চেক জালিয়াতির মাধ্যমে পাঁচ কোটি টাকা আত্মসাতের ঘটনা ধরা পড়ার পর থেকে বন্ধ রয়েছে যশোর শিক্ষা বোর্ডের হিসাব বিভাগ। 

বুধবার বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মোল্লা আমীর হোসেনের নির্দেশে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে অডিট বিভাগও। দুর্নীতির তথ্য ধামাচাপা দেওয়ার পাশাপাশি প্রমাণ লোপাটের জন্যই চেয়ারম্যান এ নির্দেশ দিয়েছেন বলে মনে করছেন অনেকে। এ ছাড়া শিক্ষা বোর্ডের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কাছ থেকে জোরপূর্বক কাগজে স্বাক্ষর নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে চেয়ারম্যান অনুসারীদের বিরুদ্ধে।

এদিকে, এসএসসি পরীক্ষা নিয়ে বুধবার দুপুরে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে ব্রিফিংকালে শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, যশোর শিক্ষা বোর্ডে আর্থিক কেলেঙ্কারির ঘটনায় দুদকের মামলা দায়েরের বিষয়টি মন্ত্রণালয় অবগত হয়েছে। এ বিষয়ে সরকারি বিধি অনুসারে যা হওয়ার তা হবে। ঢাকায় মন্ত্রণালয়ে এই ব্রিফিংকালে মোল্লা আমীর হোসেনও উপস্থিত ছিলেন।

সূত্র জানায়, এদিন সকাল থেকেই মোল্লা আমীর হোসেন সচিবালয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে ছিলেন। আনুষ্ঠানিক সভায় যোগদান ছাড়াও দিনভর তিনি কর্মকর্তাদের কাছে ধরনা দেন চেক জালিয়াতির মামলার বিষয়টি নিয়ে। বুধবার বিকেলে তিনি দেখা করেছেন শিক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে। পরে যান সচিবের দপ্তরেও।

মোল্লা আমীর হোসেন বোর্ডের নিরীক্ষণ বিভাগকে ফোনে নির্দেশ দেন অডিট বিভাগ বন্ধের। এই বিভাগে কর্মরতদের কাছে চেক জালিয়াতির বিষয়টি ধরা পড়ে এবং তা জনসমক্ষে আসে। শিক্ষা বোর্ড কর্মচারী ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান বাবলু ও সহ-সাধারণ সম্পাদক হুমায়ূন কবীর উজ্জ্বল অভিযোগ করেন, দুর্নীতির প্রমাণ লোপাট ও ঘটনা ধামাচাপা দিতেই চেয়ারম্যান অডিট শাখায় তালা মারার নির্দেশ দিয়েছেন। 

বোর্ডের হিসাব ও নিরীক্ষা বিভাগের উপ-পরিচালক এমদাদুল হকের দাবি, তদন্তের স্বার্থেই চেয়ারম্যানের নির্দেশে তিনি অডিট বিভাগ বন্ধ করেছেন। তবে দুই বিভাগ বন্ধের ফলে বোর্ডের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে বলে স্বীকার করেন তিনি।

দুর্নীতি দমন কমিশন যশোর সমন্বিত কার্যালয়ের (দুদক) উপ-পরিচালক মো. নাজমুচ্ছায়াদাত বলেছেন, দুদক দুর্নীতির পুরো ঘটনা তদন্ত করছে। তদন্তে জড়িত সবাই শনাক্ত হবেন। কোনোভাবেই কারও পার পাওয়ার সুযোগ নেই।

এদিকে, বোর্ডের সূত্রগুলো জানায়, চেয়ারম্যান অনুসারীরা সব কর্মকর্তা-কর্মচারীর স্বাক্ষর নিচ্ছেন। এ কারণে নানা প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে। স্বাক্ষর না করায় অপমান হতে হয়েছে বলেও অভিযোগ অনেকের। চেয়ারম্যানের অনুসারী হিসেবে পরিচিত প্রশাসনিক বিভাগের ভারপ্রাপ্ত সেকশন অফিসার রাকিব হাসানের দাবি, দুর্নীতির ঘটনার সঠিক তদন্ত ও বিচারের দাবিতে চেয়ারম্যানের কাছে আবেদন জানাতেই তারা সবার স্বাক্ষর নিচ্ছেন। কাউকে স্বাক্ষর করতে জোর করা হচ্ছে না।

বাম জোটের বিবৃতি : চেক জালিয়াতির ঘটনায় জড়িত বোর্ড চেয়ারম্যান, সচিব, হিসাবরক্ষকসহ সবার শাস্তির দাবি করে বিবৃতি দিয়েছে বাম গণতান্ত্রিক জোট যশোর শাখা। বিবৃতিতে বলা হয়, শিক্ষা বোর্ডের অভিযুক্ত চেয়ারম্যান ২০১৭ সালে বোর্ডে সচিব থাকাকালে একই প্রক্রিয়ায় টাকা আত্মসাতে যুক্ত থাকার অভিযোগ ওঠে। তখন যশোর থেকে তাকে বদলি করা হয়। সেই ব্যক্তি কী করে চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পেলেন তা তদন্ত হওয়া উচিত।