জাতীয় দলের ড্রেসিংরুমের অস্থিরতার বিষয়টি পুরোনো। দল নির্বাচনে সিনিয়রদের পছন্দ-অপছন্দকেও যে গুরুত্ব দেওয়া হয় তাও 'ওপেন সিক্রেট'। শুধু খেলোয়াড়ই নয়, কোচ নিয়োগ বা মেয়াদ বৃদ্ধিতেও সিনিয়র ক্রিকেটারদের একটা প্রভাব থাকে। পেস বোলিং কোচ ওটিস গিবসনের চুক্তি নবায়ন না করা যার প্রকৃষ্ট উদাহরণ। গতকাল বেরিয়ে এসেছে জাতীয় দলের অন্দরমহলের আরও একটি ঘটনা। পেসার আবু জায়েদ রাহি জাতীয় দলে লবিংয়ের বিষয়টি সামনে এনেছেন। তাকে বাদ দেওয়ার পেছনে একজন ক্রিকেটার পেছন থেকে কলকাঠি নেড়েছেন বলেও অভিযোগ করেন।

রাহির এই বিস্ফোরক মন্তব্যের পর একটা জিনিস পরিস্কার, জাতীয় দলের ভেতরের যে খবরগুলো বাইরে আসে সেগুলো যথার্থই সত্য। সমর্থকরা তাই প্রশ্ন তুলতেই পারেন- জাতীয় দলেও লবিং হয় কিনা।

যতবারই জাতীয় দলের অন্দরমহলের খবর প্রকাশ পেয়েছে, বিসিবির চাপে ততবার অভিযুক্ত ক্রিকেটারকে ইউটার্ন করতে দেখা গেছে। বরাবরের মতো রাহিও ১৮০ ডিগ্রি উল্টো ঘুরে গেছেন। প্রধান নির্বাচক মিনহাজুল আবেদীন নান্নুকে ফোন করে তিনি জানান, জাতীয় দলে লবিংয়ের বিষয়ে তিনি কিছু বলেননি। মিডিয়া ভুলভাবে উপস্থাপন করেছে। ক্যারিয়ারের কথা ভেবেই রাহির এ অবস্থান পরিবর্তন। কারণ জাতীয় দলে ফেরার স্বপ্ন দেখেন তিনি। জাতীয় দল না হলেও 'এ' দলে অন্তত খেলতে চান। যে কারণে বারবারই বলছেন, লবিংয়ের বিষয়টি যেভাবে মিডিয়ায় এসেছে, তাতে তার ক্যারিয়ার শেষ। তিনি মনে করেন বাংলাদেশের বাস্তবতায় জাতীয় দলে না থাকলে আয়ের পথ সীমিত হয়ে যাবে। তাই সত্য চাপা দিতে নানা ব্যাখ্যা দিচ্ছেন।

রাহির 'লবিং' মন্তব্যে নির্বাচকরা বিচলিত নন। তবে টিম ডিরেক্টর খালেদ মাহমুদ একটি যৌক্তিক প্রশ্ন উত্থাপন করেছেন, রাহি তাহলে কার লবিংয়ে এতদিন জাতীয় দলে খেলেছেন? খালেদ মাহমুদই রাহিকে জাতীয় দলে খেলার স্বপ্ন দেখিয়েছিলেন। বিদেশে পড়ি জমাতে চাওয়া এই সুইং বোলারকে তিনি বলেছিলেন- 'বিদেশে গিয়ে কী করবে, ভালো করে খেলে জাতীয় দলে সুযোগ পাবে।' গত চার বছরে ১৩টি টেস্ট ম্যাচে খেলে ৩০ উইকেট শিকার তার। গত এক বছর ধরে একাদশে অনিয়মিত। তাসকিন, শরিফুল, এবাদত এই পেসার ত্রয়ীর উত্থানে জায়গা হারান রাহি।

হাবিবুল বাশার তো বলেই দিয়েছেন, টেস্টে ১৩৫ থেকে ১৪০ কিলোমিটার গতির ফাস্ট বোলার খেলাবেন তারা, যেটা রাহির নেই। বার্তা পরিস্কার, রাহির আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে দাঁড়ি টেনে দেওয়া হয়েছে। 

লক্ষণীয় ব্যাপার হলো, রাহির অভিযোগের পর টিম ম্যানেজমেন্ট বা বিসিবির কাছ থেকে কোনো প্রতিবাদ আসেনি। এই নীরবতায় আরও অনেক প্রশ্নের জন্ম দেয়। যার উত্তর অবশ্যই খুঁজতে হবে বিসিবির। সত্যিই কি আড়ালে-আবডালে কোনো লবিং চলে? সত্যিই দলের সঙ্গে থেকে না থেকেও কারও পছন্দ-অপছন্দ নির্বাচকরা এতটা গুরত্ব দেন কিনা?