মরিশাসের গার্মেন্টসে চাকরি করতে গিয়ে প্রতিষ্ঠানটির মালিক এবং কয়েকজন বাংলাদেশির দ্বারা ধর্ষণের শিকার হয়েছেন বাংলাদেশের এক নারী কর্মী। এই অভিযোগ করে ওই নারী রাজধানীর রামপুরা থানায় শনিবার মামলা করেছেন। মানবপাচার এবং নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে তিনি এই মামলা করেছেন।

মামলা সূত্রে জানা গেছে, বাদী গত বছরের ৫ ফেব্রুয়ারি আফ্রিকা মহাদেশের দ্বীপ দেশ মরিশাসে গেলে তাকে ফায়ার মাউন্ট টেপটাইল নামের গার্মেন্টসে কাজ দেওয়া হয়।

গার্মেন্টসের ক্যান্টিন পরিচালনাকারী বাংলাদেশি নাগরিক মোহাম্মদ শাহ আলম এবং তার ফুরকান, সিদ্দিক, আসলাম একদিন ওই নারী কর্মীকে বলেন, ফায়ার মাউন্টের মালিক তাকে 'পছন্দ' করেছেন। মালিকের 'সঙ্গে থাকলে' ভাল হবে।

মামলার এজাহারে ভুক্তভোগী নারী বলেছেন, তিনি কুপ্রস্তাবে রাজি না হলে শাহ আলম ভয়ভীতি দেখায়। একদিন তাকে গার্মেন্ট মালিক অনিল কোহলির বাসায় নিয়ে যায়। অনিল কোহলি তাকে ধর্ষণ করে। ধর্ষণের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়ে শাহ আলম ও অনিল কোহলি কয়েকমাস ধরে যৌন নির্যাতন করে।

মামলার এজাহারে আরও বলা হয়েছে, ধর্ষণের ফলে ভুক্তভোগী নারী এক পর্যায়ে অন্তস্বত্ত্বা হয়ে পড়েন। তাকে মরিশাসের হাসপাতালে নিয়ে গর্ভপাত করায় শাহ আলম ও অনিল কোহলি। তারা শর্ত দেয়, দেশে ফেরত গেলে ওই নারীর বাবাকে চাকরি দিয়ে মরিশাস আনা হবে।

গত বছরের ২৮ ডিসেম্বর অসুস্থ অবস্থায় তাকে দেশে ফেরত পাঠানো হয়।

নারীর অভিযোগ, তার বাবা বিদেশ যেতে চেয়ে রিক্রুটিং এজেন্সি মেসার্স গোলাম রাব্বি ইন্টারন্যাশনালের (লাইসেন্স নম্বর-১০৭৮) সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন। এজেন্সির লোকজন তাকে বলেন, বয়স বেশি হওয়ায় তিনি যেতে পারবেন না। তার বদলে মেয়েকে ২৮ হাজার টাকা বেতনে মরিশাসে পাঠানোর প্রস্তাব দেওয়া হয়।

রিক্রুটিং এজেন্সি মেসার্স এম আক্তার এন্ড সন্সের মাধ্যমে ভুক্তভোগী এই নারীকে মরিশাস পাঠানো হয়েছিল।

ভুক্তভোগী নারী বলেছেন, দেশে ফেরার পর তাকে ও তার বাবাকে হুমকি দেওয়া হয়। তিনি আত্মহত্যার চেষ্টা করেন। 'নির্যাতনের খবর' বাংলাদেশ ও মরিশাসের সংবাদমাধ্যমে আসার পর অভিযুক্তরা আপোসের প্রস্তাব দিচ্ছে। তিনি তাদের বিচার চান।

ব্র্যাকের অভিবাসন কর্মসূচির প্রধান শরিফুল হাসান বলেছেন, ভুক্তভোগী নারী ভয়াবহ নির্যাতনের বর্ণনা দিয়েছেন। কাউকে বিদেশে চাকরির কথা বলে যৌন নিপীড়ন করা বা পতিতাবৃত্তিতে বাধ্য করা মানবপাচারের অর্ন্তর্ভূক্ত অপরাধ। মরিশাস ও বাংলাদেশ সরকারের উচিত যৌথভাবে এসব অভিযোগের সত্যতা তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া।