ঢাকার আশেপাশের জেলা বা উত্তরবঙ্গের কোনো স্থানে গিয়ে যাত্রী সেজে ইজিবাইকে ওঠে তারা। এরপর সুবিধাজনক স্থানে চালককে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে ইজিবাইক ছিনিয়ে নেয়। এক্ষেত্রে কেউ বাধা দিলে খুন করতেও দ্বিধা করে না। সর্বশেষ নীলফামারীতে চালক আব্দুল হালিমকেও এই কারণে হত্যা করে তারা। বেপরোয়া এই ছিনতাইকারী চক্রের তিন সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলো- মাসুম আলী, সাদের আলী ও মো. সমবারু। রোববার নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ থানার মইকুলী এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তাদের কাছ থেকে হত্যায় ব্যবহৃত একটি ছুরি ও ইজিবাইক বিক্রির চুক্তিনামা উদ্ধার করা হয়।

ছিনতাইকারীদের গ্রেপ্তারের বিষয়ে জানাতে সোমবার দুপুরে সিআইডি সদর দপ্তরে এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। এতে সিআইডির ডিআইজি শেখ নাজমুল আলম বলেন, চক্রের মূলহোতা পলাতক রয়েছে। তাকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। সংঘবদ্ধ এই চক্রের সদস্যরা ঢাকার আশেপাশে বসবাস করে। তাদের একজনের বাড়ি গাইবান্ধায়। ইজিবাইক ছিনতাইয়ের উদ্দেশে তারা বিভিন্ন স্থানে ঘুরে বেড়ায়। তারা ঢাকা থেকে নীলফামারীতে গিয়ে একটি ইজিবাইক ছিনতাই করে সেটি ৭৬ হাজার টাকায় বিক্রি করে।

সিআইডির এই কর্মকর্তা জানান, চক্রের সদস্যরা ২১ ফেব্রুয়ারি রাত সোয়া ১১টার দিকে যাত্রীবেশে আব্দুল হালিমের ইজিবাইকে ওঠে। পরে তারা পথের এক জায়গায় থেমে চালকের হাত-পা বেঁধে ধারালো অস্ত্র দিয়ে পেটসহ শরীরের বিভিন্ন জায়গায় আঘাত করে। পরদিন সকাল ১০টার দিকে ইটাপীড় সেতু সংলগ্ন সড়কের পাশের গর্তে হালিমের রক্তাক্ত লাশ পাওয়া যায়। খবর পেয়ে দুপুরে লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় নীলফামারী সদর থানায় একটি হত্যা মামলা হয়। জেলা পুলিশের পাশাপাশি সিআইডির এলআইসি শাখা মামলাটির ছায়াতদন্ত শুরু করে। একপর্যায়ে জড়িতদের শনাক্ত করা সম্ভব হয়।

মন্তব্য করুন