নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় ধলেশ্বরী নদীতে লঞ্চের ধাক্কায় ডুবে যাওয়া ট্রলারের নিখোঁজ ৮ জনের সন্ধান আজও মেলেনি। শনাক্ত করা যায়নি ডুবে যাওয়া ট্রলারটিও। এ ঘটনায় নদীতে উদ্ধারকারী কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে অবহেলার অভিযোগ তুলে নদীর পাড়ে বিক্ষোভ করেছেন নিখোঁজদের স্বজনরা। এক পর্যায়ে নদীর তীরে ও ঘাটে যাওয়ার রাস্তায় টায়ারে আগুন জ্বেলে দেয় তারা। শনিবার দুপুর ১২টার দিকে ফতুল্লার ধর্মগঞ্জ খেয়া ঘাটের সামনে নিখোঁজ থাকা যাত্রীদের বিক্ষুব্ধ স্বজনরা এ ঘটনা ঘটায়।

ট্রলারডুবিতে নিখোঁজ মাদ্রাসার ছাত্র আবদুল্লার (২২) মামা কায়সার মিয়া বলেন, ‘চার দিন হলো লঞ্চের ধাক্কায় যাত্রীসহ ট্রলারডুবির ঘটনা। এর মধ্যে ফায়ার সার্ভিস, কোস্ট গার্ড ও নৌপুলিশসহ উদ্ধারকারী কোনো সংস্থারই তেমন তৎপরতা দেখা যায়নি। ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরিরা স্পীডবোটে নিয়ে নদীতে ঘুরে বেড়ায় আর বসে বসে সময় কাটান। এভাবে পানির নিচ থেকে কিছুই উদ্ধার করা যাবে না।’

উদ্ধারের বিষয়ে নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও ট্রলারডুবির ঘটনায় সাত সদস্য তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক রিফাত ফৌরদোস শনিবার বিকেলে সমকালকে বলেন, ‘নদীর পানি নিচে তাপমাত্র ১০-১২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এ অবস্থায় লাশ ফ্রিজিং হয়ে যাওয়ার কথা। আমরা এ নিয়ে চিন্তায় আছি। অথচ নদীর পাড়ে দাঁড়িয়ে থাকা স্বজনরা নিখোঁজদের সন্ধান যে কোনো মূল্যে চায়। নদীর নিচে একটি নৌকার মতো কিছু আছে বলে জানা গেছে। কিন্তু সেটি ডুবে যাওয়া ট্রলার কিনা তা জানা যায়নি। সেটি উত্তোলন করতে সময় লাগছে। কিন্তু নিখোঁজদের লাশ কোথায় গেল তা খুঁজতে আমরা সর্বাত্মক চেষ্টা করে যাচ্ছি।

ইউএনও দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, ‘নদীর পাড়ে অপেক্ষারত স্বজনদেরকে কিছু অতি উৎসাহী লোক উত্তেজিত করছে। এটা আমাদের উদ্ধার কাজে আরও বাধা সৃষ্টি করছে। তবে আমার সফল হব। যতক্ষণ ট্রলার ও নিখোঁজদের সন্ধান পাওয়া না যাবে ততক্ষণ আমাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে।’

গত বুধবার সকালে ঘন কুয়াশার কারণে ফতুল্লার ধর্মগঞ্জ এলাকায় ধলেশ্বরী নদীতে ঢাকাগামী এম.ভি ফারহান-৬ লঞ্চের ধাক্কায় ৪০ জন যাত্রীসহ ট্রলারটি ডুবে যায়। এ সময় ৮ জন ট্রলারের যাত্রী নিখোঁজ হয়। তারা হলেন, বক্তাবলী এলাকার কলেজ শিক্ষার্থী সাব্বির হোসেন (১৮), নেয়ামতপুর এলাকার আব্দুল্লাহ (২২), চর মধ্য নগরের জিয়াসমিন আক্তার (৩৫) ও তার মেয়ে তাসমিন আক্তার (১৫), ছেলে তামিম (৮) এবং আরেক মেয়ে তাসফিয়া (২), উত্তর গোপাল নগর এলাকার মোতালেব মিয়া (৫৫) ও একই এলাকার মসজিদের মোয়াজ্জিন আব্দুল্লাহ (৩৮) ও শামসুদ্দিন (৬৫)। এ ঘটনায় ফতুল্লা থানায় দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগ এনে বিআডব্লিউ কর্তৃপক্ষ একটি মামলা করে। পুলিশ লঞ্চের তিন কর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে।