চট্টগ্রামে নারীকে ধর্ষণের পর হত্যার দায়ে এক ব্যক্তিকে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত। বৃহস্পতিবার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৪ চট্টগ্রামের বিচারক মো. জামিউল হায়দার এই রায় দেন। একই সঙ্গে অন্য দুই আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় তাদেরকে খালাস দেওয়া হয়েছে।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি হলেন-সীতাকুণ্ড উপজেলার কুমিরা এলাকার মৃত ইদ্রিস মিয়ার ছেলে জসীম উদ্দিন বাপ্পী। খালাসপ্রাপ্তরা হলেন-একই এলাকার বাসিন্দা আইয়ূব খান ও শরীফ আহম্মদ। এদের মধ্যে আইয়ূব খান ঘটনার পর থেকেই পলাতক রয়েছেন।

ট্রাইব্যুনালের পিপি নিখিল কুমার নাথ জানান, ২০১৭ সালের ২৯ মার্চ সীতাকুণ্ড উপজেলার কুমিরা এলাকায় রান্নার জন্য বাসার পাশের পাহাড়ে কাঠ কাটতে যান গৃহবধূ শারমিন আক্তার। তারপর তিনি আর বাসায় ফিরে আসেননি। পরদিন তার ক্ষতবিক্ষত লাশ পাওয়া যায়। সুরতহাল ও ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে উঠে আসে, শারমিনকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনায় শারমিনের মেয়ে ইয়াসমিন বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেন। তদন্ত শেষে পুলিশ পাঁচ আসামির বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেয়। পাঁচ আসামির মধ্যে চারজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।  এর মধ্যে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন জসীম উদ্দিন। ২০১৯ সালের ৪ আগস্ট আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন আদালত।  ১৯ জন স্বাক্ষীর মধ্যে ১৭ জনের স্বাক্ষ্য শেষে আদালত এ রায় দেন।

আদালত সূত্র জানায়, মামলার পাঁচ আসামির মধ্যে দুইজন সরওয়ার আলম সেরু ও আবদুল মোতালেব লিটন কারাগারে থাকা অবস্থায় মারা গেছেন। তাদের মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় খালাস পেয়েছেন আইয়ুব খান ও শরীফ আহম্মদ। রায় ঘোষণার সময় জসীম ও শরীফকে আদালতে হাজির করা হয়েছিল। এসময় নির্বিকার ছিলেন মৃত্যুদণ্ডাদেশ প্রাপ্ত আসামি জসীম। এ কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন খালাসপ্রাপ্ত শরীফ আহম্মদ।

রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে বাদী পক্ষের আইনজীবী বিবেকানন্দ চৌধুরী বলেন, ‘এ রায়ে আমরা মোটেই খুশি নয়। খালাসপ্রাপ্ত দু’জন আসামি ঘটনার সঙ্গে জড়িত। তারাও ভিকটিমকে ধর্ষণের পর খুনের পরিকল্পনকারী। পাঁচজন মিলে সংঘবদ্ধভাবেই এ অপরাধ ঘটিয়েছিল। আমরা এ রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করব।’