হিন্দু সম্প্রদায়ের দুর্গোৎসব চলাকালে নোয়াখালীর চৌমুহনীতে হিন্দু সম্প্রদায়ের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান, বাড়িঘর, মন্দির ও পূজামণ্ডপে হামলার ঘটনায় সম্পৃক্ত থাকার অভিযোগে নোয়াখালী জেলা যুবদল সভাপতি মঞ্জুরুল আজিম সুমনকে (৫০) গ্রেপ্তার করা হয়েছে। জেলা গোয়েন্দা পুলিশ মঙ্গলবার রাতে রাঙ্গামাটি থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে।

বুধবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে নোয়াখালী পুলিশ সুপার মো. শহীদুল ইসলাম তার কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে এক সংবাদ সম্মোলনে এ তথ্য জানিয়েছেন। গ্রেপ্তার মঞ্জুরুল আজিম সুমন বেগমগঞ্জ উপজেলার গণিপুর গ্রামের হাজী আবদুল হকের ছেলে।

এছাড়াও ওই ঘটনায়  রাজু আহম্মেদ (২৫), মো. সফিকুল ইসলাম সুজন (২৯), মো. মুরশিদ আলম রাসেল (২৭) ও  আবদুর রহিম (৭০)। আরও ৪ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের বেগমগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে গ্রেপ্তার করা হয়। 

পুলিশ সুপার জানান, কুমিল্লায় দুর্গাপূজায় পবিত্র কোরআন অবমাননার ঘটনাকে কেন্দ্র করে গত ১৫ অক্টোবর জুমার নামাজ শেষে বেগমগঞ্জের চৌমুহনী শহরে কয়েক হাজার লোক তৌহিদী জনতা নামে ডিবি রোড, ব্যাংক রোড ও কলেজ রোডের পূজামণ্ডপে হামলা চালায়। এ সময় হিন্দুদের বিভিন্ন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান, বাড়িঘর, মন্দির ও পূজামণ্ডপ ভাংচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগ করে তারা। হামলায় ইসকন মন্দিরের দুই ভক্ত যতন সাহা ও প্রান্ত চন্দ্র দাশ নিহত হন। ওই ঘটনায় বেগমগঞ্জ থানায় ১৪টি মামলা দায়ের হয়। এসব মামলায় ২০৭ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে ৬ জন দোষ স্বীকার করে ১৬৪ ধারায় আদালতে জবানবন্দী দেন। মঞ্জুরুল আজিম সুমনসহ গ্রেপ্তার ৫ আসামিকে বৃহস্পতিবার আদালতে হাজির করে অধিকতর জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ডের আবেদন করা হবে।

তিনি আরও বলেন, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সহ-সভাপতি ফয়সাল ইনাম কমলের ১৬৪ ধারায় আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে সুমনের নাম আসায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।