সুনসান শেরেবাংলায় একা ক্রিকেটার শামসুর রহমান

প্রকাশ: ২৩ মার্চ ২০২০     আপডেট: ২৪ মার্চ ২০২০       প্রিন্ট সংস্করণ

ক্রীড়া প্রতিবেদক

গতকাল মিরপুরে খানিকটা ঘাম ঝরান শামসুর রহমান শুভ- সমকাল

গতকাল মিরপুরে খানিকটা ঘাম ঝরান শামসুর রহমান শুভ- সমকাল

মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামের দুই নম্বর গেটে বসা দু'জন আনসার সদস্য। বিসিবি কার্যালয়ে অলস বসে আছেন নিরাপত্তারক্ষীদের কেউ কেউ। অ্যাকাউন্টস বিভাগের কয়েকজন এসেছেন জরুরি কিছু কাজে। বাকি বিভাগগুলো কর্মীহীন। শুধু সবুজ মাঠের ভেতরে কাজে ব্যস্ত কয়েকজন কর্মী। আগাছা বাছাই, পিচের যত্ন-আত্তিতে নিবিষ্ট মনে কাজ করে যাচ্ছেন 'গ্রাউন্ডসম্যানরা'। বিসিবি একাডেমি মাঠেও শুধু মাঠকর্মীদের উপস্থিতি।

এক সপ্তাহ আগেও দেশের সবচেয়ে ব্যস্ত ক্রীড়া ফেডারেশনের এই নীরবতা কল্পনা করা যায়নি। বরং লিগের খেলার প্রস্তুতি নিতে রমরমা ছিল মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়াম। ছোঁয়াচে করোনাভাইরাসের বিস্তার ঠেকাতে বিসিবি কর্মকর্তা ও কর্মচারীদেরও বাসা থেকে কাজের সুযোগ করে দেওয়া হয়েছে। জরুরি কাজ ছাড়া কাউকেই অফিসে আসতে হচ্ছে না। গতকাল থেকেই এই নিয়ম কার্যকর করেছে বোর্ড।

এই স্বেচ্ছায় ঘরবন্দি হওয়ার সময়েও জাতীয় দলের সাবেক ব্যাটসম্যান শামসুর রহমান শুভকে দেখা গেল শেরেবাংলার মূল মাঠে দৌড়াতে। ফাঁকা মাঠে একাই দৌড়ঝাঁপ করছিলেন তিনি। অভিজ্ঞ এই ক্রিকেটার জানালেন, বাসায় থাকতে দম বন্ধ হয়ে আসছিল তার। তাই মানুষের স্পর্শ এড়িয়ে ব্যক্তিগত গাড়ি নিয়ে চলে এসেছিলেন মিরপুরে। কিছুক্ষণ ফিটনেস নিয়ে কাজ করে নিরাপদে বাসায়ও ফিরে গেছেন শামসুর রহমান।

গতকাল শেরেবাংলা স্টেডিয়ামের জিম তালাবদ্ধ ছিল। ক্রিকেটারদের আপাতত নিরুৎসাহিত করতেই এই উদ্যোগ বিসিবির। একাডেমি ভবন ও ইনডোরের গেটও খেলা হয়নি। একাডেমি মাঠের নেটগুলোও খুলে ফেলা হয়েছে। কারণ একটাই, ক্রিকেটাররা যাতে স্বেচ্ছায় ঘরবন্দি থাকেন। দেশ থেকে করোনাভাইরাস নির্মূল বা পরিস্থিতির উন্নতি না হওয়া পর্যন্ত 'লকডাউন' থাকতে পারে হোম অব ক্রিকেট। শুধু মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামই নয়, দেশের সব ক্রিকেট ভেন্যুতেই ক্রিকেটারদের অনুশীলন বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। খেলোয়াড়দের নিরাপত্তার কথা ভেবেই এই সিদ্ধান্ত বোর্ডের।

এই কঠিন পরিস্থিতিতেও স্বাস্থ্যবিধি মেনে কেউ কেউ হয়তো হোম অব ক্রিকেটে আসবেন ফিটনেস নিয়ে কাজ করতে। হঠাৎ দেখা যেতে পারে মুশফিকুর রহিমকে স্টেডিয়ামের সবুজ জমিনে ব্যাটে-বলে ঠোকাঠুকি করতে। গতকাল শামসুর রহমানের সঙ্গে কথা বলে বোঝা গেল, ফাঁকা মাঠে প্র্যাকটিস করার সুযোগটা আবারও নেবেন তিনি, 'মাঠে যেহেতু কেউ নেই, তাই সমস্যা হবে না। মানুষের ভিড়ে না গেলেই হলো। আর স্টেডিয়ামে তো লোকজনই নেই। পরিস্থিতি বুঝে কখনও কখনও দৌড়ঝাঁপ তো করতেই হবে।'