প্রতারণা, জালিয়াতি করে সরকারি প্লট আত্মসাতের অভিযোগে বিএনএস গ্রুপের চেয়ারম্যান এমএনএইচ বুলুকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। 

রোববার রাজধানীর সেগুনবাগিচায় দুদকের প্রধান কার্যালয়ে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছেন পরিচালক শেখ মো. ফানাফিল্যা ও উপপরিচালক সুভাষ দত্ত।

দুদক সূত্র জানায়, এমএনএইচ বুলুর বিরুদ্ধে জনৈক আনোয়ার আলমের কাছ থেকে বেআইনিভাবে গুলশান-২ বাণিজ্যিক এলাকার ২০ ও ২০/এ হোল্ডিংয়ের ১ বিঘা ৩ কাঠা সাড়ে ৮ শতাংশ জমি কেনার অভিযোগ রয়েছে। এই অভিযোগে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।

এদিকে আনোয়ার আলমের বিরুদ্ধে রাজউক এবং গৃহায়ন ও গণপূর্ত অধিদপ্তরের সংশ্নিষ্ট কর্মকর্তাদের যোগসাজশে প্রতারণা ও জালিয়াতির মাধ্যমে ঢাকার গুলশান, ধানমন্ডিসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানের বেশ কয়েকটি সরকারি প্লট আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে। আনোয়ার আলমের মাধ্যমে এমএনএইচ বুলু আত্মসাৎকৃত প্লটগুলোর মধ্য থেকে ওই জমি কিনেছেন।

দুদক ইতোমধ্যে রাজউক এবং গৃহায়ন ও গণপূর্ত অধিদপ্তর থেকে অভিযোগ সংশ্লিষ্ট রেকর্ডপত্র সংগ্রহ করেছে। এই অভিযোগ সম্পর্কে সম্প্রতি কয়েকজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে।

এমএনএইচ বুলু ও আনোয়ার আলমের বিরুদ্ধে জালিয়াতি করে সরকারি জমি দখলের অভিযোগের অনুসন্ধান চলমান রয়েছে।

সূত্র জানায়, এমএনএইচ বুলু ও আনোয়ার আলমের বিরুদ্ধে অনিয়ম, দুর্নীতি, সরকারি জমি আত্মসাতের অভিযোগের অনুসন্ধান চলমান রয়েছে। অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে এমএনএইচ বুলুকে ২০১৭ সালের ২৬ নভেম্বর জিজ্ঞাসাবাদ করে দুদক। রোববার আনোয়ার আলমের মাধ্যমে আত্মসাৎ করা সরকারি প্লটের জমি কেনার অভিযোগে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলো।

অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ : এমএনএইচ বুলু দুদকে ৩২৫ কোটি টাকার স্থাবর-অস্থাবর সম্পদের হিসাব পেশ করেছেন। ২০১৭ সালের ২৬ নভেম্বর জিজ্ঞাসাবাদে বুলুর কাছে তার সম্পদের উৎস সম্পর্কে জানাতে চাওয়া হয়। অবৈধ সম্পদ অনুসন্ধানে এ বিষয়ে তার কাছে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র চাওয়া হয়েছিল।

এমএনএইচ বুলু ঢাকা ব্যাংক ও যমুনা ব্যাংকের পরিচালক। রাজধানীর বনানীর কামাল আতাতুর্ক অ্যাভিনিউয়ে বুলু ওশান টাওয়ার, উত্তরায় বিএনএস ভবনসহ তার নামে আরও বাণিজ্যিক ভবন রয়েছে। তিনি ট্রেডিং বিজনেসসহ অন্যান্য ব্যবসার সঙ্গে জড়িত।