লুৎফর রহমান নামে এক ব্যক্তিকে ডিবি পুলিশ পরিচয়ে অপহরণের পর মাইক্রোবাসে তুলে চোখ-মুখ বেঁধে ফেলা হয়। মোবাইল ফোন ও নগদ টাকা কেড়ে নেওয়ার পর তাকে মারধর করে অপহরণকারীরা। অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে তাকে বলা হয়, 'তোকে মুন্সীগঞ্জ বিলের ফাঁকা জায়গায় নিয়ে এসেছি। ১০ লাখ টাকা না দিলে তোকে জানে মেরে ফেলব।'

এরপর দফায় দফায় নির্যাতন করে হাতিয়ে নেওয়া হয় মোটা অঙ্কের টাকা। অভিযোগ পাওয়ার পর এই চক্রের পাঁচ সদস্যকে নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ থেকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলো- রিপন সরদার, আহমেদুল কবির খান ওরফে কাজল, মোসলেম উদ্দিন বাপ্পী, মো. আসলাম ও রশিদ চাকলাদার। মঙ্গলবার মধ্যরাতে চিটাগাং রোড বাসস্ট্যান্ড এলাকায় এ অভিযান চালানো হয়। এ সময় তাদের কাছ থেকে দুটি ডিবি লেখা জ্যাকেট, দুটি খেলনা পিস্তল, একটি হাতকড়া, ১১টি মোবাইল ফোন, একটি প্রাইভেটকার ও নগদ ২৫ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়।

র‌্যাব-১-এর সহকারী পরিচালক এএসপি নোমান আহমদ জানান, ২৫ নভেম্বর সন্ধ্যায় লুৎফর রহমানকে ডিবি পরিচয়ে অস্ত্রের মুখে নারায়ণগঞ্জ থেকে অপহরণ করা হয়। পরে মেরে ফেলার ভয় দেখিয়ে তার কাছে প্রথমে ১০ লাখ টাকা চাওয়া হয়। ভুক্তভোগী প্রাণভিক্ষা চাইলে তাকে নিয়ে বাসার উদ্দেশ্যে রওনা হয় দুর্বৃত্তরা। ২৬ নভেম্বর রাতে তার বাসায় যায় রিপন সরদার, আহমেদুল কবির খান ও লোকমান চৌধুরী। তারা ভুক্তভোগীর মোবাইল ফোন দেখিয়ে তার সন্তানকে বলে, 'তোমার বাবাকে আমরা আটক করেছি, উনি মিন্টো রোডের ডিবি অফিসে আছে। তোমরা ৫০ হাজার টাকা দিলে ওনাকে ছেড়ে দেব।'

অপহƒত লুৎফরকে নিয়ে যাওয়া হয় মোসলেম উদ্দিন বাপ্পীর বাসায়। সেখানে তাকে মারধরসহ ˆবৈদ্যুতিক শক দিয়ে নির্যাতন করে পরিবারের কাছ থেকে পাঁচ লাখ টাকা এনে দিতে বলা হয়। তিনি এক লাখ টাকা দিতে পারবেন জানালে তাকে ছেড়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেয় অপহরণকারীরা। ভুক্তভোগীর ছেলে বিকাশ ও নগদের মাধ্যমে তাদের দাবি করা এক লাখ টাকা পাঠান। কিন্তু তাকে ছেড়ে দেওয়ার বদলে আবারও চোখ-মুখ বেঁধে নির্যাতন করা হয়। সেই ভিডিও পরিবারকে দেখিয়ে চাওয়া হয় আরও পাঁচ লাখ টাকা।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সহায়তা নিলে তাকে হত্যা করা হবে বলে হুমকি দেওয়া হয়। এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর পরিবার নারায়ণগঞ্জের রƒপগঞ্জ থানায় একটি জিডি করে। পরে তারা র‌্যাব-১-এর কাছে লিখিত অভিযোগ দেয়। এরই পরিপ্রেক্ষিতে র‌্যাব অপরাধীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় নিয়ে আসে।

র‌্যাব-১-এর আরেকটি দল ডিবি পরিচয়ে ডাকাতিতে জড়িত একটি চক্রের চার সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে। বুধবার ভোরে গাজীপুরের পূবাইল থানার মীরের বাজারের তালটিয়া বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন এলাকায় এ অভিযান চালানো হয়।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলো- আবদুল মান্নান মিয়া, জুলফিকার আলী বাবু, লুৎফর রহমান আশিক ও সাইফুল ইসলাম। তাদের কাছ থেকে দুটি খেলনা পিস্তল, পুলিশ ইউনিফর্মের চারটি শার্ট ও তিনটি প্যান্ট, চারটি ডিবি লেখা জ্যাকেট, দুটি পুলিশের কটি, একটি রেইনকোট, তিনটি ক্যাপ, একটি বেল্ট, এক জোড়া বুট, দুটি ম্যাগাজিন পাউচ, একটি হাতকড়া, একটি লাইট, একটি ওয়াকিটকি সেট, একটি বুলেটপ্রুফ জ্যাকেট, একটি সিআইডি নোটবুক, একটি হাতঘড়ি, তিনটি ম্যানিবাগ, নগদ এক হাজার টাকা ও পাঁচটি মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, চক্রের মূল হোতা আবদুল মান্নান ও তার সহযোগী জুলফিকার আলী ২০১৬ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত ইস্কাটন রোডে পুলিশ অফিসার্স মেসে ওয়েটার হিসেবে চাকরি করত। পরে তারা পুলিশ কর্মকর্তাদের কাজের পদ্ধতি দেখে নিজেরাই ডিবি সেজে ডাকাতির পরিকল্পনা করে। গত দুই বছরে তারা প্রায় ১৫টি ডাকাতি করেছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে চক্রের আরও কয়েকজনের ব্যাপারে তথ্য পাওয়া গেছে।