সাবেক স্ত্রীকে বিয়ে করায় জামিনে বেরিয়ে বন্ধুকে খুন করেছেন ১৩ মামলার এক আসামি। পরে অভিযান চালিয়ে তাকে করেছে সিআইডি।

মঙ্গলবার দুপুরে সিআইডির প্রধান কার্যালয়ে এ বিষয়ে সংবাদ সম্মেলন করে বিস্তারিত জানান এলআইসি শাখার বিশেষ পুলিশ সুপার (এসএসপি) মুক্তা ধর।

তিনি জানান, গত ১ জুন দুপুর ১২টার দিকে সান্তাহার রেলওয়ে থানার নাটোর রেলওয়ে স্টেশনের ৩ নম্বর প্লাটফর্মের ওভার ব্রিজের ওপর রাকিব হোসেনকে (২৫) তার বন্ধু রাসেল হোসেন (৩১) ছুরিকাঘাত করে। চিকিৎসার জন্য নাটোর সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। জেল হাজতে থাকা বন্ধুর সাবেক স্ত্রীকে বিয়ে করায় জামিনে মুক্ত হয়ে সাবেক স্ত্রীর বর্তমান স্বামীকে ছুরিকাঘাতে হত্যার ঘটনাটি বেশ চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করে।

এ ঘটনার পর সিআইডি ছায়া তদন্ত শুরু করে। সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার মুক্তা ধর পিপিএম (বার)-এর তত্ত্বাবধানে ঘটনাস্থল ও বিভিন্ন উৎস থেকে প্রয়োজনীয় তথ্য সরেজমিনে সংগ্রহ করা হয়। পরবর্তীতে সংগৃহীত বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে ঘটনার সঙ্গে রাসেল হোসেন-এর সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যায়। এলআইসির একটি চৌকস টিম অভিযান পরিচালনা করে আসামি রাসেল হোসেন ওরফে কাটা রাসেলকে রাজধানীর মিরপুর মডেল থানা এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করে।

গ্রেপ্তার আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, সে একজন উচ্ছৃঙ্খল যুবক। প্রায় ৭ বছর পূর্বে নিজেদের পছন্দে চক বৌদ্ধনাথপুর এলাকার লাবণ্য সিদ্দিকা সাথী (২৬)-এর সঙ্গে তার বিয়ে হয়। তাদের সংসারে রেদোয়ান আহমেদ রোজ (৫) নামের একটি সন্তান রয়েছে। চলতি বছরের ২৩ মার্চ দস্যুতার ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়ে জেলহাজতে ছিলেন রাসেল। জেল হাজতে থাকাবস্থায় সাথী তার স্বামী রাসেলকে ডিভোর্স দিয়ে রাকিবকে বিয়ে করে নতুন দাম্পত্য জীবন শুরু করেন। 

রাসেল এ সংবাদ পেয়ে ‘পরম বন্ধু থেকে চরম শত্রুতে’ পরিণত হওয়া রাকিবের প্রতি প্রতিশোধ নেওয়ার জন্য ছক কষতে থাকে। গত ৩১ মে সে জামিনে মুক্তিলাভ করে এলাকায় এসে খুঁজতে থাকে রাকিবকে। ১ জুন ১২টার দিকে কৌশলে রাকিবকে ডেকে নিয়ে আসে নাটোর রেলওয়ে প্লাটফর্মের ৩ নম্বর ওভার ব্রিজের ওপর। সেখানে রাকিব তার স্ত্রীর সাবেক স্বামী এবং তার সাবেক বন্ধু রাসেল হোসেন ওরফে কাটা রাসেলকে দেখা মাত্রই দৌঁড়ে পালানোর চেষ্টাকালে তার সঙ্গীয় লোকদের সহায়তায় হত্যার উদ্দেশে তার পিঠে ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে ধারালো ছুরি দিয়ে উপর্যুপরি আঘাত করে দ্রুত পালিয়ে যায় রাসেল। গুরুতর আহত অবস্থায় উপস্থিত লোকজন তাকে নাটোর সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করে।

এ হত্যার ঘটনার বিষয়ে ভিকটিম রাকিব হোসেন -এর বড় ভাই মো. শাকিল হোসেন (২৭) মো. রাসেল ওরফে কাটা রাসেলকে প্রধান আসামি করে অভিযোগের প্রেক্ষিতে পাকশি রেলওয়ে জেলার সান্তাহার রেলওয়ে থানায় মামলা রুজু হয়। 

নতুন মামলা সহ আসামি মো. রাসেল ওরফে কাটা রাসেল এর বিরুদ্ধে খুন, অস্ত্র আইন, দস্যুতা, চাঁদাবাজি, চুরি, নারী নির্যাতন ও অন্যান্য ধারার আইনে মোট ১৪টি মামলা রয়েছে। এগুলোর মধ্যে ২টি মামলা তদন্তাধীন ও অবশিষ্ট ১২টি মামলা বর্তমানে বিজ্ঞ আদালতে বিচারাধীন রয়েছে।