রাজধানীর ভাটারা এলাকার রাস্তায় বস্তাবন্দি এক তরুণীর লাশ উদ্ধারের পর চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। কোথায় খুন, খুনি কে, কেনই বা খুন-অজ্ঞাতপরিচয়ে এই লাশ নিয়ে ধাঁধাঁয় পড়ে যায় পুলিশ। শেষ পর্যন্ত জানা গেল, ওই নারীর নাম শিপন আক্তার, বয়স ৩৪ বছর। খুনি তার ক্ষণিকের বন্ধু আবদুল জব্বার।

ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) গুলশান বিভাগের একটি দল জড়িত জব্বারকে গ্রেপ্তার করলে বেরিয়ে আসে খুনের নেপথ্যে চাঞ্চল্যকর তথ্য। জব্বার গ্যারেজকর্মী।

গত ১০ অক্টোবর ওই তরুণীর লাশ উদ্ধার করা হয়েছিল।

ডিবির গুলশান বিভাগের ডিসি মশিউর রহমান সমকালকে বলেন, নিহত তরুণী তৈরি পোশাক কারখানায় কাজ করতেন। পূর্ব পরিচিত জব্বারের সঙ্গে সময় কাটাতে গিয়েই খুন হন ওই নারী। মোবাইল ফোনে তাদের পরিচয় হয়েছিল।

ডিবির এই কর্মকর্তা বলেন, গত ৮ অক্টোবর তারা বিকেলে ঘুরতে বের হন। শিপন আক্তারকে নিয়ে জব্বার যমুনা ফিউচার পার্ক এবং ফুটপাতে ফুসকার দোকানে ঘোরাঘুরি শেষে সন্ধ্যার পরে ছোলমাইদ ঢালীবাড়ী এলাকার ভাড়া বাসায় আনে। সেখানে অনৈতিক সম্পর্কে জড়ান তারা। এরপর ওই তরুণী নিজের বাসায় চলে যেতে চাইলে জব্বার তাকে রাতভর থাকার জন্য বলেন। তরুণী ক্ষিপ্ত হয়ে সব ফাঁস করে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে বের হয়ে যেতে চান। তখন জব্বার তাকে গলাটিপে হত্যা করেন।

ডিবি কর্মকর্তা মশিউর বলেন, হত্যায় জড়িত জব্বারের স্ত্রী-সন্তান রয়েছে। তবে ঘটনার আগে তাদের গ্রামের বাড়ি চাঁদপুরে পাঠিয়ে দেন। তাছাড়া ওই ব্যক্তি ইয়াবায় আসক্ত। ঘটনার আগে ইয়াবা সেবন করেন তিনি। তরুণীকে খুনের পর তার মোবাইল ফোন বিক্রি করে সেই টাকা দিয়েও বন্ধুকে নিয়ে ইয়াবা সেবন করেন।

অভিযুক্ত জব্বার জানিয়েছেন, রাত ১০টার দিকে তিনি ওই তরুণীকে গলাটিপে খুন করে বাসায় রেখে দেন। এরপর নিহত তরুণীর মোবাইল ফোন নিয়ে বেরিয়ে যান। সেটি ১ হাজার টাকায় বিক্রি করা হয় একজনের কাছে। সেই টাকা দিয়ে তিনটি ইয়াবা কিনে বন্ধু হীরাকেসহ বাসায় চলে আসেন। হীরার সঙ্গে ইয়াবা সেবন শেষে লাশ গুমের পরিকল্পনা করেন তারা। এরপর দুজনে লাশটিকে প্রথমে একটি কার্টনের মধ্যে ঢুকিয়ে ভাঙ্গারির দোকান থেকে আনা বড় বস্তায় ভরা হয়। রাত ৩টার দিকে হীরার সহায়তায় তিনতলা থেকে লাশের বস্তা নামানো হয়। পরে ১০০ টাকার ভাড়া রিকশায় করে লাশটিকে এভারকেয়ার হাসপাতালের অদূরে ঢালীবাড়ী রাস্তায় ফেলে রাখা হয়। এরপর তিনি পালিয়ে গাইবান্ধায় চলে যান।

ডিবি জানায়, জব্বারের দেওয়া তথ্যানুযায়ী ভিক্টিমের মোবাইল, ব্যবহৃত বোরকা এবং স্যান্ডেলসহ হত্যাকাণ্ডের অন্যান্য আলামত উদ্ধার করা হয়েছ।