কক্সবাজারের উখিয়ার বালুখালী ১৮ নম্বর ক্যাম্পের ছয় রোহিঙ্গা খুন হওয়ার পর তাদের স্বজনদের ক্যাম্প থেকে অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। ছয় পরিবারের ৩১ জন সদস্যকে পুলিশের নিরাপত্তায় রাখা হয়েছে। বুধবার তাদের বালুখালী ক্যাম্প থেকে উখিয়ার ট্রানজিট পয়েন্টে এনে রাখা হয়।

বুধবার রাতে বিষয়টি স্বীকার করে ৮ এপিবিএন-এর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কামরান হোসেন জানান, 'নিহত ছয় রোহিঙ্গার পরিবারের ৩১ জন সদস্যকে ক্যাম্প থেকে সরিয়ে ট্রানজিট পয়েন্টে রাখা হয়েছে। তবে বিষয়টি এমন না, যে তারা ক্যাম্পে অনিরাপদ ছিল। তাদের পরিবারের লোকজন মারা যাওয়ার পর তারা খুবই ভীতির মধ্যে ছিল। অনুরোধ করায় তাদের সেখানে রাখা হয়েছে। এখন পর্যন্ত এই হত্যার ঘটনায় আমরা ১৪ জনকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়েছি। ক্যাম্পে নিরাপত্তা জোরদার করেছি। টহলসহ অপরাধীদের ধরতে রাত-দিন অভিযান চলছে।'

এদিকে গত ২৯ সেপ্টেম্বর রাতে অস্ত্রধারীরা রোহিঙ্গাদের শীর্ষ নেতা মুহিব উল্লাহকে তার আরাকান রোহিঙ্গা সোসাইটি ফর পিস অ্যান্ড হিউম্যান রাইটসের (এআরএসপিএইচ) কার্যালয়ে ঢুকে গুলি করে হত্যা করে। এ ঘটনায় ৩০ সেপ্টেম্বর রোহিঙ্গা নেতা মুহিব উল্লাহর ছোট ভাই হাবিব উল্লাহ বাদী হয়ে অজ্ঞাত ২৫ জনকে আসামি করে উখিয়া থানায় মামলা করেন। এরপর থেকে হাবিব উল্লাহ, তার স্ত্রী নাসিমা খাতুনসহ অন্য আত্মীয়দের মোবাইলে অপরিচিত নম্বর থেকে টেক্সট ও ভয়েস মেসেজ পাঠিয়ে প্রতিনিয়ত হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এজন্য তাদের সেখান থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

মুহিব উল্লাহ খুনের ঘটনায় এ পর্যন্ত নয় রোহিঙ্গাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তাদের মধ্য মোহাম্মদ ইলিয়াছ গত ১০ অক্টোবর কক্সবাজার আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। সর্বশেষ গ্রেপ্তার আজিজুল হক গত ২৩ অক্টোবর এ হত্যাকাণ্ডে সরাসরি জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে কক্সবাজারের সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট জেরিন সুলতানার আদালতে জবানবন্দি দেন।

এদিকে গত শুক্রবার ভোরে উখিয়ার বালুখালী ১৮ নম্বর শরণার্থী শিবিরের দারুল উলুম নাদওয়াতুল উলামা আল-ইসলামিয়া মাদ্রাসায় ঢুকে গুলি করে ও কুপিয়ে ছয়জনকে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় শনিবার রাতে উখিয়া থানায় মামলা করেন নিহত আজিজুল হকের বাবা নুরুল ইসলাম। এরপর আজ নিহত ছয়জনের পরিবারকেও সরিয়ে অন্যত্র নেওয়া হলো।

মাদ্রাসায় নিহত একজনের এক স্বজন বলেন, 'আমাদের ক্যাম্প থেকে সরিয়ে একটি জায়গায় রাখা হয়েছে। ক্যাম্পের তুলনায় এখানে ভালো আছি। কিন্তু হারিয়ে যাওয়া পরিবার তো আর ফিরে পাব না। আমরা চাই এসব অপরাধীর কঠোর শাস্তি হোক। না হলে এ ধরনের ঘটনা দিন দিন বাড়বে।'

উখিয়া বালুখালী ক্যাম্প ১৮-এর নেতা মো. ইউনুছ বলেন, 'ক্যাম্পে একের পর এক হত্যাকাণ্ড হচ্ছে। এতে এখানকার বাসিন্দা সবাই খুব ভয়ভীতির মধ্য রয়েছে। অনেকে ঘর থেকে বের হওয়া বন্ধ করে দিয়েছে। আবার অনেকে রাতে অন্য জায়গায় চলে যাচ্ছেন। তাই ব্লকের নিহত ব্যক্তিদের স্বজনদের সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।'