ঢাকার সাভারে বখাটেদের আড্ডায় বাধা দেওয়ায় ফটোগ্রাফার কৃষ্ণ সরকার খুনের ঘটনায় প্রধান অভিযুক্ত নয়ন মণি ওরফে বাউল নয়নকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। মঙ্গলবার গাজীপুরের টঙ্গীর সাতাইশ এলাকায় এ অভিযান চালায় সিআইডির এলআইসি শাখার একটি দল।

এ ব্যাপারে জানাতে বুধবার রাজধানীর মালিবাগের সিআইডি কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার মুক্তা ধর বলেন, গত ৩০ মে সাভারের আড়াপাড়া এলাকার জমিদারবাড়ীর পুকুরপাড়ে খুন হন কৃষ্ণ সরকার। আলোচিত ঘটনাটির ছায়াতদন্ত শুরু করে সিআইডি। বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত বিশ্নেষণ করে ঘটনার সঙ্গে নয়ন মণি ওরফে বাউল নয়নের সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যায়। পরে এলআইসির একটি দল তাকে গ্রেপ্তার করে।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, নয়নের বাড়ি কুষ্টিয়া। তার শ্বশুরবাড়ি সাভারের আড়াপাড়া। সে মাদক সেবন ও আড্ডা দেওয়ার সুবিধার্থে বেশিরভাগ সময় শ্বশুরবাড়িতেই থাকত।

সর্বশেষ গত ২৩ মে স্ত্রীসহ সাভারে বেড়াতে আসে নয়ন। সন্ধ্যার পর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত বখাটে বন্ধুদের নিয়ে জমিদারবাড়ী পুকুরপাড়ে নেশাজাতীয় দ্রব্য সেবন করে উচ্চস্বরে অশালীন গান বাজনা করত সে। এতে নারী ও শিশুসহ অন্যান্য পথচারীরা বিরক্ত হতেন। একপর্যায়ে ঢাকার মগবাজারের 'ওয়েডিং প্যারাডাইস' নামে একটি স্টুডিওর ফটোগ্রাফার কৃষ্ণ এসবের প্রতিবাদ করেন।

ঘটনার দিন রাত সাড়ে ১০টার দিকে তিনি কর্মস্থল থেকে বাসায় ফেরার সময় ওই বখাটেদের আড্ডা দিতে দেখেন। তিনি তাদেরকে ওই স্থান ত্যাগ করার অনুরোধ জানান। কিন্তু তারা অনুরোধ উপেক্ষা করে উল্টো কৃষ্ণর ওপর হামলা চালায়। এরমধ্যে নয়ন সুইচ গিয়ার চাকু দিয়ে তাকে উপর্যুপরি বুকে ও পেটে আঘাত করে।

চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন তাকে উদ্ধার করে সাভার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে। শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে সাভারের এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউতে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৩১ মে রাতে তার মৃত্যু হয়।

এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর ভাই গোবিন্দ সরকার বাদী হয়ে নয়নকে প্রধান আসামি করে চারজনের নাম উল্লেখ এবং অজ্ঞাতনামা আরও দুই-তিন জনের বিরুদ্ধে সাভার থানায় মামলা করেন।