বন্ধুর সঙ্গে দেখা করতে কক্সবাজারে গিয়ে ধর্ষণের শিকার হওয়ার পর স্কুলছাত্রীর আত্মহত্যার ঘটনায় অভিযুক্ত দু'জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।

মঙ্গলবার ঢাকা ও আশেপাশের এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করেছে সিআইডির এলআইসি শাখার একটি দল। গ্রেপ্তারকৃতরা হলো মো. রুবেল (১৯) ও জিসানুল ইসলাম (২০)।

এ ব্যাপারে বিস্তারিত জানাতে বুধবার রাজধানীর মালিবাগে সিআইডি কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার মুক্তা ধর বলেন, দশম শ্রেণি পড়ূয়া ওই স্কুলছাত্রীর (১৫) বন্ধু জিসানুল ইসলাম চট্টগ্রামের বায়েজিদ বোস্তামি এলাকায় একটি মিষ্টির কারখানায় কাজ করতেন। এক বছর আগে ফেসবুকে তাদের পরিচয় হয় এবং বন্ধুত্ব গড়ে ওঠে। পরে তিনি কক্সবাজারে চাকরি পাওয়ায় সেখানে চলে যান। তবে মোবাইল ফোনে তাদের নিয়মিত যোগাযোগ ছিল।

একপর্যায়ে তার আমন্ত্রণে ওই স্কুলছাত্রী এক বান্ধবীকে সঙ্গে নিয়ে ৩১ মে কক্সবাজার যায়। সেখানে যাওয়ার পর জিসানুল জানান, তিনি ব্যস্ত আছেন, দেখা করতে পারবেন না। তাদেরকে চট্টগ্রাম ফিরে যাওয়ার জন্য বলেন তিনি। তখন মানসিকভাবে বিপর্যস্ত মেয়েটি চট্টগ্রাম ফেরার উদ্দেশে একটি টমটম নিয়ে বাসস্ট্যান্ড যায়।

টমটম চালক রুবেল ভিকটিমের কাছে থেকে পুরো ঘটনা শুনে জিসান তার পূর্ব পরিচিত বলে জানায় এবং তাকে জিসানের সঙ্গে দেখা করিয়ে দেবে বলে আশ্বস্ত করে। চালক রুবেলের কথা ভিকটিমও বিশ্বাস করে। রুবেল ভিকটিমের বান্ধবীকে চট্টগ্রামগামী একটি বাসে তুলে দেয়। পরে রাতে জিসানকে খুঁজে বের করার অভিনয় করে একটি হোটেলে নিয়ে ওই কিশোরীকে ধর্ষণ করে পালিয়ে যায় রুবেল

এর পরদিন (১ জুন) কিশোরী নিরুপায় হয়ে চট্টগ্রামের বায়েজিদ বোস্তামি এলাকার বাসায় ফিরে আসে। মানসিকভাবে বিপর্যস্ত ওই কিশোরী দুঃখ, ক্ষোভ ও অভিমানে ৩ জুন ভোরে বাসায় ফ্যানের সঙ্গে ওড়না পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করে।

সিআইডি জানায়, এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর বোন বাদী হয়ে জিসানুল ও রুবেলের বিরুদ্ধে বায়েজিদ বোস্তামি থানায় মামলা করেন। সিআইডি ছায়াতদন্ত করে দ্রুত এ ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় নিয়ে আসে।