স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল বলেছেন,মধ্যম আয়ের দেশ থেকে উন্নত দেশে পরিণত হতে আমাদের সব অর্জন ঠিকঠাকমতো চলছে। অচিরেই আমরা উন্নত রাষ্ট্রে পরিণত হব।

শনিবার বিকেলে মৌলভীবাজারের জুড়ী থানা প্রাঙ্গণে এক সুধী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব বলেন।

মৌলভীবাজার জেলা পুলিশের আয়োজনে মন্ত্রী সেখানে জুড়ী থানার নবনির্মিত ভবনের উদ্বোধন এবং ‘একটি আধুনিক থানার জন্মকথা’শীর্ষক স্মারক গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন করেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী  বলেন, মাদকের ছোবল থেকে যুব সমাজকে রক্ষা করতে হবে। যেভাবে জঙ্গী ও সন্ত্রাসবাদ নির্মুল করা হয়েছে সেভাবে নতুন প্রজন্মকে মাদকের ভয়াল থাবা থেকে বাঁচাতে পুলিশসহ বিভিন্ন বাহিনীর সাথে আমাদের সকলকে দায়িত্ব নিতে হবে। তবেই যুবশক্তিকে কাজে লাগিয়ে কাঙ্খিত উন্নয়নের লক্ষ্য অর্জন হবে।

পুলিশের কার্যক্রম প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, বারো বছর আগের পুলিশ আর আজকের পুলিশ এক নয়। পুলিশের সকল পর্যায়ে যথেষ্ট পরিবর্তন লক্ষণীয়। তারা আজ মানবিক পুলিশে পরিণত হয়েছে। তারা কোভিডের সময় এর সাক্ষর রেখেছে। যখন সন্তান তার বাবার লাশের কাছে যায়নি তখন পুলিশই প্রথম এগিয়ে এসে দাফন কাফন করেছে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন,৭ কোটি ৩১ লাখ ৪৪ হাজার টাকা ব্যয়ে নব নির্মিত জুড়ী থানার কার্যক্রম সম্পন্ন হয়েছে। এই ভাবে প্রত্যেক থানায় পর্যায়ক্রমে আধুনিক থানা ভবন নির্মাণ করা হবে।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক মন্ত্রী মো. শাহাব উদ্দিন বলেন, দেশের অর্থনৈতিক অবস্থা দিন দিন ভালো হচ্ছে। তাই দেশের অগ্রযাত্রা কোনো অপশক্তি রুখতে পারবে না।

আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন মৌলভীবাজারের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জাকারিয়া। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) সুদর্শন কুমার রায়ের সঞ্চালনায় এতে আরও বক্তব্য রাখেন সংসদ সদস্য নেছার আহমদ , সংরক্ষতি নারী আসনের (মৌলভীবাজার-হবিগঞ্জ) সদস্য সৈয়দা জোহরা আলাউদ্দিন , সিলেট মহানগর পুলিশ কমিশনার মো. নিশারুল আরিফ, মৌলভীবাজারের জেলা প্রশাসক মীর নাহিদ আহসান, জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মিছবাহুর রহমান, জুড়ী উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান এম এ মোঈদ ফারুক, উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা বদরুল হোসেন প্রমুখ। স্বাগত বক্তব্য রাখেন সিলেট রেঞ্জের ডিআইজি মফিজ উদ্দিন আহম্মেদ।

মন্ত্রীরা জুড়ী থানা প্রাঙ্গণে প্রবেশের পর ফলক উন্মোচন করে নবনির্মিত থানার ভবনের উদ্বোধন করেন। পরে সেখানে গোলাপ ও কামিনীবৃক্ষের চারা রোপণ করেন। এরপর স্থানীয় প্রশাসন, পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ও আওয়ামী লীগ নেতারা দুই মন্ত্রীকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানন। অনুষ্ঠান শেষে প্রধান অতিথি ও বিশেষ অতিথিকে সম্মাননা স্মারক দেন পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।