রাজ্জাককে নির্বাচক হওয়ার প্রস্তাব

প্রকাশ: ২২ মার্চ ২০২০     আপডেট: ২২ মার্চ ২০২০       প্রিন্ট সংস্করণ

আলী সেকান্দার

আব্দুর রাজ্জাক

আব্দুর রাজ্জাক

ফারুক আহমেদ প্রধান নির্বাচকের পদ ছেড়ে দেওয়ার পর জাতীয় দল নির্বাচক প্যানেল আর পূর্ণতা পায়নি। মিনহাজুল আবেদীন নান্নু ও হাবিবুল বাশারের দুই সদস্যের নির্বাচক প্যানেলই কাজ চালিয়ে নিচ্ছে। জাতীয় দলের নির্বাচক হওয়ার মতো পরিচ্ছন্ন ইমেজের কাউকে খুঁজে না পাওয়ায় চার বছর হয়ে গেলেও তৃতীয় নির্বাচক নিয়োগের অপেক্ষা ফুরোয়নি। দেরিতে হলেও দক্ষ ও পরিষ্কার ইমেজের ক্রিকেটারদের থেকে একজনকে নির্বাচক প্যানেলের তৃতীয় সদস্য করার চিন্তাভাবনা করছে বিসিবি। বাঁহাতি স্পিনার আব্দুর রাজ্জাকের ব্যাপারে আগ্রহ বোর্ডের। তৃতীয় পক্ষের মাধ্যমে রাজ্জাকের মতামত জানার চেষ্টা করেছেন বিসিবি ক্রিকেট পরিচালনা বিভাগের চেয়ারম্যান আকরাম খান। ঢাকা প্রিমিয়ার লিগে খেলার কারণে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে কিছুটা সময় চেয়ে নিয়েছেন মোহামেডানের এ স্পিনার।

বিসিবি চায় টেস্ট ক্রিকেটারদের থেকে একজনকে নির্বাচক প্যানেলে নিতে। তাদের মধ্যে জাতীয় দলের সাবেক পেসার মঞ্জুরুল ইসলামের নাম অনেক দিন ধরেই আলোচনায়। তালিকায় নতুন যোগ হয়েছে বাঁহাতি স্পিনার রাজ্জাক ও শাহরিয়ার নাফীসের নাম। মঞ্জু কোচিং পেশায় থাকলেও পরের দু'জন এখনও খেলছেন। রাজ্জাকের ক্যারিয়ার প্রায় শেষের দিকে। ৩৮ বছর হতে বেশি দেরি নেই তার। ৩৫ বছর ছুঁই ছুঁই শাহরিয়ার নাফীস আরও কিছুদিন খেলা চালিয়ে নিতে পারবেন চাইলে। তবে ইমেজ ও ক্যারিয়ার চিন্তা করলে এই তিনজনের মধ্যে রাজ্জাকই প্রথম পছন্দ হওয়ার কথা। আকরাম খান বলেন, 'হাবিবুল বাশারকে বলেছিলাম রাজ্জাকের সঙ্গে কথা বলতে। লিগের খেলার কারণে রাজ্জাক সিদ্ধান্ত নিতে সময় চেয়েছে। সে বোধহয় লিগে আরও খেলতে চায়।'

বিসিবি থেকে প্রস্তাব পাওয়ার বিষয়টি সমকালকে নিশ্চিত করেন রাজ্জাক। বাঁহাতি এ স্পিনারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, 'হ্যাঁ, আমার সঙ্গে কথা হয়েছে। একটু ভেবে সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য সময় চেয়েছি। প্রিমিয়ার লিগের খেলা শেষ করে জানাতে চেয়েছিলাম। লিগের খেলাও তো স্থগিত হয়ে গেল। এখন বিষয়টি নিয়ে ভেবে দেখব।'

প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে রাজ্জাক এখনও প্রথম সারির উইকেটশিকারিদের একজন। ঢাকা প্রিমিয়ার লিগেও চাহিদা আছে তার। নিয়মিত লিগে খেলতে পারলে আর্থিক লাভ বেশি। এ কারণেই সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে সময় নিচ্ছেন বাগেরহাটের এ ক্রিকেটার, 'খেলা ছেড়ে দিয়ে নতুন কাজে যেতে হবে। সত্যি কথা বলতে, এটা সহজ সিদ্ধান্ত না। যে কোনো সিদ্ধান্ত ভেবেচিন্তে নেওয়া ভালো। তাতে আফসোস থাকবে না।'

শেষ পর্যন্ত রাজ্জাক রাজি না হলে বিকল্প একজনের ব্যাপারে বোর্ডে প্রস্তাব করা হতে পারে। কারণ নির্বাচক প্যানেলের দুই সদস্যই চান তৃতীয় নির্বাচক নিয়োগ দিক বিসিবি। নান্নু ও বাশারের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, তিনজনকে নিয়ে নির্বাচক প্যানেল হলে ঘরোয়া লিগের খেলা কভার করতে সুবিধা। খেলোয়াড় বাছাই ও নির্বাচন কাজও ভালো হয় বলে জানান তারা।

২০১৬ সালে জাতীয় দলের সাবেক কোচ চান্ডিকা হাথুরুসিংহেকে অন্তর্ভুক্ত করতে দুই স্তরের নির্বাচন ব্যবস্থার বিরোধিতা করে প্রধান নির্বাচকের চাকরিতে ইস্তফা দেন ফারুক। এরপর নান্নুকে প্রধান করে সাজ্জাদুল আলম শিপনকে নিয়ে দুই সদস্যের নির্বাচক প্যানেল গঠন করে বিসিবি। হাবিবুল বাশারকে চুক্তি দেওয়া হয় নারী ক্রিকেটের নির্বাচক হিসেবে। পরে সাজ্জাদ জুনিয়র নির্বাচকের পদে ফিরে গেলে বাশারকে নান্নুর কমিটির সদস্য করা হয়। সেই থেকেই দুই সদস্যের জাতীয় দল নির্বাচক প্যানেল।