নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জের হাসেম ফুডস অ্যান্ড বেভারেজ কারখানায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় মামলা দায়ের করবে পুলিশ। একইসঙ্গে এই কারখানার দায়িত্বপ্রাপ্ত কয়েকজন কর্মকর্তাকে নজরদারিতে রাখা হয়েছে।

মামলায় দণ্ডবিধির ৩০৪, ৩০৪ (ক), ৩০৭, ধারাগুলো আসতে পারে। এসব ধারায় অবহেলাজনিত হত্যার বিষয়গুলো রয়েছে।

পুলিশের ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজি হাবিবুর রহমান সমকালকে এই তথ্য জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, ‘অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় স্বজন হারানো ব্যক্তিরা যে কেউ মামলা করতে পারবেন। নইলে পুলিশ বাদী হয়ে মামলা করবে।’

গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ওই কারখানায় আগুন লাগার পর ৫২ জন শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে, আহত হয়েছেন অর্ধশতাধিক। এখনও অনেক শ্রমিক নিখোঁজ রয়েছেন।

শুক্রবার বিকেলে ফায়ার সার্ভিস ৪৯ জনের মৃতদেহ উদ্ধার করেছে। হতভাগ্য শ্রমিকদের মৃতদেহ আগুনে এমনভাবে পুড়ে গেছে যে সেগুলো আর মুখ দেখে চেনার উপায় নেই।

সিআইডি জানিয়েছে, ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে তাদের পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর স্বজনদের কাছে মরদেহ বুঝিয়ে দেওয়া হবে। এতে কমপক্ষে তিন সপ্তাহ সময় লাগবে।

অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় স্বজন হারানো মানুষ ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এসে ডিএনএ পরীক্ষার জন্য নমুনা দিয়ে যাচ্ছেন। যারা আসতে পারেননি তারা এখনও কর্ণগোপে ওই কারখানার সামনে স্বজনের ফিরে আসার অপেক্ষায় প্রহর গুণছেন।

শনিবার তৃতীয় দিনের মতো উদ্ধার তৎপরতা পরিচালনা করছে ফায়ার সার্ভিস। ভবনের নানা কোণে এখনও আগুন চলছে। আগুন পুরোপুরি নেভানোর পর ফায়ার সার্ভিস ভবনটি পুলিশের কাছে হস্তান্তর করবে। তবে তার আগে তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা এই ভবনটি পরিদর্শন করবেন।

হাসেম ফুডস কারখানায় অগ্নিকাণ্ডের পর ভবন নির্মাণের কোড না মানা, জরুরি নির্গমনের পথে তালা লাগিয়ে রাখা ও শিশু শ্রমের বিষয়গুলো নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে তদন্ত কমিটিগুলো।

হাবিবুর রহমান জানিয়েছেন, ইতোমধ্যে হাসেম ফুডসের দায়িত্বপ্রাপ্ত কয়েকজন কর্মকর্তাকে তালিকাভুক্ত করেছে পুলিশ। তাদের নজরদারিতে রাখা হয়েছে।
অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় অর্ধশতাধিক শ্রমিকের প্রাণহানি হলেও দায় নিতে নারাজ সজীব গ্রুপের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আবুল হাসেম। তিনি বলছেন, এটা ‘নিছক একটি দুর্ঘটনা’।

তিনি সাংবাদিকদের বলেন, 'জীবনে বড় ভুল করেছি ইন্ডাস্ট্রি করে। ইন্ডাস্ট্রি করলে শ্রমিক থাকবে। শ্রমিক থাকলে কাজ হবে। কাজ হলে আগুন লাগতেই পারে। এর দায় কি আমার? আমি তো আর গিয়ে আগুন লাগিয়ে দিইনি। অথবা আমার কোনো ম্যানেজার আগুন লাগায়নি। নিচের তলায় কার্টন রাখা ছিল এবং বিভিন্ন ধরনের দাহ্য পদার্থ ছিল। নিচের তলার কার্টন থেকে আগুন ছড়াতে পারে। যারা মারা গেছেন, তারা তো আমারই ছেলেমেয়ে। আমি খুব ভেঙে পড়েছি। সর্বোচ্চ চেষ্টা করব আমার ছেলেমেয়েদের পাশে থাকতে। এটি একটি দুর্ঘটনা।’

কারখানায় পর্যাপ্ত অগ্নি নির্বাপক যন্ত্র ছিল বলেও জানান তিনি।