মিয়ানমার থেকে এক গ্রাম আইস কেনেন দেড় থেকে দুই হাজার টাকা। আর বাংলাদেশে এর দাম ১৫ থেকে ২৫ হাজার টাকা পর্যন্ত। প্রতি গ্রামে ১৩ থেকে ২৩ হাজার টাকা পর্যন্ত বেশি লাভ হয়। এভাবে বেশি লাভ পেতে মিয়ানমার থেকে দেশে আইস নিয়ে আসেন কক্সবাজারের টেকনাফের বাসিন্দা খোকন ওরফে হোছেন। যা পরে ঢাকা ও চট্টগ্রামে বিক্রি হয়।

শনিবার দুপুরে রাজধানীর কারওয়ান বাজারে র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র‍্যাব) মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সংস্থাটির আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন এ তথ্য দেন।

এর আগে সকালে রাজধানীর যাত্রাবাড়ী এলাকা থেকে পাঁচ কেজি আইস, বিদেশি অস্ত্র, মিয়ানমারের মুঠোফোন অপারেটরের সিমসহ খোকন ও মোহাম্মদ রফিক নামের দুইজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

র‍্যাব জানায়, এর আগে খোকন ওরফে হোছেন বার্মিজ কাপড় ও আচার ব্যবসার আড়ালে মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে ইয়াবা নিয়ে আসতেন। তবে ঢাকা ও চট্টগ্রামে 'অভিজাত শ্রেণির' কাছে আইস বা ক্রিস্টাল মেথ জনপ্রিয় হয়ে ওঠায় কয়েক মাস ধরে আইস নিয়ে আসছেন তিনি।

র‍্যাব আরও জানায়, এখন পর্যন্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে এত বড় আইসের চালান ধরা পড়েনি। এটিই ধরা পড়া সবচেয়ে বড় চালান। খোকন চক্রের অন্যতম হোতা। রফিক তার অন্যতম সহযোগী।

র‌্যাব কর্মকর্তা খন্দকার আল মঈন বলেন, 'গ্রেপ্তার দুইজন টেকনাফকেন্দ্রিক মাদক সিন্ডিকেটের অন্যতম সদস্য। চক্রটি কয়েক বছর ধরে ইয়াবার কারবার করে আসছে। এ চক্রের সদস্য ২০ থেকে ২৫ জন। চক্রের সদস্যরা নৌপথ ব্যবহার করে মাদকের চালান দেশে নিয়ে আসছে। ঢাকার উত্তরা, বনানী, গুলশান, ধানমন্ডি, মোহাম্মদপুরসহ বেশ কয়েকটি এলাকায় তাদের সিন্ডিকেটের সদস্য রয়েছে। তাদের বিষয়ে অনেক তথ্য পাওয়া গেছে।'

র‍্যাব জানায়, আগে আইস থাইল্যান্ড বা অন্যান্য দেশ থেকে মিয়ানমার হয়ে দেশে আসত। এখন মিয়ানমারে আইস তৈরি করা হয়। খোকনের সঙ্গে মিয়ানমারের মাদক কারবারিদের সুসম্পর্ক রয়েছে। তিনি বার্মিজ আচার ও কাপড় আনার নাম করে অবৈধভাবে নিয়মিত মিয়ানমারে যাতায়াত করতেন। বাংলাদেশের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে কোনো আইসের চালান ধরা পড়লে সেই অর্থ আর তাকে পরিশোধ করতে হয় না। তারা মাদকের টাকা লেনদেন করেন হুন্ডির মাধ্যমে। খোকনের বিরুদ্ধে মাদক আইনে একাধিক মামলা রয়েছে।