পুরান ঢাকার সূত্রাপুরের মো. সহিদ ফেসবুকে মোবাইল ফোন বিক্রির একটি বিজ্ঞাপন দেখে আকৃষ্ট হন। দর-দাম করে তা কেনার পর সেটি তার ঠিকানায় কুরিয়ার করা হয়েছে জানিয়ে কুরিয়ার সার্ভিস প্রতিষ্ঠানের বুকিং রশিদ পাঠানো হয় হোয়াটস্‌অ্যাপে। এরপর নিয়ম অনুযায়ী ক্রেতাকে তিনি টাকাও পাঠান। সেই বুকিং রশিদ নিয়ে কুরিয়ার সার্ভিসে যাওয়ার পর বুঝতে পারেন, প্রতারকের খপ্পরে পড়েছিলেন তিনি।

শুধু সহিদই নন, অনলাইনে বাহারী বিজ্ঞাপন থেকে সহিদের মতো মোবাইল ফোন সেট কিনতে গিয়ে প্রতারণার শিকার হয়েছেন শত শত মানুষ। শেষ পর্যন্ত ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম বিভাগ তদন্তে নেই সেই প্রতারণার হোতা আসাদুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করলে বেরিয়ে আসে নেপথ্য কাহিনী। শুক্রবার রাজধানীর যাত্রাবাড়ি এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি পেশায় মাদ্রাসা শিক্ষক বলে জানা গেছে।

ওই অভিযানে নেতৃত্ব দেওয়া গোয়েন্দা-সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম বিভাগের অর্গানাইজড ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন টিমের প্রধান এডিসি মো. নাজমুল হক সমকালকে বলেন, আসাদুল প্রথমে অন্যের নামে নিবন্ধন করা সিমকার্ড সংগ্রহ করেন। পরে ওই সিমের নম্বর ব্যবহার করে বিক্রয় ডটকমসহ এই ধরনের বিভিন্ন অনলাইন বিক্রয়ের প্লাটফর্ম ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভুয়া অ্যাকাউন্ট খুলে মোবাইল বিক্রির বিজ্ঞাপন দেয়। ক্রেতারা বিজ্ঞাপন দেখে তা কেনার আগ্রহ দেখালে অগ্রিম কিছু টাকা নিয়ে নেয় আসাদুল। পরে কুরিয়ার সার্ভিসের ভুয়া বুকিং রশিদ বানিয়ে তা ক্রেতার দেওয়া মোবাইল নম্বরের হোয়াটসঅ্যাপে পাঠায়। ক্রেতাও সেই রশিদ দেখে পুরো টাকা পাঠানোর পর প্রতারক আসাদুল নিজের মোবাইল ফোন বন্ধ করে দেয়।

সাইবার পুলিশের এই কর্মকর্তা বলেন, প্রতারক আসাদুলকে বিস্তারিত জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পাঁচদিনের রিমান্ড আবেদন করে আদালতে পাঠানো হয়েছে। রিমান্ড পাওয়া গেলে এ পর্যন্ত কতো লোকের কাছ থেকে এভাবে টাকা হাতিয়েছে তা জানা যাবে।

অনলাইনের ক্রেতাদের নানা পরামর্শ দিয়ে এই কর্মকর্তা বলেন, ক্যাশ অন ডেলিভারির মাধ্যমে পণ্য গ্রহণ করলে এই ধরনের প্রতারণা এড়ানো অনেকটাই সম্ভব। তা ছাড়া নানা বিজ্ঞাপনে অবাস্তব দরদাম এড়িয়ে চলা এবং দ্রুত অর্থ পরিশোধের শর্তগুলোও এড়িয়ে চলা উচিত।