করোনাভাইরাসের সংক্রমণ রোধে চলমান লকডাউনের নিষেধাজ্ঞার মধ্যেও অধিক লাভের আশায় পদ্মা নদীতে দুর্ঘটনায় পড়া স্পিডবোটটি চালানো হচ্ছিল। দ্বিগুণ ভাড়ায় ধারণ ক্ষমতার দেড়গুণের বেশি যাত্রীও তোলা হয়েছিল। র‌্যাব সদস্যরা ওই স্পিডবোটের অন্যতম মালিক চাঁন মিয়া ওরফে চান্দু মোল্লাকে গ্রেপ্তারের পর তিনি প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে এসব তথ্য জানিয়েছেন। শনিবার গভীর রাতে ঢাকার কেরাণীগঞ্জ এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

চান্দু মোল্লাকে গ্রেপ্তারের তথ্য জানিয়ে রোববার বিকেলে রাজধানীর কারওয়ান বাজারে র‌্যাবের মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলন করেন কর্মকর্তারা। সেখানে র‌্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন বলেন, স্পিডবোটের মালিক চান্দু মোল্লার নির্দেশেই সেদিন সেটি অধিক যাত্রী নিয়ে ছেড়ে যায়। এই ব্যক্তির তিনটি স্পিডবোট রয়েছে। তার একটিরও বৈধ কোনো কাগজপত্র বা অনুমোদন নেই।

গত ৩ মে মুন্সিগঞ্জের শিমুলিয়া ঘাট থেকে মাদারীপুরের শিবচরের বাংলাবাজারের উদ্দেশে স্পিডবোটটি ছেড়ে যায়। সেটি পুরনো কাঁঠালবাড়ি ঘাটের অদুরে গেলে নদী তীরে নোঙর করা বালুবাহী ব্লাকহেডে থাকা খেয়ে দুমড়ে মুচড়ে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই ২৬ যাত্রী প্রাণ হারান। ওই ঘটনায় দায়ের মামলার চার আসামির মধ্যে এজাহারভুক্ত দুই নম্বর আসামি চান্দু মোল্লা।

সংবাদ সম্মেলনে র‌্যাব কর্মকর্তারা জানান, ওই দুর্ঘটনায় মামলা দায়েরের পরই র‌্যাব আসামিদের গ্রেপ্তারে ছায়াতদন্ত করতে থাকে। এর ধারাবাহিকতায় শনিবার দিবাগত রাত আড়াইটার কেরাণীগঞ্জের তেঘেড়িয়া এলাকায় এক আত্মীয়ের বাড়ি থেকে চান্দু মোল্লাকে গ্রেপ্তার করা হয়। এরপরই তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে চান্দু মোল্লা জানিয়েছেন, অধিক টাকার লোভেই লকডাউনে নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে স্পিডবোট দিয়ে যাত্রী পারাপার করছিলেন। গত ৩ মে যাত্রীদের চাপ থাকায় স্পিডবোটে ধারণ ক্ষমতার চেয়ে বেশি যাত্রী তোলা হয়েছিল। এজন্য সবাইকে ব্যক্তিগত সুরক্ষাসামগ্রীও দেওয়া যায়নি। তাছাড়া এভাবে অবৈধভাবে ঝুঁকি নিয়ে বোট চালাতে যাত্রীদেরও উৎসাহ ছিল।

র‌্যাবের অপর একজন কর্মকর্তা বলেন, গ্রেপ্তার হওয়া আসামি চান্দু মোল্লা পাঁচ বছর ধরে স্পিডবোটের মাধ্যমে যাত্রী পরিবহনের ব্যবসা করতেন। তারা আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও স্থানীয় প্রশাসনের লোকজনের চোখ ফাঁকি দিতে ভোরে স্পিডবোটে যাত্রী পারাপার করতো। সাধারণ সময়ে তারা যাত্রী পারাপারে ১৫০ টাকা নিলেও বিধিনিষেধের মধ্যে যাত্রীপ্রতি ২০০ টাকা থেকে ৩০০ টাকা করে নেওয়া হচ্ছিল। দুর্ঘটনায় পড়া স্পিডবোটটিতে ২০ জন যাত্রীর ধারণক্ষমতা থাকলেও সেদিন ৩২ জন তোলা হয়েছিল। এসব ক্ষেত্রে ঘাট ইজারাদার ও ঘাট মালিক সমিতির গাফিলতি রয়েছে।

দুর্ঘটনার পর নৌ পুলিশের পক্ষ থেকে শিবচর থানায় শিমুলিয়া স্পিডবোট ঘাটের ইজারাদার শাহে আলম খান, স্পিডবোটের দুই মালিক চান্দু মোল্লা ও রেজাউল ইসলাম এবং চালক শাহ আলমকে আসামি করে মামলা হয়। ঘটনার পর পুলিশ আহত চালককে গ্রেপ্তার করে। এখনও ইজারাদার শাহে আলম খান ও অপর মালিক রেজাউল ইসলাম গ্রেপ্তার হননি।

জানতে চাইলে র‌্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক কমান্ডার মঈন বলেন, পলাতক অপর আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।