মাহমুদা খানম মিতুর মা শাহিদা মোশাররফ বলেছেন, সাবেক পুলিশ সুপার বাবুল আক্তারের সঙ্গে গায়ত্রী অমর সিং নামে এক নারীর সম্পর্ক ছিল। তার অর্থের প্রতিও ছিল বাবুলের লোভ। গায়ত্রীর যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী স্বামীর প্রচুর অর্থ আত্মসাৎ করেছেন বাবুল। রোববার মুঠোফোনে সমকালকে এসব কথা বলেন মিতুর মা।

তিনি বলেন, ‌‘গায়ত্রীর স্বামী বাংলাদেশে পোশাক খাতে বিনিয়োগ করতে চেয়েছিলেন। আমার এক ভাগ্নে পোশাক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। তার সঙ্গে প্রবাসীর আলাপ করিয়ে দেয় বাবুল। একপর্যায়ে তিনি কামাল নামে এক ব্যক্তির মাধ্যমে বাবুল আক্তারের কাছে বিপুল অর্থ পাঠান। তবে সেই অর্থ পোশাক কারখানায় বিনিয়োগ না করে নিজের কাছে রাখে বাবুল।’

শাহিদা মোশাররফ আরও বলেন, ‘মিতু হত্যার তিন-চার মাস পর গায়ত্রীর স্বামী সেই টাকার ব্যাপারে খোঁজ নিতে ফোন করেন। তখন আমার ভাগ্নে তাকে মিতু হত্যাকাণ্ডসহ সার্বিক পরিস্থিতি জানায়। এরপর ওই প্রবাসী আর কোনো যোগাযোগ করেননি।’

এর আগে চট্টগ্রামের পাঁচলাইশ থানায় করা মামলার এজাহারে মিতুর বাবা সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা মোশাররফ হোসেন উল্লেখ করেন, ২০১৩ সালে বাবুলের পোস্টিং কক্সবাজারে থাকার সময় গায়েত্রী অমর সিং নামের এক নারীর সঙ্গে তার পরকীয়া সম্পর্ক গড়ে ওঠে। ওই নারী ইউএনএইচসিআরের কর্মকর্তা হিসেবে কক্সবাজারে কর্মরত ছিলেন। এটা মিতু জানতে পারায় সাঙ্গ-পাঙ্গদের দিয়ে তাকে হত্যা করেন বাবুল।

গত মঙ্গলবার মিতু হত্যা মামলার বাদী বাবুল আক্তারকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য চট্টগ্রাম পিবিআইতে ডাকা হয়। এরপর তাকে হেফাজতে নিয়ে মিতুর বাবার করা মামলায় বাবুলকে গ্রেপ্তার দেখায় পুলিশ। পরে বাবুলকে আদালতে রিমান্ডে নেয় পিবিআই।

২০২০ সালের জানুয়ারিতে আদালতের নির্দেশে মিতু হত্যা মামলা তদন্তের দায়িত্ব পায় পিবিআই। এর আগে সেটি নগর গোয়েন্দা পুলিশ তদন্ত করেছিল। তারা প্রায় তিন বছর তদন্ত করেও অভিযোগপত্র দিতে ব্যর্থ হয়। পরে ২০২০ সালের জানুয়ারিতে আদালত মামলা তদন্তের ভার পিবিআইকে দেন।

২০১৬ সালের ৫ জুন ছেলেকে স্কুলবাসে তুলে দিতে গিয়ে চট্টগ্রাম নগরের জিইসি মোড়ের কাছে ওআর নিজাম রোডে নির্মমভাবে খুন হন মাহমুদা খানম মিতু। ছুরিকাঘাত ও গুলি চালিয়ে হত্যা করা হয় তাকে। এ ঘটনায় বাবুল আক্তার অজ্ঞাতপরিচয় তিন ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা করেছিলেন।

মন্তব্য করুন