তিন অধিনায়ককে ডমিঙ্গোর ফোন

প্রকাশ: ২৪ মার্চ ২০২০     আপডেট: ২৪ মার্চ ২০২০       প্রিন্ট সংস্করণ

ক্রীড়া প্রতিবেদক

জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে সিরিজ শেষ করেই দেশে ফিরে গেছেন কোচ রাসেল ডমিঙ্গো। সংক্ষিপ্ত ছুটি কাটিয়েই ঢাকায় ফেরার কথা ছিল তার। সেই ডমিঙ্গোই এখন দক্ষিণ আফ্রিকায় ঘরবন্দি। ছোঁয়াচে করোনাভাইরাসের ভয়াল থাবা থেকে বাঁচতে পরিবার নিয়ে নিজের বাড়িতেই আছেন। সাত সমুদ্র তেরো নদীর ওপারে দক্ষিণ আফ্রিকায় থাকলেও ডমিঙ্গোর মন পড়ে আছে বাংলাদেশে।

পেশাদার কোচদের যেমন মানসিকতা থাকে আর কী। তাই তো সুদূর দক্ষিণ আফ্রিকা থেকেও ঢাকায় ক্রিকেটারদের সঙ্গে যোগাযোগ রেখেছেন তিনি। টাইগার প্রধান কোচ সোমবার ফোনে সমকালকে জানান, তিন সংস্করের তিন অধিনায়কের সঙ্গে রোববার কথা হয়েছে তার। মাহমুদুল্লাহ, তামিম, মুমিনুলের কাছ থেকে ক্রিকেটারদের খোঁজখবর নিয়েছেন তিনি। যোগাযোগ রেখেছেন জাতীয় দলের দেশি-বিদেশি কোচদের সঙ্গে।

করোনাভাইরাসের ভয়াল থাবা বিশ্বের প্রায় সব দেশেই পড়েছে। বাংলাদেশের মতো দক্ষিণ আফ্রিকাতেও এই ভাইরাসে আক্রান্ত হচ্ছে। দিন দিন মৃত্যুর মিছিল বড় হচ্ছে। বৈশ্বিক এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় বাংলাদেশের খেলোয়াড়দের সাহস রাখার পরামর্শ দেন ডমিঙ্গো, 'এটা কোনো এক দেশের সমস্যা নয়। পুরো বিশ্ব আতঙ্কিত। ভালো সময়ের জন্য অপেক্ষা করা ছাড়া কারোই কিছু করার নেই। সর্বত্র খেলাধুলা বন্ধ হয়ে গেছে। দক্ষিণ আফ্রিকায় কোথাও কোনো খেলা নেই। আমি ছেলেদের বলব, তোমরা ধৈর্য ধরে কয়েকটা দিন বাসায় অবস্থান করো। বুঝতে পারছি সবার কষ্ট হচ্ছে। এ ছাড়া কিছু করারও নেই। আমি বাসায় আছি, তোমরাও থাক।'

ডমিঙ্গোর প্রত্যাশা করোনাভাইরাসের হাত থেকে মানুষ দ্রুত মুক্তি পাবে। বিশ্বের খেলাধুলা আবারও স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরবে। তিনিও টি২০ বিশ্বকাপ নিয়ে পরিকল্পনা এগিয়ে নেওয়ার সুযোগ পাবেন, 'সামনে টি২০ বিশ্বকাপ। সময়টা ভালো থাকলে অনেক কিছুই করার ছিল। সেটা তো সম্ভব হচ্ছে না, তাই বাসায় বসে পরিকল্পনা পর্যায়ের কাজগুলো করছি। আশা করি ক্রিকেটাররাও ঘরে বসে ফিটনেস ওয়ার্কটা করবে। ঢাকার বাস্তবতায় তারা তো মাঠে যেতে পারবে না। ওখানে ফাঁকা মাঠ খুব কম, প্রচুর মানুষ। এখানে দক্ষিণ আফ্রিকায় চাইলেই মাঠে যাওয়া যায়।

রোববার ফোনে মুমিনুল, তামিম, মাহমুদুল্লাহর সঙ্গে আমার কথা হয়েছে। ওরা ভালো আছে। সবাই জানাল বাসাতেই থাকছে। সীমাবদ্ধতার মধ্যেও ওরা ওদের কাজ করবে নিঃসন্দেহে। আমাদের কোচিং স্টাফের সদস্যদের সঙ্গেও যোগাযোগ রাখছি। সবাই ভালো আছেন। আমরা প্রস্তুত থাকব, যাতে করে পরিস্থিতির উন্নতি হলে কাজ দ্রুত এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হয়।'

কোচের কাছ থেকে ফোন পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেন টি২০ অধিনায়ক মাহমুদুল্লাহ। তিনি বলেন,'কোচের সঙ্গে বার্তা বিনিময় হয়েছে। তিনি খোঁজখবর নিচ্ছিলেন। সময়ে সময়ে আরও কথা হবে নিশ্চয়ই।'

আগামী বছর অক্টোবর-নভেম্বরে টি২০ বিশ্বকাপ। সব ঠিকঠাক থাকলে নেতৃত্বে থাকবেন মাহমুদুল্লাহ। করোনাভাইরাসে বিশ্বের মানুষ আক্রান্ত হলেও অস্ট্রেলিয়ায় অনুষ্ঠেয় টি২০ বিশ্বকাপ পেছানো বা স্থগিতের ব্যাপারে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। পরিস্থিতি ভালো হয়ে গেলে বিশ্বকাপের জন্য নতুন করে প্রস্তুত হতে হবে টাইগারদের। এই বিরূপ পরিস্থিতির মধ্যেও সেটা মাথায় রেখেছেন কোচ রাসেল ডমিঙ্গো।