রোহিঙ্গা নেতা মুহিবুল্লাহ হত্যা এবং মাদ্রাসায় হামলা চালিয়ে ছয় রোহিঙ্গা হত্যার ঘটনা একই সন্ত্রাসী গ্রুপের পরিকল্পিত মিশন ছিল। এই দুই হত্যাকাণ্ডে অংশ নেওয়া কিলারদের প্রায় সবার নাম-ঠিকানাই আইন প্রয়োগকারী সংস্থার হাতে এসেছে। 

এখন পর্যন্ত ১৯ জনকে আটক করেছে পুলিশ। এর মধ্যে মুহিবুল্লাহ হত্যায় ১০ জনকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। বাকিরা গ্রেপ্তার হয়েছে মাদ্রাসায় হামলার ঘটনায়।

উখিয়ার বালুখালী রোহিঙ্গা ক্যাম্পে মাদ্রাসায় সন্ত্রাসী হামলার দু'দিন পর একটি হত্যা মামলা হয়েছে। নিহত আজিজুল হকের বাবা নুরুল ইসলাম বাদী হয়ে শনিবার রাতে উখিয়া থানায় মামলা করেন। মামলায় ২৫ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও আড়াইশজনকে আসামি করা হয়েছে।

গত ২২ অক্টোবর রাতে বালুখালী ক্যাম্প-১৮-এর এইচ-৫২ ব্লকে দারুল উলুম নাদওয়াতুল ওলামা আল ইসলামিয়াহ মাদ্রাসায় সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা হামলা চালায়। এতে মাদ্রাসার ছাত্র-শিক্ষক, স্বেচ্ছাসেবকসহ ছয়জন নিহত হন। গত ২৯ সেপ্টেম্বর রাতে খুন হন রোহিঙ্গা নেতা মাস্টার মুহিবুল্লাহ।

কক্সবাজারের ৮ আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক পুলিশ সুপার মোহাম্মদ সিহাব কায়সার খান বলেন, এ ঘটনায় ৯ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বাকি অপরাধীদের ধরতে পুলিশ অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে।

আলোচিত এই দুই ঘটনার পর থেকেই আতঙ্কে রয়েছে রোহিঙ্গারা। ক্যাম্পে থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। ক্যাম্পের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়কে চেকপোস্ট বসিয়ে তল্লাশি চালানো হচ্ছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর টহলও বাড়ানো হয়েছে।

বালুখালী ক্যাম্পের একাধিক সূত্র জানিয়েছে, সন্ত্রাসী গ্রুপগুলোর মধ্যে আধিপত্য বিস্তার এবং ক্যাম্পের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে একের পর এক হত্যার ঘটনা ঘটছে। মিয়ানমারের সন্ত্রাসী গ্রুপ আরসা বা আল ইয়াকিনের নামে একটি পক্ষ ক্যাম্পের নিয়ন্ত্রণ নিতে মরিয়া। অন্যদিকে আরএসও এবং ইসলামী মাহাস নামে আরও দুটি সংগঠনও ক্যাম্পে তৎপরতা চালাচ্ছে।

সূত্র জানায়, 'উলামা কাউন্সিল' নামে একটি সংগঠন রোহিঙ্গা শিবিরে দেড় শতাধিক মাদ্রাসার নিয়ন্ত্রণ রাখতে চায়। এ সংগঠনের নেতৃত্বে রয়েছেন মিয়ানমারের সন্ত্রাসী গোষ্ঠী আরসার কয়েকজন রোহিঙ্গা নেতা। সংগঠনের সভাপতি হচ্ছেন রোহিঙ্গা নেতা হাফিজুল্লাহ। তিনি ক্যাম্পের বাইরে থাকেন। অন্যদিকে 'ইসলামী মাহাস' নামে সংগঠনটিও একই তৎপরতা চালাচ্ছে ক্যাম্পে। এ সংগঠনের নেতা মৌলভী সেলিম উল্লাহ। তিনি এক সময় আরসার কমান্ডার ছিলেন। আরসা ছেড়ে পরে তিনি ইসলামী মাহাস গড়ে তোলেন। দারুল উলুম নাদওয়াতুল ওলামা আল ইসলামিয়াহ মাদ্রাসাটি ছিল এই গোষ্ঠীর নিয়ন্ত্রণে। এ নিয়ে দু'পক্ষের বিরোধ চরম পর্যায়ে পৌঁছেছে। আরসার নাম দিয়ে অনেকবার হুমকি দেওয়া হয়েছে ওই মাদ্রাসার শিক্ষক-পরিচালকদের।

সূত্র আরও জানায়, ইসলামী মাহাস রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনের পক্ষে থাকলেও উলামা কাউন্সিল বিপক্ষে। এ ছাড়া মুহিবুল্লাহ হত্যাকাণ্ডের পর ইসলামী মাহাস পুলিশকে তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করেছে বলে আরসার সমর্থনপুষ্ট সন্ত্রাসীরা মাদ্রাসাটির ওপর ক্ষিপ্ত ছিল। এর জেরে ওই হামলা হয়। ক্যাম্পের বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ক্যাম্পে সন্ত্রাসী-জঙ্গি গ্রুপগুলো মাদক ও অস্ত্র ব্যবসায় জড়িত।