মগবাজারে ভয়াবহ বিস্ফোরণের ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে রমনা থানায় যে মামলা করেছে সেটি শনিবার পুলিশের কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্স ন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিটে স্থানান্তর করা হয়েছে।

এর আগে সিটিটিসির প্রধান ডিআইজি মো. আসাদুজ্জামানকে প্রধান ও সংস্থাটির এডিসি রহমত উল্লাহ চৌধুরীকে সদস্য সচিব করে তদন্ত কমিটি গঠন করে পুলিশ। এ ছাড়া পৃথকভাবে ওই দুর্ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্সের একটি তদন্ত কমিটি।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, তদন্ত কমিটির সদস্যরা শনিবার ওই এলাকা পরিদর্শনে গেলে দুর্ঘটনাস্থলের পাশেই আরেকটি খোলা গ্যাস লাইন দেখতে পান। এটি ওই এলাকার মূল গ্যাস লাইনের সঙ্গে যুক্ত। যে ভবন থেকে দুর্ঘটনা ঘটে তার পাশেই আরেকটি আবাসিক ভবন আছে। এই ভবনের কোনায় অরক্ষিত অবস্থায় রয়েছে গ্যাসের লাইনটি। সেখান থেকে অনবরত গ্যাসের বুদবুদও বের হচ্ছে। তদন্ত কমিটির পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে এ বিষয়ে তিতাসকে জানানো হবে। তবে এলাকার একাধিক বাসিন্দা তদন্ত কর্মকর্তাদের কাছে তাদের উদ্বেগের কথা জানিয়েছেন। এ ছাড়া ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করা বিভিন্ন আলামতের ফরেনসিক পরীক্ষার কাজও শুরু করেছে সিআইডি।

শনিবার পর্যন্ত এই বিস্ফোরণে ১১ জন নিহত হওয়ার তথ্য মিলেছে। আহত হয়ে কয়েকজন এখনও চিকিৎসাধীন। এর আগে মগবাজারে ভয়াবহ এই বিস্ফোরণের ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে রমনা থানায় মামলা করেছে। অবহেলাজনিত প্রাণহানির অভিযোগে দায়ের করা এই মামলায় অজ্ঞাত ব্যক্তিদের আসামি করা হয়েছে। মামলার এজাহারে বলা হয়- ধসে পড়া ভবন মালিকের অব্যবস্থাপনা, অতি পুরাতন বৈদ্যুতিক সঞ্চালন লাইন, ত্রুটিপূর্ণ গ্যাস ব্যবস্থাপনা, ভাড়াটিয়া দোকানদার শর্মা হাউজের অননুমোদিত গ্যাস ও বৈদ্যুতিক সামগ্রীর ব্যবহার ও অবহেলা, বেঙ্গল মিটের অননুমোদিত গ্যাস ও বৈদ্যুতিক সামগ্রীর ব্যবহার ও অবহেলা, নিচতলায় গ্র্যান্ড কনফেকশনারির অননুমোদিত গ্যাস ও বৈদ্যুতিক সামগ্রীর ব্যবহার ও অবহেলা অথবা দ্বিতীয় তলায় সিঙ্গার ইলেকট্রনিকসের অননুমোদিত বৈদ্যুতিক সামগ্রী মজুত রাখা অবহেলা অথবা তিতাস গ্যাস কোম্পানির অবহেলাজনিত গ্যাস সরবরাহ অথবা বিদ্যুৎ সঞ্চালন কোম্পানির ত্রুটিপূর্ণ সংযোগ অথবা ঘটনাস্থলের সামনে সিটি করপোরেশনের অপরিকল্পিত ও গাফিলতিপূর্ণ ড্রেন খনন কাজের জন্য এ ঘটনা ঘটেছে বলে প্রতীয়মান হয়েছে।