রাজধানী ঢাকাসহ কয়েকটি বিভাগীয় শহরে চিকিৎসা ভাতা, যোগাযোগ সুবিধাসহ আকর্ষণীয় বেতনে চাকরি এবং পরে ব্যবসায়িক অংশীদার করার প্রলোভন দেন তাঁরা। এ বিষয়ে বিজ্ঞাপন দেন বিভিন্ন অনলাইন ও সংবাদপত্রে। ব্যাংক ও সরকারি প্রতিষ্ঠানের সদ্য অবসরপ্রাপ্ত নারী-পুরুষ আবেদনযোগ্য বলে উল্লেখ করা হয় বিজ্ঞাপনে।

চাকরিপ্রার্থীদের আকৃষ্ট করতে বিভাগীয় শহরের বিভিন্ন বাণিজ্যিক এলাকায় বহুতল ভবনে স্বল্প সময়ের জন্য সুসজ্জিত অফিসও ভাড়া নেন তাঁরা। তাঁদের বিজ্ঞাপনে আকৃষ্ট হয়ে চাকরি ও ব্যবসায়িক অংশীদার হওয়ার আশায় এলে তাঁদের কাছ থেকে কৌশলে হাতিয়ে নেওয়া হয় টাকা। এই চক্রের তিন সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ-সিআইডি।

বৃহস্পতিবার মালিবাগে সিআইডির প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানানো হয়।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন- বরগুনার রানীপুরের জহিরুল ইসলাম বিপু, ফরিদপুরের মিয়াপাড়ার গোলাম মাওলা ও চাঁদপুরের কলাদী গ্রামের এবায়েদ উল্লাহ। গত বুধবার রাতে যাত্রাবাড়ী থেকে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার মুক্তা ধর বলেন, প্রতারক চক্রটি ফাঁদ হিসেবে নিজেদের প্রতি মানুষের বিশ্বাস আনার জন্য কয়েকজনকে বেশি বেতনে শর্তসাপেক্ষে নিয়োগ দেয়। কিছুদিন পার হলে তাঁদের ওই প্রতিষ্ঠানের অংশীদার করার প্রলোভনে মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নিয়ে ভাড়া অফিসে তালা ঝুলিয়ে লাপাত্তা হয়ে যায়। গ্রেপ্তার তিনজন প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছেন, প্রথমে তাঁরা 'পদ্মা ট্রেডিং করপোরেশন' নামে প্রতিষ্ঠান খুলে প্রতারণা শুরু করেন। এই প্রতিষ্ঠানের নাম ব্যবহার করে প্রতারণার পর নাম ও অফিসের স্থান পরিবর্তন করে 'এনটিসি' নামে আরেকটি প্রতিষ্ঠান খুলে প্রতারণায় নামেন তাঁরা। দেশের বিভিন্ন শহরে তাঁদের প্রতারণার নেটওয়ার্ক রয়েছে। ভুক্তভোগীদের একজন অগ্রণী ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত এজিএম যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা ইদ্রিস আলী মিয়া গত ২৫ মে পল্টন থানায় চক্রের সদস্যদের বিরুদ্ধে মামলা করেন। তাঁর কাছ থেকে ৭২ লাখ টাকা আত্মসাৎ করেছে চক্রটি।