রাজধানীতে আনুষ্ঠানিক চালু হলো অত্যাধুনিক ও আন্তর্জাতিক মানের সিনেমা হল স্টার সিনেপ্লেক্সের আরও একটি শাখা। নতুন এ শাখাটি চালু হলো মিরপুর ১-এ সনি সিনেমা হলের স্থানে সনি কমপ্লেক্সে তিনটি থিয়েটার নিয়ে। বৃহস্পতিবার রাত ৮টার দিকে আমন্ত্রিত অতিথিদের নিয়ে শাখাটি উদ্বোধন করেন স্টার সিনেপ্লেক্সের চেয়ারম্যান মাহবুব রহমান রুহেল।

অতিথি ছিলেন তথ্য প্রতিমন্ত্রী মো. মুরাদ হাসান, বীর মুক্তিযোদ্ধা ও ঢাকা-১৪ আসনের এমপি আগা খান মিন্টু, নির্মাতা চয়নিকা চৌধুরী, সোহানুর রহমান সোহান, চিত্রনায়ক ওমর সানী,  সায়মন সাদিক, শরিফুল রাজ, তারকা জুটি অনিমেষ আইচ ও আসনা হাবিব ভাবনা ও সাবিলা নূর।

অনুষ্ঠানে তথ্য প্রতিমন্ত্রী মুরাদ হাসান বলেন, 'সিনেমা শিল্পের উন্নতির জন্য অত্যাধুনিক ও আন্তর্জাতিক মানের সিনেমা হল যেমন জরুরি, তেমনি ভালো মানের সিনেমা নির্মাণও করতে হবে। এখন সব কিছুই উন্মুক্ত। যেকোনো দেশের সিনেমা দেখার সুযোগ আমরা পাচ্ছি। আমি স্টার সিনেপ্লেক্সের চেয়ারম্যান মাহবুব রহমান রুহেলকে বলতে চাই, আপনার এই সিনেমা হলে আমরা ভালো মানের বাংলা সিনেমা দেখতে চাই।’

সিনেপ্লেক্সের চেয়ারম্যান মাহবুব রহমান রুহেল তার বক্তব্যে বলেন, 'এখন সবাই ঘরে বসে অনলাইনে যেকোনো সিনেমা, নাটক বা ওয়েব সিরিজ দেখতে পাচ্ছেন। কিন্তু সিনেমা হলে বসে সিনেমা দেখার মজা কখনোই ঘরে পাওয়া যায় না, তার জন্য সিনেমা হলে আসতে হবে। কারণ, সবাই মিলে একসঙ্গে হাসার, একসঙ্গে কাঁদার, একসঙ্গে আনন্দ করার সুযোগ কেবল সিনেমা হলেই পাওয়া যায়।’

তথ্য প্রতিমন্ত্রীর উদ্দেশ্যে রুহেল বলেন, 'সিনেমা হলের উন্নতির জন্য সবকিছু উন্মুক্ত করে দিতে হবে। অমুক দেশের ছবি দেখানো যাবে না, তমুক দেশের ছবি দেখানো যাবে না, আধুনিক এ যুগে এরকম নিষেধাজ্ঞা থাকলে সিনেমা হল চালু রাখা কঠিন। তাই আমি অনুরোধ করব, সব দেশের সিনেমা চালানোর পারমিশনই যেন হল মালিকদের দেওয়া হয়।’

বক্তব্য শেষে কেক কেটে স্টার সিনেপ্লেক্সের মিরপুরের এ শাখা উদ্বোধন করা হয়। এরপর সেখানে হলিউডের জনপ্রিয় জেমস বন্ড সিরিজের শেষ সিনেমা ‘নো টাইম টু ডাই’-এর প্রিমিয়ার অনুষ্ঠিত হয়। শুক্রবার থেকে সিনেমাটি স্টার সিনেপ্লেক্সের প্রতিটি শাখায় দেখা যাচ্ছে।

রাজধানীর পান্থপথে বসুন্ধরা শপিং মলে যাত্রা করে দেশের প্রথম অত্যাধুনিক সিনেমা হল স্টার সিনেপ্লেক্স। এরপর ধানমন্ডি এবং পরে মহাখালীতে আরও দুটি শাখা চালু হয়। 

মিরপুরে নতুন শাখাটি যাত্রা করেছে তিনটি থিয়েটার নিয়ে, যেখানে রয়েছে অত্যাধুনিক সুযোগ সুবিধা। মোট আসন ৮০০। মিরপুর এলাকার কথা বিবেচনা করে এখানকার টিকেটের মূল্য অন্য শাখাগুলোর থেকে কিছুটা কম নির্ধারণ হয়েছে বলে জানিয়েছেন উদ্যোক্তারা। সিনেপ্লেক্সের পরিবেশনা উন্নত করতে সেখানে রয়েছে নামীদামী ব্র্যান্ড পোশাকের শো রুম, খাবারের দোকান, জিম সেন্টার ও শিশুদের বিনোদন কেন্দ্র।