সাড়ে তিন বছর বয়সী ছোট ছেলে আবদুল্লাহকে মারধর করেছিলেন গৃহবধূ পারভীন আক্তার। এতে ক্ষিপ্ত হন তার বড় ছেলে সজীব আহমেদ। তিনি আধলা ইট দিয়ে মায়ের মাথায় আঘাত করেন। এতে তার মৃত্যু হয়। সোমবার আদালতে দেওয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে সজীব এসব তথ্য উল্লেখ করেন। পরে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।

গত ৩০ এপ্রিল রাজধানীর যাত্রাবাড়ীর কাজলায় ছেলের হাতে খুন হন ৪৫ বছর বয়সী পারভীন। এ ঘটনায় তার আরেক ছেলে লিটন ভুঁইয়া বাদী হয়ে যাত্রাবাড়ী থানায় মামলা করেন। এরপর ১ মে রাতে র‌্যাব-১০ এর একটি দল মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া থানার আড়ালিয়া এলাকা থেকে সজীবকে গ্রেপ্তার করে। পরে তাকে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা যাত্রাবাড়ী থানার এসআই অভিজিৎ পোদ্দার সমকালকে বলেন, পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদ ও আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে একইরকম তথ্য দিয়েছেন সজীব। ঘটনার সময় তার ছোট ভাই খাবারের জন্য কান্নাকাটি করছিল। এতে বিরক্ত হয়ে তাকে পিটুনি দেন পারভীন। তাতে আরও জোরে চিৎকার করে কাঁদতে থাকে শিশুটি। তখন ক্ষিপ্ত হয়ে সজীব তার মাকে লক্ষ্য করে ইটের টুকরো ছুড়ে দেন। তবে সেটি তার গায়ে লাগেনি। এরপর তিনি অর্ধেক ইট নিয়ে মায়ের মাথা বারবার আঘাত করেন। তখন রক্তাক্ত অবস্থায় মাটিতে লুটিয়ে পড়েন তার মা। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

তদন্ত কর্মকর্তা আরও জানান, সজীবের ভাষ্য অনুযায়ী তার মা অতিরিক্ত রাগী গোছের মানুষ ছিলেন। তুচ্ছ ঘটনাতেই তিনি প্রচুর চিৎকার-হৈচৈ করতেন। সজীব যাত্রাবাড়ীর সামাদনগর এলাকার একটি ওয়ার্কশপে কাজ করতেন। তবে সেখানে নিয়মিত যেতেন না। এ নিয়েও তার মা খুব বকাঝকা করতেন। এসব নিয়ে সজীব খুব বিরক্ত ছিলেন। এরমধ্যেই সেদিন ছোটভাইকে মারতে দেখে তিনি খুব ক্ষেপে যান। আর রাগের মাথায় মাকে আঘাত করেন। তবে হত্যার কোনো উদ্দেশ্য ছিল না বলে দাবি তার।

তদন্ত সূত্র জানায়, সজীবকে সোমবার আদালতে হাজির করা হলে তিনি স্বেচ্ছায় জবানবন্দি দিতে আগ্রহ প্রকাশ করেন। এরপর ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম শাহিনুর রহমান ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় তার জবানবন্দি রেকর্ড করেন।

এদিকে নিহতের বাবা লিটন মিয়া ঘটনার পর সাংবাদিকদের জানান, তার ছেলে কিছুদিন ধরে বিয়ে করতে চাইছিলো। তাকে কেন বিয়ে দেওয়া হচ্ছে না- এ নিয়ে বাকবিতণ্ডার জেরেই খুনের ঘটনা ঘটে। তবে পুলিশের তদন্ত ও জিজ্ঞাসাবাদে এরকম কোনো তথ্য মেলেনি বলে জানান তদন্ত কর্মকর্তা।

পরিবারের সঙ্গে যাত্রাবাড়ীর কাজলার উত্তরপাড়া এলাকায় থাকতেন সজীব। সেখানেই খুনের ঘটনা ঘটে।

মন্তব্য করুন