ফাইনালে যেতে ২২৪ দরকার ইংল্যান্ডের

প্রকাশ: ১১ জুলাই ২০১৯     আপডেট: ১১ জুলাই ২০১৯      

অনলাইন ডেস্ক

ছবি: এএফপি

লর্ডসের বাস আগেই ধরেছে নিউজিল্যান্ড। ফাইনালের টিকিট বুকিং করতে লড়ছে ইংল্যান্ড-অস্ট্রেলিয়া। এশিয়ার পাঠ চুকে গেছে। বাকি তিন দলের নাম নিলেই রাগবি বিশ্বকাপ মনে উঁকি দেয়। তাদের মধ্যে যে বিশ্বকাপই হোক লড়াইটা জমাট। টিভিতে কিংবা গ্যালারিতে চোখ আটকে রাখার মতো। হার জিত ছাড়িয়ে যা সম্মানেরও। সেই লড়াইয়ে ব্যাগি গ্রিনদের শুরুতেই চিড়ে চ্যাপ্টা করে রাখে ইংল্যান্ড। শুরু থেকে শেষ অবধি অজি ব্যাটসম্যানদের ছড়ি ঘুরাতে দেয়নি পোমসরা। তবে স্টিভ স্মিথ নামে একজন ছিলেন। তার বিচক্ষণ ব্যাটিংয়ে ২২৩ রানের সংগ্রহ পেয়েছে অস্ট্রেলিয়া।

টস জিতে ব্যাটিং নেওয়া এক সময় অস্ট্রেলিয়া ক্রিকেটের ঐতিহ্য ছিল। এজবাস্টনের উইকেট আবার শুরুতে ব্যাটসম্যানদের বন্ধু বনে যায়। কিন্তু ইংলিশ বোলাররা অস্ট্রেলিয়ার ফাইনালে যাওয়ার পথটা শুরুতেই 'বন্ধুর' করে দেয়। অধিনায়ক এবং ওপেনার অ্যারন ফিঞ্চ গোল্ডেন ডাক মেরে ফেরেন। দুর্দান্ত ফর্মে থাকা ওয়ার্নার পেস-বাউন্সে পরাস্ত হয়ে স্লিপে ক্যাচ দেন ৯ রানে। এরপরই উসমান খাজার জায়গায় সেমিফাইনালে খেলতে নামা পিটার হ্যান্ডসকম্ব আউট হন। সেমিফাইনালের চাপ নিতে পারেননি তিনি। চ্যাম্পিয়নসরা ২৪ রানে হারায় ৩ উইকেট। 

শুরুর বিপর্যয় কাটিয়ে উঠতে শেষ অবধি লড়ে গেছেন সিরিস কাগজ কান্ডে এক বছর নিষিদ্ধ থাকা স্টিভ স্মিথ। প্রতিভা এবং ক্লাস ছাই চাপা দিয়ে রাখা যায় না স্মিথ তার প্রমাণ দিয়েই চলেছেন। তিনি খেলেন ৮৫ রানের দারুণ এক ইনিংস। এক পাশে দাঁড়িয়ে থেকে ছয় সতীর্থকে সাজঘরে ফিরতে দেখেছেন তিনি। কিন্তু বিচলিত হননি। শেষ অবধি বাটলারের থ্রো'তে রান আউটে সেঞ্চুরি বঞ্চিত হয়ে ফেরেন স্মিথ।

স্মিথের সঙ্গে ইংল্যান্ডের দুর্দান্ত পেস আক্রমণের বিপক্ষে লড়াই করেন অ্যালেক্স কেরি। ক্রিজে সেট হওয়ার আগেই জোফরা আর্চারের এক গোলা তার গেলমেটে এসে লাগে। মাঠেই প্রাথমিক চিকিৎসা নিতে হয় তাকে। মাথা-মুখে ব্যান্ডেস পেঁচিয়ে খেলে যান তিনি। তবে আদিল রশিদের ঘূর্ণিতে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন ৪৬ রানে। স্মিথের সঙ্গে তিনি গড়েন ১০৩ রানের জুটি। কেরি ফিরতেই আবার ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়ে অজিরা। মার্কোস স্টইনিস ডাক মেরে ফেরেন। গ্লেন ম্যাক্সওয়েল সেট হয়ে ২২ করে ফিরে যান। শেষ দিকে মিশেল স্টার্কের ২৯ রান তাই দুইশ' ছাড়ানো পুঁজি পায় অজিরা।

পোমসরা দুর্দান্ত বোলিং এ ম্যাচে করেছেন। ক্রিস ওকস ৮ ওভারে মাত্র ২০ রান দিয়ে নিয়েছেন ৩ উইকেট। জোফরা আর্চার দিয়েছেন ১০ ওভারে মাত্র ৩২ রান। নিয়েছেন দুই উইকেট। ইয়ম মরগান দারুণ নেতৃত্ব দিয়েছেন। আর্চারকে স্লগ ওভারের জন্য বসিয়ে না রেখে মিডলে বোলিং করিয়েছেন। গ্লেন ম্যাক্সওয়েলকে ফিরিয়ে আর্চারও দারুণ ব্রেক থ্রু দিয়েছেন। ইংল্যান্ডের উইকেটে রিস্ট স্পিনারের ভূমিকা অনন্য হবে বলে কথা ছিল। আদিল রশিদ গুরুত্বপূর্ণ ৩ উইকেট নিয়ে সেটা দেখিয়ে দিয়েছেন। এখন ব্যাট হাতে রয়-রুটদের দেখানোর পালা। সামলানোর পালা স্টার্ক-কামিন্সদের।

বিষয় : খেলা ক্রিকেট ইংল্যান্ড বিশ্বকাপ-২০১৯ অস্ট্রেলিয়া-ইংল্যান্ড