রূপগঞ্জে হাসেম ফুডস অ্যান্ড বেভারেজ কারখানায় আগুনের ঘটনায় কারখানার মালিক আবুল হাসেম (৭০) ও তার ছেলেসহ আটজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

শনিবার দুপুরে ঘটনাস্থল পরিদর্শনে গিয়ে সাংবাদিকদের এ কথা জানিয়েছেন নারায়ণগঞ্জের পুলিশ সুপার মো. জায়েদুল আলম।

আটক অন্য সাতজন হলেন- হাসিব বিন হাসেম (৩৯), তারেক ইব্রাহীম (৩৫), তাওসীব ইব্রাহীম (৩৩), তানজীম ইব্রাহীম (২১), শাহান শাহ আজাদ (৪৩), মামুনুর রশিদ (৫৪) ও মো. সালাউদ্দিন (৩০)।

এদের মধ্যে শাহান শাহ আজাদ সজীব গ্রুপের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা। মামুনুর রশিদ হাসেম ফুডস লিমিটেডের ডিজিএম ও মো. সালাউদ্দিন হাশেম ফুডস লিমিটেডের সিভিল ইঞ্জিনিয়ার ও অ্যাডমিন অফিসার হিসেবে কর্মরত।

আগুনের ঘটনায় অর্ধশতাধিক শ্রমিকের প্রাণহানি হলেও দায় নিতে নারাজ সজীব গ্রুপের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আবুল হাসেম। তিনি বলছেন, এটা ‘নিছক একটি দুর্ঘটনা’।

এদিকে শনিবার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদু্জ্জামান খান কামাল। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘এ ঘটনায় দায়ী কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।’

শনিবার দুপুরে রূপগঞ্জের অগ্নিকাণ্ডের ঘটনাস্থল পরিদর্শনে আসেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল। ছবি-মেহেদী হাসান সজীব


এর আগে শনিবার সকালে পুলিশের ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজি হাবিবুর রহমান জানান, নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জের হাসেম ফুডস অ্যান্ড বেভারেজ কারখানায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় মামলা দায়ের করবে পুলিশ। মামলায় দণ্ডবিধির ৩০৪, ৩০৪ (ক), ৩০৭, ধারাগুলো আসতে পারে। এসব ধারায় অবহেলাজনিত হত্যার বিষয়গুলো রয়েছে।

বৃহস্পতিবার বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে রূপগঞ্জের হাশেম ফুডস অ্যান্ডস বেভারেজ কারখানায় আগুন লাগে। সেদিন মারা যান তিন জন শ্রমিক। শুক্রবার বিকেলে ফায়ার সার্ভিস ভবনে উদ্ধার তৎপরতার মধ্যে ৪৯ জনের মৃতদেহ উদ্ধার করে। হতভাগ্য শ্রমিকদের মৃতদেহ আগুনে এমনভাবে পুড়ে গেছে যে সেগুলো আর মুখ দেখে চেনার উপায় নেই।

সিআইডি জানিয়েছে, ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে তাদের পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর স্বজনদের কাছে মরদেহ বুঝিয়ে দেওয়া হবে। এতে কমপক্ষে তিন সপ্তাহ সময় লাগবে।

অগ্নিকাণ্ডে স্বজন হারানো মানুষ ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এসে ডিএনএ পরীক্ষার জন্য নমুনা দিয়ে যাচ্ছেন। যারা আসতে পারেননি তারা এখনও কর্ণগোপে ওই কারখানার সামনে স্বজনের ফিরে আসার অপেক্ষায় প্রহর গুনছেন।

শনিবার তৃতীয় দিনের মতো উদ্ধার তৎপরতা পরিচালনা করছে ফায়ার সার্ভিস। ভবনের নানা কোণে এখনও আগুন চলছে। আগুন পুরোপুরি নেভানোর পর ফায়ার সার্ভিস ভবনটি পুলিশের কাছে হস্তান্তর করবে। তবে তার আগে তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা এই ভবনটি পরিদর্শন করবেন।

হাসেম ফুডস কারখানায় অগ্নিকাণ্ডের পর ভবন নির্মাণের কোড না মানা, জরুরি নির্গমনের পথে তালা লাগিয়ে রাখা ও শিশু শ্রমের বিষয়গুলো নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে তদন্ত কমিটিগুলো।