অংশ পূরণ হচ্ছে আমদানির মাধ্যমে। সপ্তাহের ব্যবধানে আমদানি করা শুকনা মরিচের দাম কেজিতে ২০ টাকা বেড়ে ২৫০ থেকে ২৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তবে দেশি মরিচ ২০০ থেকে ২২০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে। দেশি হলুদের দাম বেশি বেড়েছে। কেজিতে ২০ টাকা বেড়ে ১৬০ থেকে ২২০ টাকা হয়েছে। আমদানি করা হলুদ কেজিতে ১০ টাকা বেড়ে ১৫০ থেকে ১৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ধনিয়ার দাম প্রায় একই হারে বেড়ে কেজি বিক্রি হচ্ছে ১৩০ থেকে ১৫০ টাকায়। এলাচের কেজি ৫০ টাকা বেড়ে মানভেদে দুই হাজার ২০০ থেকে সাড়ে তিন হাজার টাকা হয়েছে।

এ ছাড়া আগের সপ্তাহে আমদানি করা রসুনের কেজিতে ২০ টাকা ও পেঁয়াজের কেজিতে পাঁচ টাকা বেড়েছিল। গত সপ্তাহে নতুন করে আমদানি করা পেঁয়াজের দাম আরও পাঁচ টাকা বেড়েছে। এর ফলে বর্তমানে দেশি ও আমদানি পেঁয়াজ ৪৫ থেকে ৫০ টাকায় কিনতে হচ্ছে। এখন আমদানি রসুন বিক্রি হচ্ছে ১২০ থেকে ১৪০ টাকায় আর দেশি রসুন বিক্রি হচ্ছে ৭০ থেকে ৮০ টাকায়।

আগারগাঁও বাজারের ব্যবসায়ী সিকান্দার মিয়া বলেন, কোরবানির ঈদ এলে পাইকারি বাজারে মসলার দাম বাড়তে যৌক্তিক কারণ লাগে না। পাইকারিতে বাড়লে খুচরায় বেড়ে যাবে, এটা স্বাভাবিক। তবে এই সময়ে বাড়তি চাহিদার সুযোগ নিয়ে বেশি দামে বিক্রি করেন পাইকার ও আমদানিকারকরা। ফলে এর প্রভাব বাজারে পড়বেই।

রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের তথ্য অনুযায়ী, গত এক মাসের ব্যবধানে আমদানি করা পেঁয়াজের দাম ১৯ শতাংশ ও দেশি পেঁয়াজ ১২ শতাংশ দাম বেড়েছে। একই সময়ে সব ধরনের রসুনের দাম ৪ থেকে ৬ শতাংশ বেড়েছে। হলুদের দাম ৯ শতাংশ ও আদার দাম ২১ থেকে ২৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। লবঙ্গের দাম ১৫ শতাংশ বেড়ে কেজি এক হাজার ৮০ থেকে এক হাজার ১০০ টাকা হয়েছে। ধনিয়ার দাম ৮ শতাংশ বেড়েছে। আর তেজপাতার দাম ৩০ শতাংশ বেড়ে ১৫০ থেকে ১৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

এদিকে গত সপ্তাহে বেড়ে যাওয়া দামেই বিক্রি হচ্ছে ব্রয়লার মুরগি ও ডিম। এক কেজি ব্রয়লার মুরগি এখন ১৪০ থেকে ১৫০ টাকা, লেয়ার মুরগি ২৩০ থেকে ২৪০ টাকা ও সোনালি মুরগি ২০০ থেকে ২৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এ ছাড়া ফার্মের মুরগির ডিমের ডজন বিক্রি হচ্ছে ১০৫ থেকে ১১০ টাকায়।